Menu

কাহালুতে ব্যবসায়ীদের অর্ধ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হওয়ায় আখুঞ্জার আনছারের বাড়ির মালামাল ক্রোক

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (কাহালু প্রতিনিধি): কাহালু বাজারের বেশ কয়েকজন সাধারন ব্যবসায়ী ও দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ঋন নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়া আনছার আলীর বাড়ির সমস্ত অস্থাবর সম্পদ আদালতের আদেশে ক্রোক করেছে পুলিশ। আনছার উপজেলার আখুঞ্জা গ্রামের মৃত রমজানের পুত্র বলে জানা গেছে। কাহালু থানার এস আই ডেভিড হিমাদ্রী বর্মা জানান, আনছারের বিরুদ্ধে মোট ৪ টি মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হয় সিনিয়ার চীফ জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদমী আদালত কাহালু, বগুড়া থেকে। এই ৪ টি মামলার মধ্যে রওশন আরার দায়ের করা ২৫/সি/১৯ নং মামলায় ও সানোয়ারের দায়ের করা ৮০/সি/২০১৯ মামলায় আদালত গত ১৮ জুন কাহালু থানা পুলিশকে আদেশ দেয় আনছারের বাড়ির সমস্ত অস্থাবর সম্পদ ক্রোক করার জন্য। সেই আদেশে গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ আনছারের বাড়ির সমস্ত মালামাল ক্রোক করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ ও কাহালু বাজারের ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে আনছারের ব্যবসা চলাকালিন সময়ে সে দাদন ব্যবসায়ী ও সাধারন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্ধ কোটির বেশী টাকা ঋন করে। ঋনের টাকা নিয়ে হটাৎ করে আনছার উধাও হওয়ার পর বেড়িয়ে আসে কারা তাকে টাকা ঋন দিয়েছিলো। আংশিক তথ্যমতে কাহালু স্টেশন রোডের আপেল ফার্মেসীর মালিক আজিজের ৭ লাখ, ওষুদ ব্যবসায়ী সজলের ৪ লাখ, ব্যবসায়ী সাইফুলের ৯ লাখ , ফারুকের ২ লাখ, নজরুলের ২ লাখ, মোজাহারের ১ লাখ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আঃ আজিজের ৪ লাখ, বুরইল গ্রামের আক্কাছের ৫ লাখ, শাহিন মাস্টারের ৩ লাখ, প্রভাষক কুতুব শাহাবুদ্দিন বাবুর ২ লাখ টাকাসহ অনেকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ঋন নিয়েছে আনছার। রওশন আরা জানান, আমাকে বোন বানিয়ে আনছার ৪ লাখ টাকা কর্জ নেয়। সাইফুল, আজিজসহ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, আনছারের টিভি ও ফ্রিজসহ বিভিন্ন ইলেকট্রিক সামগ্রীর বড় দোকান। যারফলে কোনো সার্থে নয়, শুধু বিশ্বাসের উপর তাকে আমরা টাকা কর্জ দিয়েছি। এব্যাপারে আনছারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার মোবাইল ফোনে কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি। আনছারের ছোট ভাই ইউপি মেম্বার ফেরদৌসের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলা হলে তিনি জানান, সুদের উপর টাকা নিয়ে অনেকে সর্বশান্ত হয়েছে। যারা আমার ভাইকে টাকা দিয়েছে, তাদের সুদের টাকা পরিশোধ করতে করতে আমার ভাই দেওলিয়া হয়ে কোথায় গেছে তার কোনো খোজ আমি জানিনা। যারা আনছারের কাছ থেকে পাওয়াদার তারা বলছেন সুদ নয় কর্জ হিসেবে আমরা টাকা টাকা দিয়েছি। তবে পাওয়াদারের কথার সাথে ভিন্নমত পোষন করেছেন সাধারন মানুষ। সাধারন মানুষের মতে সুদ ছাড়া কেউ টাকা দেয়নি। কাহালু থানার এস আই ডেভিড হিমাদ্রী বর্মা জানান, আনছারের বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগ হয়নি। তার বিরুদ্ধে আদালতে ৪ টি মামলা হয়েছে সেই তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। আদালতের আদেশ আমরা পালন করছি। আনছারকে সুদের উপর টাকা দিয়েছে এমন তথ্যও আমরা জানিনা।

No comments

Leave a Reply

four × five =

সর্বশেষ সংবাদ