Menu

কাহালুতে আজাদ গ্রুপের ৩টি শিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (মুনসুর রহমান তানসেন, কাহালু থেকে): কাহালু উপজেলায় গড়ে উঠা আজাদ গ্র“পের তিনটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে এখন প্রায় আড়াই হাজারের মতো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আজাদ পেপার মিলের ম্যানেজার মোস্তাক আহম্মেদ এই তথ্য দিয়ে বলেছেন আজাদ গ্র“পের তিনটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মেশিন চালানোর জন্য ভারত ও চায়নার প্রকৌশলীর পাশাপাশি এখন দেশীয় প্রকৌশলীরাও রয়েছেন। তথ্যমতে ভারত ও চায়না থেকে আনা মেশিন গুলো চালানোর কোনোই দক্ষতা ছিলোনা দেশীয় প্রকৌশলীদের। আজাদ গ্র“পের তিনটি শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকেই ভারত ও চায়নার প্রকৌশলীদের কাজ থেকে মেশিন চালানোর দক্ষতা অর্জন করেন দেশীয় বেশ কয়েকজন প্রকৌশলী। তারা দক্ষতা অর্জন করে আজাদ গ্র“পের শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে সুনামের সাথে চাকুরী করছেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ছেলিম উদ্দিনসহ স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, বগুড়ার তরুণ শিল্পপতি আবুল কালাম আজাদ একজন সফল ও বদ্ধিমান মানুষ। তার কর্ম দক্ষতা, সততা ও বুদ্ধিমতায় ধীরে ধীরে গড়ে উঠে তিনটি বড় ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান। তাদের মতে জীবনে অনেক মানুষ দেখেছি কিন্ত আবুল কালাম আজদের মতো ভালো মানুষ খুব কমই দেখেছি। বিভিন্ন মিলা-কারখানায় বেতন নিয়ে মালিক পক্ষ আর শ্রমিক পক্ষের দ্বন্দ লেগেই থাকে। আজাদ গ্র“পের তিনটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কোনোদিন শোনা যায়নি বেতন-ভাতা নিয়ে শ্রমিকদের অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ অনেকের মতে আজাদ গ্র“পের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে হাজার হাজার টাকা ব্যায় করা হয় জাতীয় দিবসে, সাংস্কৃতি সামাজিক কর্মকান্ডে। এছাড়াও খেলাধুলা, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, এতিমখানাসহ গরীব-দুঃখী মানুষের জন্যেও অনেক টাকা ব্যায় করা হয়। তথ্যমতে ভালো কাজের জন্য আজাদ গ্র“পের প্রতিষ্ঠান থেকে খালি হাতে কেউ কোনোদিন ফিরে আসেনি। তাদের মতে আজাদ গ্র“পের বড় তিনটি শিল্প প্রতিষ্ঠান হওয়ার পর এই অঞ্চলে আর বেকার মানুষ নেই বললেই চলে। আজাদ গ্র“পের তিনটি প্রতিষ্ঠানে আশে-পাশের গ্রামের হাজারো নারী-পুরুষ চাকুরী পেয়ে এখন তারা সচ্ছলভাবে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে। এদিকে আজাদ পেপার মিলের মিস্ত্রি সাইদুর রহমান, আবু সাইদসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক জানান, মিল কতৃপক্ষ সকল কর্মচারীকে নিজের পরিবারের সদস্যদের মতই ভালোবাসেন। যারফলে একটি কারখানা থেকে আমাদের মালিকের এখন তিনটি কারখানা হয়েছে। অপরদিকে সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, আজাদ গ্র“পের তিনটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কাহালুর যোগারপাড়ায় আজাদ পেপার মিল। ২০০৭ সালে ছোট আকারে এই মিলটি চালু করা হয়। মালিক-শ্রমিকের আন্তরিকতা, সম্প্রীতি ও ভালোবাসায় এই পেপার মিলটি এখন অনেক বড় প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। মিল কতৃপক্ষের হিসাব মতে এখানে প্রতিদিন উৎপাদন করা হয় ৩০ টনের মতো নিউজ পেপার ও মিডিয়া পেপার। এখানে উৎপাদিত পেপার রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। সরোজমিনে দেখা গেছে এই মিলে সিকিউরিটি গার্ড থেকে শুরু করে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে নারী-পুরুষ প্রায় সমান সমান। অপরদিকে আজাদ গ্র“পের আরেকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান এ, বি, সি টাইলস উপজেলার ডেপুইলে অবস্থিত। এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি চালু করা হয় ২০১৬ সালে। এখানেও পুরুষের পাশাপাশি রয়েছে নারী শ্রমিক ও কর্মচারী । এছাড়াও বিদেশী প্রকৌশলীর পাশাপাশি রয়েছে দেশী প্রকৌশলী। এখানে তৈরী করা হয় উন্নতমানের টাইলস। এখানে উৎপাদিত টাইলস সরবরাহ করা হয় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। এই শিল্প প্রতিষ্ঠানের নিকটেই গড়ে তোলা হয় এ,বি গ্লাস ফাক্টরী নামের আজাদ গ্র“পের আরেকটি বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান। এখানে তৈরী করা হয় বিভিন্ন প্রকারের গ্লাস বা কাঁচ।

No comments

Leave a Reply

seven − 3 =

সর্বশেষ সংবাদ