Menu

কাহালুতে গণকবরের জায়গার জটিলতায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্থাপনা সংরক্ষন প্রকল্পের ৮ লাখ ৫ হাজার টাকা ফেরত যাবার পথে

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (মুনসুর রহমান তানসেন, কাহালু বগুড়া): মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনী কতৃক গণহত্যার শিকার হওয়া মানুষের গণকবর বগুড়ার কাহালু উপজেলার ৫ টি স্থানে চিহিৃত করা হয়েছে। চিহিৃত ৫ টি স্থানের গণকবর সংরক্ষনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্থাপনা সংরক্ষন ও পূর্ণনির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে এখানে সরকারিভাবে ৫১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। উপজেলা উপ-সহকারি প্রকৌশলী বেলাল উদ্দিন জানান, সরকারি বিধি মোতাবেক টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ১৩ মার্চ এই প্রকল্পের কাজ শুরুর অনুমতি পাওয়া যায়। কাজের অনুমতি পাওয়ার পর চুক্তিবদ্ধ হওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাহালু উপজেলার জয়তুল-নশিরপাড়া, গিরাইল, ডোমরগ্রাম, মুরইল ও উলট্ট এলাকায় যেখানে গণকবর রয়েছে সেই এলাকা সংরক্ষনের জন্য স্মৃতি স্থাপনা নির্মাণ কাজের প্রক্রিয়া শুরু করে। কাজ শুরুর সময় জয়তুল-নশিরপাড়া ও গিরাইলে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয়নি। তবে ডোমড়গ্রাম, মুরইল ও উলট্ট এলাকায় যেখানে গণকবর রয়েছে সেই জায়গার মালিকানা নিয়ে অনেকটা জটিলতার সৃষ্টি হয়। তৎকালিন সময়ের অত্র উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরাফাত রহমানের হস্তক্ষেপে ডোমরগ্রাম ও মুরইলে গণকবরের জায়গা সংক্রান্ত জটিতলা নিরসন করে সেখানে প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। মুরইল, ডোমরগ্রাম, জয়তুল-নশিরপাড়া ও গিরাইলে গণকবর সংরক্ষনে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্থাপনা নির্মাণ কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। তবে উলট্ট এলাকার গণকবরের জায়গা রেল কতৃপক্ষের হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের মেলেনি কোনো অনুমতি। যারফলে সেখানে গণকবর সংরক্ষনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। এদিকে উপজেলা প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, রেল কতৃপক্ষের সাথে কথা বলা হলেও তাদের অনুমতি না পাওয়ায় উলট্ট গণকবরের প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছেনা। তারমতে সময়-সীমা শেষ হওয়ায় এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ৮ লাখ ৫ হাজার টাকা ফেরত পাঠানো হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক জানান, স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা ভুমিকা রাখলে উলট্ট গণকবরের জায়গার জটিলতা সহজে সমাধান করা যেতো। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আঃ মান্নান জানান, এই প্রকল্পের বিষয়ে আমি কিছু জানতাম-না। গত সোমবার মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলবো। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব মোঃ হেলাল উদ্দিন কবিরাজ জানান, এই প্রকল্পের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। গণকবরের জায়গা সংরক্ষন প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানোর পূর্বেই জায়গার জটিলতা দুর করা উচিত ছিলো। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নজিবর রহমান জানান, জুন ক্লোজিং এর কারনে এই প্রকল্পের টাকা ফেরত যাচ্ছে। তারমতে জুনের পর আবার জায়গা অধিগ্রহনের বরাদ্দসহ এই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব পাঠানো হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাছুদুর রহমান জানান, আমি এখানে যোগদানেরও আগের এই প্রকল্প। আমার জানামতে রেল কতৃপক্ষ অনুমতি না দেওয়ায় উলট্ট গণকবর সংরক্ষনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্থাপনা নির্মাণ করা সম্ভম হচ্ছেনা। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবে উপজেলা প্রকৌশলী।

No comments

Leave a Reply

ten + three =

সর্বশেষ সংবাদ