Menu

এখনো মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি গাবতলির আশরাফ আলী

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (লতিফুল ইসলাম, সোনাতলা): স্বাধীনতা যুদ্ধের দীর্ঘ ৪৯ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি সম্মুখ সমরে অংশ নেয়া গাবতলীর আশরাফ আলী সরকার। মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি না পেয়ে অনেকটা বুকভরা হতাশা নিয়ে ২০১২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পরপারে পাড়ি দিয়েছেন প্রয়াত আশরাফ আলী।

গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা ইউনিয়নের একটি পরিচিত নাম আশরাফ আলী। দুর্গাহাটা ইউনিয়নের বটিয়াডাঙ্গা গ্রামে তার জন্ম। কটন মিলের শ্রমিক আশরাফ আলী মুক্তিযুদ্ধের সময় গাবতলী উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী সারিয়াকান্দি উপজেলায় প্রত্যক্ষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

অসংখ্য রাজাকার ও পাকিস্তানী সেনাকে জবাই করার কারণে ওই অঞ্চলের অনেকের কাছেই তিনি মুন্সি আশরাফ বা কসাই আশরাফ নামে পরিচিত ছিলেন। ওই এলাকার সাধারণ মানুষ তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই চেনে।

মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বর্ণনা করেছেন, আশরাফের হাতে নিহত অসংখ্য রাজাকারকে গাবতলীর দুর্গাহাটা ইউনিয়নের বটিয়াডাঙ্গা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুখদহ নদীতে নিক্ষেপ করা হয়। রাজাকারদের জন্য গাবতলি ও সারিয়াকান্দি এলাকায় তিনি ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক।

বগুড়া কটনমিলে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন আশরাফ আলী। মিলটি বন্ধ হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন বেকারত্বের কষ্ট নিয়ে স্ত্রী, ১ মেয়ে ও ২ ছেলেকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেছেন আশরাফ আলী। শেষে অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
বর্তমানে তার স্ত্রী ও সন্তানেরাও মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বগুড়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক মু্িক্তযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন বাবলুর সাথে গাবতলির এই মুক্তিযোদ্ধার মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম না থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘বিগত সময়ে নানাবিধ কারণে প্রকৃত অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। পুনরায় যাচাই-বাছাই চলছে। আশাকরি প্রকৃত সকল মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।’

No comments

Leave a Reply

two + 2 =

সর্বশেষ সংবাদ