Menu

কাহালুতে পিতা পৌর মেয়র পুত্র উপজেলা চেয়ারম্যান

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (কাহালু প্রতিনিধি): পিতা আলহাজ্ব মোঃ হেলাল উদ্দিন কবিরাজ কাহালু পৌরসভায় পর পর দুবার মেয়র নির্বাচিত হন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কাহালু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তার একমাত্র পুত্র আল হাসিবুল হাসান সুরুজ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে দারুন চমক সৃষ্টি করেছেন। কাহালুতে বংশীয়ভাবেই করিবাজ পরিবারের একটি ঐতিহ্য ও সুনাম রয়েছে। তারা অনেকেই এখানে রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত। তাদের পুর্ব-পুরুষ থেকে শুরু করে নতুন প্রজন্মের অনেকেই রাজনৈতিক, সামাজিক, ক্রীড়া ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্বে দিয়ে আসছেন এই জনপদে। এক প্রকার বলতে গেলে এলাকার প্রায় সকল কর্মকান্ডে কোনো না কোনোভাবে তাদের নেতৃত্বে রয়েছে। এদিকে ১৯৬০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এই সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারেই আলহাজ্ব মোঃ হেলাল উদ্দিন কবিরাজ জন্ম গ্রহন করেন। তিনি জানান, আমি যখন ৮ম শ্রেণীর ছাত্র তখন ঘাতকেরা স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। আওয়ামীলীগের ভয়াবহ এই দুঃসময়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারন করে স্কুল জীবন থেকেই রাজনীতি শুরু করি। ঐসময় বিভিন্ন জুলুম নির্যাতন সহ্য করেও আমি আওয়ামীলীগের রাজনীতি করি। ১৯৮৫ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত আমি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলাম। ২০০৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আমি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছি। যারফলে সকলের কাছে আওয়ামীলীগের একজন পরীক্ষিত নেতা বলেই আমি পরিচিত। কাহালু পৌর সভা নির্বাচনে পর পর দুবার দলীয় মনোনয়নে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়ে এখন পর্যন্ত পৌরবাসীর সেবা করে যাচ্ছি। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাচনকে উৎসব মুখর করার জন্য সব সময় রাজপথে থেকে সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করা আমার ছেলে আল হাসিবুল হাসান সুরুজ চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হয়েছে। আল হাসিবুল হাসান সুরুজ ১৯৮৯ সালের ৩০ ডিসেম্বরে এই সম্ভ্রান্ত কবিরাজ পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি একটি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে অল্প বয়সেই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন। সুরুজ জানান, ২০০৪ সালে কাহালু উচ্চ বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। সেই থেকে তিনি সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আসছেন। বিএনপি-জামায়াত সরকার বিরোধী আন্দোলনে মাঠে-ময়দানে থেকে আমি বলিষ্ঠ ভুমিকা রেখেছি। যারফলে বিএনপি-জামায়াত সরকারের শেষ সময়ে ছাত্রলীগ করার কারনে আমার নামে ৬ টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। এছাড়াও বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের হামলার শিকারও হয়েছি আমি অনেকবার। ২০১৬ সালে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন হওয়ার পর আমাকে বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মনোনীত করা হয়। বিগত ১০ বছর পড়াশুনার পাশাপাশি নিজ এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় আমি রাজপথে থেকে কার্যকর ভুমিকা রেখেছি। তিনি আরো জানান, আমি ইতিমধ্যে বিবিএ ও এমবিএ পাশ করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা প্রবীনদের পাশাপাশি তরুন নেতৃত্বের উপর বেশী গুরুত্ব দিচ্ছে। আমি আওয়ামীলীগ পরিবারের সন্তান হিসেবে ও রাজপথে থেকে সক্রিয় ভুমিকা রাখা একজন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের তরুণ কর্মী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। আমাকে মনোনয়ন দেয়নি বলে আমার কোনোই অভিমান ছিলোনা। যখন দেখলাম নির্বাচনে অন্য কোনো দল অংশ গ্রহন করছেনা তখন মুলত নির্বাচনকে উৎসব মুখর করতেই নির্বাচনে অংশ নিলাম। এখানে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীসহ আওয়ামীলীগ পরিবার থেকে আমরা আরো দুজন নির্বাচনে অংশ নেয়। আমি মনে করি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আমাদের পরিবারের ঐতিহ্য থাকায় জনগন আমাকেই বিপুল ভোটে অত্র উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছে। এদিকে পিতা-পুত্র দুজনেই জানিয়েছেন আমরা পিতা-পুত্র যে যার জায়গায় আছি সেখান থেকেই এলাকাবাসীর উন্নয়ন ও সেবা করে যাবো। আপাতত কার কি পদ সেটা নিয়ে তেমন কোনো ভাবনা নেই আমরা যেন আন্তরিকভাবে মানুষের সেবা করতে পাড়ি সেটাই এখন বড় ভাবনার বিষয়।

No comments

Leave a Reply

4 × two =

সর্বশেষ সংবাদ