Menu

কাহালুতে কাঠমিস্ত্রি আলমকে হত্যা ঘটনার রহস্য উদঘাটনঃ প্রধান আসামী গ্রেফতার

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (মুনসুর রহমান তানসেন, কাহালু বগুড়া): নিরীহ কাঠমিস্ত্রি আলম মন্ডল (২৫) কে হত্যা ঘটনার মূল রহস্য খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে উদঘাটন করেছে কাহালু থানা পুলিশ। সেই সাথে এই হত্যা মামলার মূল আসামী সৈয়দ সিহাব আহমেদ সম্রাট (২৪) ও তার সহযোগী আল-আমীন আকাশ (২৬) গ্রেফতার হয়েছে।

আলমকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাকু আরেক আসামীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সিহাব কাহালু উপজেলার জাঙ্গালপাড়ার সেয়দ আফলাকুর রহমানের পুত্র এবং আকাশ দুপচাঁচিয়া উপজেলার ঘাট মাগুড়া মধ্যপাড়ার মৃত রমজানের পুত্র।

এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের পর গতকাল শুক্রবার বেলা ১১ টায় সহকারি পুলিশ সুপার (নন্দীগ্রাম) সার্কেল আহমেদ রাজিউর রহমান কাহালু থানায় প্রেস বিফিং করে স্থানীয় সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কাহালু থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জিয়া লতিফুল ইসলাম, কাহালু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ হাসান, এস আই ডেভিড হিমাদ্রী বর্মা। প্রেস বিফিং এ উলে­খ করা হয় গত ২ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮ টায় আসামী সিহাবসহ তার সহযোগীরা বারমাইল-নামুজা সড়কের উপজেলার ঘোনপাড়া কাচা রাস্তার সন্নকটে অবস্থান নেয়।

এসময় পথচারী শিবগঞ্জ উপজেলার নলডুবি গ্রামের লালচাঁনের পুত্র আলম মন্ডল (২৫) ও কাহালুর কালাই খামারপাড়ার বাচ্চু সরদারের পুত্র বিপ্লব সরদার কে আসামীরা চাকুর ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে তাদের দুজনকে সপ্তগ্রাম স্কুলে পার্শ্বে বিলে আলুর ক্ষেতে নিয়ে যায়।

এসময় আলম জোরাজুরি করলে সিহাব তাকে ছুরিকাঘাত করে। এরপর আসামীরা ভিকটিমদ্বয়ের মোবাইল ফোন নিয়ে তাদের পরিবারের কাছে মুক্তিপন দাবী করে।

ভিকটিমের পরিবারের লোকজন মুক্তিপনের টাকা দিতে অস্বীকার করলে আসামীরা আলমের বুকে ও বিপ্লবের কনুইর উপর চাকু দিয়ে আঘাত করে।

এক পর্যায়ে ভিকটিমের পরিবার মুক্তিপনের টাকা বিকাশ নম্বরে দেওয়ার প্রতিশ্র“তি দিলে বিপ্লবের মোবাইল নিয়ে আসামীরা দুপচাঁচিয়া বাজারে বিকাশের দোকানে যায়। সেখানে অমিত বসাক নামের এক বিকাশ এজেন্টের নম্বরে তিনবারে মোট ১৩ হাজার টাকা দেয় ভিকটিমের পরিবার।

আসামীরা বিকাশের টাকা উত্তোলন করে আবার ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে আলমকে জ্ঞানহারা অবস্থায় দেখে তার মোবাইল ফোন আহত বিপ্লবকে দিয়ে তাকে পাঠিয়ে দেয়। এরপর আসামীরা টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে চলে যায়।

উলে­খ্য যে, পুলিশ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামীদের সনাক্ত করে। তারপর প্রথমে বিকাশ এজেন্ট অমিত বসাককে গ্রেফতার করে তার তথ্যের ভিত্তিতে মূল আসামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

No comments

Leave a Reply

eight + 15 =

সর্বশেষ সংবাদ