Menu

কাহালুতে আ’লীগের দু’গ্রুপের ক্রন্দলঃ ইউনিয়ন বর্ধিত সভা ভুন্ডল

কাহালু (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ গতকাল শুক্রবার বিকেলে কাহালু উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভা দু-পক্ষের হট্টগোলে ভুন্ডল হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দু-পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন। বিষয়টি নিয়ে দু-পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করেছেন। এক পক্ষ বলছেন বর্ধিত কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ি বর্ধিত সভা আহবান করা হয়েছে। অপর পক্ষ বলছেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভার কোন চিঠি না করে এবং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সকল সদস্যকে ও সকল ওয়ার্ডের সভাপতি সাধারণ সম্পাদককে না জানিয়ে গোপন বর্ধিত সভা করার প্রস্ততি নিলে প্রতিবাদ করা হয়েছে। কাহালু সদর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি শামছুদ্দোহা খান রাবু জানান, গোপনে বর্ধিত সভা করার খবর পেয়ে আমি আওয়ামীলীগ অফিস গেলে আমাকে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এনামুল হক মিঠু বলে তোমাকে এখানে ডাকা হয়নি। এসময় রাবু বলেন ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি হিসেবে আমি এই বর্ধিত সভার সদস্য। এসময় মিঠু ক্ষিপ্ত হয়ে বলে তোমার কমিটি বাতিল করা হয়েছে। প্রত্যেক্ষদর্শীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও রেজুলেশন খাতা নিয়ে টানাটানি হলে সেখানে মূলত উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি/সম্পাদকের গ্রæপের মধ্যে আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের ভিতরে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এনামুল হক মিঠু জানান, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ি প্রত্যেক ইউনিয়নের ন্যায় এখানে বর্ধিত সভা আহবান করা হয়। তারমতে এমনিতেই প্রাথমিক আলোচনার জন্য এই বর্ধিত সভা আহবান করা হলেও পরবর্তীতে সবাইকে নিয়ে বড় করে বর্ধিত সভা করার ইচ্ছে ছিলো। ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র আলহাজ্ব মোঃ হেলাল উদ্দিন কবিরাজ জানান, আমি অনেক পরে পার্টি অফিসে এসেছি। আসার পরে যেটুকু দেখেছি তাতে মনে হয়েছে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি পিএম বেলাল হোসেন তাদের লোকজন গায়ে পড়ে হামলা করে হট্টগোল সৃষ্টি করে। তারা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এনামুল হক মিঠুর কলার ধরে টানা-হেঁচরা করেছে। উপজেলা স্বেচ্ছা সেবকলীগের সভাপতি ও শ্রমিকলীগের নেতৃবৃন্দকে মারপিট করেছে। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান জানান, সকল ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন কমিটির সকল নেতৃবৃন্দকে না জানিয়ে গোপনে বর্ধিত সভার প্রস্ততি নিয়ে যাদেরকে জানানো হয়নি তারা সভায় গিয়ে বিষয়টি তুলে ধরলে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মিঠু উত্তরে বলে তোমাদেরকে বাদ দিয়ে নতুন করে কমিটি করা হয়েছে। সম্মেলন ছাড়া কিভাবে কমিটি হয় এসব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। সেখানে কোন হামলা বা মারপিটের ঘটনা ঘটেনি। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান পিএম বেলাল হোসেন জানান, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। কাহালু থানার এস আই শাহিন আবু শাহিন কাদির জানান, হামলা বা মারপিটের কোন ঘটনা আমরা দেখিনি। বর্ধিত সভা করা নিয়ে সামান্য উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রন করা হয়েছে।

No comments

Leave a Reply

2 × five =

সর্বশেষ সংবাদ