Menu

কাহালুতে কৃষকের পরিবর্তে খাদ্য গুদামে ধান তোলার অভিযোগঃ আ’লীগ নেতাসহ ৩ জনের জেল

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (মুনসুর রহমান তানসেন, কাহালু বগুড়া): কৃষকের পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের ধান তোলার অভিযোগ উঠায় গতকাল বুধবার কাহালু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাছুদুর রহমান পুলিশ ফোর্স নিয়ে স্থানীয় খাদ্য গুদানে চিরুনী অভিযান চালান।

এসময় খাদ্য গুদামে ধানের খামালের সাথে থাকা কাহালু সদর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি সামসুদ্দোহা খান (৪৫) ও লক্ষিপুর গ্রামের মজিবর রহমানের পুত্র ইসমাইল হোসেন (৪০) কে আটক করা হয়।

সেখানে তাৎক্ষনিকভাবে ভ্রাম্যমান আদালতে সরকারি আদেশ অমান্য করার অপরাধে দন্ড বিধি ১৮৮ ধারায় সামসুদ্দোহাকে ১ মাসের ও ইসমাইলকে ১৫ দিনের জেল দেওয়া হয়।

এদিকে অভিযানের সময় প্রাচীর টপকে পালানো দলগাড়া গ্রামের আঃ রশিদের পুত্র রবিউল (৩০) কে পুলিশ আটক করে আনলে ভ্রাম্যমান আদালতে তাকেও ২ মাসের জেল দেওয়া হয়।

অপরদিকে অভিযানের খবর ছড়িয়ে পরার পর বিভিন্ন চাতাল থেকে খাদ্য গুদামের পথে আসা ধান বোঝাই ভ্যান ফেরত নিয়ে যায় চালকরা।

জানা গেছে রাতভর ধান বোঝাই ভ্যান খাদ্যগুদামের দিকে যাচ্ছিল। এই খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাছুদুর রহমান সকালে বেশ কয়েকটি ধান বোঝাই ভ্যান আটক করে চালকদের কাছ থেকে জানতে পারেন ধান গুলো বিভিন্ন চাতাল থেকে খাদ্যগুদামে যাচ্ছে।

তখন তাৎক্ষনিকভাবে কাহালু থানার এস আই ডেভিড হিমাদ্রী বর্মাসহ পুলিশ নিয়ে কাহালু খাদ্য গুদামে অভিযান চালান। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সুত্র জানায় সরকারি বিধি মোতাবেক সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের জন্য লটারীর মাধ্যমে এখানে প্রায় ২ হাজার ৪০০ কৃষক নির্বাচন করা হয়।

লটারীতে যাদের নাম উঠেছে কেবল মাত্র সেই কৃষকই খাদ্য গুদামে ধান দিতে পারবে। বিভিন্ন সুত্রে পাওয়া তথ্যমতে লটারীতে নাম উঠা বেশীরভাগ কৃষকের কৃষি কার্ডই ব্যবসায়ীরা সেন্ডিকেটের মত করে ক্রয় করেছে।

লটারীতে নাম উঠা একটি কৃষি কার্ড বিক্রি হয়েছে ২ হাজার টাকা থেকে প্রায় ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। সুত্রমতে ব্যবসায়ীরা ধরাছোয়ার বাহিরে থেকে যাদের কাছ থেকে কৃষি কার্ড ক্রয় করেছে সেই কৃষককেই হাজির করে খাদ্যগুদামে ধান তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বেশ কয়েকদিন আগেই এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে খাদ্য গুদামে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের উদ্ভোধন করা হলেও মূলত পুরোদমে ধান ক্রয় শুরু হয় গত মঙ্গলবার থেকে। এখানে সরকারিভাবে ২৬ টাকা কেজি দরে আমন ধান ক্রয়ের টার্গেট রয়েছে ২ হাজার ২০৭ মেঃটন।

গতকাল পর্যন্ত এখানে ধান ক্রয় করা হয়েছে ১৫৮ মেঃটন। গত দুদিন লক্ষ করা গেছে খাদ্য গুদামের পথে ধান বোঝাই ভ্যান ও টলির দীর্ঘ লাইন। খাদ্য গুদামে চত্ত¡রে নেই তিল ধারনের ঠাই। গতকাল অভিযানে কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে খাদ্য গুদাম প্রায় হয়ে যায়। খাদ্যগুদাম রোডে নেই ধান বোঝাই বাহনের দীর্ঘ লাইন।

কাহালু খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, এখানে কৃষক ছাড়া কোনো ব্যবসায়ীর ধান তোলা হয়নি। লটারীতে নাম উঠা তালিকাসহ কৃষকের পরিচয় নিশ্চিত হয়েই ধান নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, শতভাগ সচ্ছতা বজায় রেখে লটারী করে কৃষকের নাম নির্বাচন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাছুদুর রহমান জানান, লটারীতে নাম উঠা প্রকৃত কৃষক নির্ভয়ে খাদ্যগুদামে ধান দিতে পারবে। কোনো ফড়িয়া, ব্যবসায়ী আর প্রভাবশালী যেই হোক প্রকৃত কৃষকের ধান তোলার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments

Leave a Reply

4 × one =

সর্বশেষ সংবাদ