Menu

আলসারে আক্রান্ত জন্মান্ধ লক্ষ্মীর পরিবার সহযোগীতা কামনা করেছে

শাফায়াত সজল,বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীর বয়স ৪ পেড়িয়ে সবে ৫ এ পড়েছে। হিন্দুধর্মে এক দেবীর নাম লক্ষ্মী। যিনি মূলত ধন রত্বের দেবী বলে পরিচিত। কিন্তু শিশুটির ভাগ্য তার সাথে করেছে নির্মম পরিহাস। যেসময় আর দশজন ছেলেমেয়ের মত হেসে খেলে কাটানোর সময় তখন সে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে। জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের মুন্সিপাড়া এলাকার একটি ঝুপড়ি ভাড়া বাড়িতে লক্ষ্মীদের বাস। মা বাবার আদরের একমাত্র সন্তান লক্ষী জন্ম থেকেই অন্ধ। বাবা চন্দন সাহা ও মা জয়ন্তী রানীর স›তান জন্মান্ধ মেয়েটি এখন আলসারে আক্রান্ত হয়ে বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালের ৩য় তলায় শিশু বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে। লক্ষ্মীর বাবা পেশায় একজন দিনমজুর। পূর্বে তাদের বাসা পাঁচবিবি পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের দমদমা এলাকায় হলেও অভাব অনটনের কারণে তাদের একমাত্র সম্বল বাড়িটিও বিক্রি করে দেয়। তারপর চন্দন তার মা,বাবা, স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে নিয়ে ভূমিহীন অবস্থায় রেলের জায়গায় ঝুপরি ঘর তুলে থাকা শুরু করে। এর কিছুদিন পরেই চন্দন তার স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে নিয়ে চলে আসে ৮নং ওয়ার্ডের মুন্সিপাড়ায়। জন্মান্ধ মেয়েটির চোখের দৃষ্টি ফেরাতে হতদরিদ্র এই বাবা মা কম চেষ্টা করেনি। তারা বিভিন্ন সরকারী হাসপাতাল ও চক্ষুশিবিরে দেখিয়েছে চোখ। বিজ্ঞ সকল ডাক্তারদের কথা ছিলো প্রায় একই, “চিকিৎসাটি ব্যায় বহুল”।
ভূমিহীন হতদরিদ্র এই পরিবারের কি আর সেই সাধ্য আছে?? তাই আশা ছেড়ে দিয়ে চলছিলো তাদের সংসার কিন্তু আবারো দেখা দেয় লক্ষ্মীর শারিরীক সমস্যা। শিশুটি একবারে হঠ্যাৎ করেই খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দেয়। অভাবে জর্জরিত বাবা গত ১৩ই আগষ্ট মঙ্গলবার মেয়েটিকে নিয়ে যায় স্থানীয় পাঁচবিবি উপজেলা হাসপাতালে। সেখান থেকে তারা ১৫ই আগষ্ট লক্ষ্মীকে পাঠিয়ে দেয় জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে। সেখানকার ডাক্তারগণ রোগ নির্নয় না করতে পেরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৭ই আগষ্ট রির্ফাড করেন বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালে। ততক্ষণে শিশুটির বাবার পকেট শূন্য। আর্থিক সমস্যার কারণে লক্ষীকে ফিরে যেতে হয় তার বাড়িতেই। যখন চন্দন ও তার পরিবারে হতাশার ছাপ তখন বিষয়টি শুনতে পেরে এগিয়ে আছে স্বেচ্ছাসেবী সৌরভ দাস সহ স্থানীয় কিছু যুবক। তারা সকলে এক হয়ে সাহয্যের জন্য হাত বাড়ায়। আবারো সম্ভাবনা শুরু হয় লক্ষ্মীর সুচিকিৎসার। গত ১৯ আগষ্ট শিশুটিকে নিয়ে আসা হয় বগুড়ায়, ভর্তি করা হয় শজিমেক এ।

পরে ডাক্তাররা পরীক্ষা করে জানতে পারে লক্ষীর আলসার হয়েছে। কাঠমিস্ত্রী বাবার পক্ষে মেয়ের এই চিকিৎসার ব্যায়ভার বহন করা অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তাই তার বাবা সমাজের সকল বিবেকবান ও পরোপকারী ব্যাক্তিদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। আরো বিস্তারিত জানতে ০১৮৫৫ ৮৭৬৫৩০ (চন্দন) ও ০১৯১৮ ৭০০৬১৩ (শয়ন) এই নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের অল্পকিছু সাহায্যে সুস্থ হতে পারে হতভাগা লক্ষ্মী। হাসিমূখে ফিরে যেতে পারে তার মা বাবার কোলে। এই সুখ হবে আত্মতৃপ্তির, এ আনন্দ হবে সবার।

No comments

Leave a Reply

20 − 2 =

সর্বশেষ সংবাদ