Menu

কাহালুতে সৎ ও যোগ্য নের্তেৃত্বে মানুষের মন জয় করেছেন ইউএনও আরাফাত রহমান

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (মুনসুর রহমান তানসেন, কাহালু প্রতিনিধি): আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে রংপুরে যোগদান করবেন কাহালু উপজেলার সু-যোগ্য নির্বাহী অফিসার মোঃ আরাফাত রহমান।
অত্র উপজেলা থেকে বিদায় পূর্ব মূহুর্ত বিভিন্ন মহল থেকে তার কর্মকালের মুল্যায়ন ও প্রসংশা করা হয়েছে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, বাল্য বিবাহ, ইভটিজিং প্রতিরোধে তিনি সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, নাট্যচর্চা ও ক্রীড়ার উপর খুবই জোর দিয়েছিলেন। যারফলে তার অনেকটা সুফলও পেয়েছে অত্র উপজেলার মানুষ।
বিভিন্ন সুত্রের তথ্যমতে প্রাচীন পুন্ডনগরী বগুড়া জেলার রয়েছে নানান ইতিহাস ঐতিহ্য। বগুড়া জেলা শহরের অতি নিকটতম অত্র কাহালু উপজেলা। শষ্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত এই উপজেলার যেমনি আছে সুনাম তেমনি রয়েছে নানান সমালোচনা। অপরাধ বিজ্ঞানেও উল্লেখ আছে অত্র উপজেলার জামগ্রাম ইউনিয়নের কথা। সেখানে অধিকাংশ মানুষের মধ্যে রয়েছে অপরাধ প্রবনতা।
অপরদিকে রাজনীতি, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় গুলো লক্ষ করলে দেখা যাবে এখানে এক সময় সব কিছুই ছিলো হতাশা জনক। এখানে ১৯৭০ সালের নির্বাচন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যারা বাঙ্গালীর সংস্কৃতিকে লালন-পালন করে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে তাদের বিপরীতে মানুষ ভোট দিয়েছে। এখানে ১৯৭০ সালের নির্বাচন থেকে শুরু করে কিছুদিন আগেও ছিলো স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি জামায়াত-শিবিরের ব্যপক প্রভাব। এখানে বাঙ্গালীর সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার বিষয়টি ছিলো খুবই দুঃসাধ্য ব্যপার। নাট্য, সাংস্কৃতিক চর্চা ও ক্রীড়ার ক্ষেত্রেও এখানে ছিলো নানান প্রতিবন্ধকতা। উপজেলা সদর থেকে শুরু করে গ্রামের মানুষের মধ্যেও ছিলো নানান কুসংস্কার। স্বাধীনতা বিরোধীদের দাপট, জনসেতনতার অভাবে বাল্য বিবাহ, বহুবিবাহ ও নারীদের অবমুল্যায়ন প্রবনতা অনেক বেশী ছিলো। উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে অনেক কর্মকর্তা এখানে এসেছেন। বলতে গেলে মুল্যায়ন ও সমালোচনার ক্ষেত্রে দুটোই ছিলো তাদের অনেকের মধ্যে। প্রায় ৩ বছর ধরে অত্র উপজেলায় নির্বাহী অফিসার হিসেবে মোঃ আরাফাত রহমান এরিপোট লেখার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন । এখানে তার কর্মময় জীবনের বহু প্রসংশা রয়েছে অনেকের মুখে মুখে। জানা গেছে তিনি দেশপ্রেমিক বীরমুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন ব্যাপারীর নাতী। একজন বীরমুক্তিযোদ্ধার নাতী হিসেবে এখানে তার কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরলে অনুধাপন করা যাবে আরফাত রহমানের রয়েছে সাহস, দেশপ্রেম ও মানব প্রেমসহ নানান গুনাবলী। মানুষকে বাঙ্গালীর সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে ধাপিত করতে তার ছিলো নানামুখী উদ্যোগ।
কাহালু পৌর মেয়র আলহাজ্ব মোঃ হেলাল উদ্দিন কবিরাজ জানান, আরাফাত রহমান একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি সবার সাথে সমন্বয় করে উপজেলার উন্নয়ন মূলক কাজ গুলো করেছেন। তিনি মানুষকে ভালোবাসতেন এবং সকলের সাথে মিলেমিশে চলতেন। কাহালু মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এফ,এম, এ ছালাম জানান, আরাফাত রহমান স্যার একজন খুবই ভালো মানুষ। তরুণ সমাজ যাতে বিপথগামী না হয় তার জন্য তিনি ক্রীড়া, সাংস্কৃতি ও নাট্যচর্চায় খুবই গুরুত্ব দিয়েছিলেন। যারফলে ফুটবল বাড মিন্টুন, হাডুডু সহ বিভিন্ন খেলাধুলার মান উন্নয়ন হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো খেলায় কাহালু উপজেলা, জেলা চ্যাম্পিয়ান অথবা রানার আপ হয়েছে। আরাফাত স্যারের উৎসাহ-উদ্দিপনায় আমার মেয়ে সাদিয়া ইয়াসমিন গত বছর স্বরচিত কবিতায় ও শিক্ষা সপ্তাহে রাজশাহী বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নিয়েছিলো। তারমতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত রহমান শিক্ষার মান উন্নয়ন সহ সকল ভালো কাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দূর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান খান বদের জানান, আরাফাত স্যার সকল ভালো কাজে সাহস যুগিয়েছেন। দূর্গাপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নতুন ভবন নির্মাণে আমি খুবই চিন্তায় পড়েছিলাম। আরাফাত স্যারের সাহস এবং সহযোগীতায় এলজি এসপি প্রকল্পের অর্থ দিয়ে দূর্গাপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নতুন ভবন নির্মার্ণে আমরা সফল হয়েছি। এই ভবন নতুন করে নির্মাণের ফলে এখন শত শত মানুষ আগের চেয়ে অনেক ভালো পরিবেশে স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছে। কাহালু থিয়েটারের সভাপতি আব্দুল হান্নান জানান, ইউএনও আরাফাত রহমান একজন দেশপ্রেমিক। তিনি সাংস্কৃতিক ও নাট্যচর্চার মাধ্যমে, বাঙ্গালীর বিভিন্ন উৎসব জাঁকজমকভাবে পালনের মধ্য দিয়ে মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। আমরা কাহালু থিয়েটারের আয়োজনে দুই বাংলার নাট্য মিলন মেলার উৎসব করেছি। উৎসবের খরচ জোগাতে অনেকটা শঙ্কায় ছিলাম। আরাফাত স্যারের সাহস ও সার্বিক সহযোগীতায় আমরা দুই বাংলার নাট্য মিলন মেলা সফলভাবে করেছি। মোট কথা কাহালু উপজেলার মানুষকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখা ও ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করতে তিনি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছেন। কাহালু উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি প্রভাষক মাকসুদুর রহমান মাসুদ জানান, আমরা দুর্নীতি বিরোধী যত গুলো অনুষ্ঠান করেছি সব গুলো অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত রহমান সার্বিক সহযোগীতা করেছেন এবং তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সততা স্টোর করার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা প্রসংশনীয়। আমি কাহালু সরকারি মহাবিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। আমি ছাড়াও আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাই এক বাক্যে বলবেন তিনি সকল ভালো কাজের জন্য খুবই আন্তরিক ছিলেন।
জানা গেছে মোঃ আরাফাত রহমান কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার আব্দুল হাদি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম আব্দুল জোব্বার। তার দাদা জহির উদ্দিন ব্যাপারী ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক বীরমুক্তিযোদ্ধা। তিনি রংপুর ক্যান্টঃ পাবলিক কলেজ থেকে এইচ এসসি পাশ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ-বিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ২৮ তম ব্যাচের বিসিএস ক্যাডার।
তিনি ২০১০ সালের ১ ডিসেম্বর প্রশাসন ক্যাডার হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। এরপর তিনি উল্লাপাড়া ও বগুড়া সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বগুড়া থেকে তিনি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে কিছুদিন কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে তিনি অত্র উপজেলায় নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। এখান থেকে তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন। আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে রংপুর জেলায় যোগদান করেন।
কাহালু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরাফাত রহমান রহমান সম্প্রতি এই প্রতিবেদককে তার আগামী দিনের নানা প্রত্যাশার কথা জানান। তিনি বলেন আমি যেখানে যাচ্ছি বা যেখানেই যাবো সেখান থেকেই বর্তমান সরকারের টার্গেট উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করবো।

No comments

Leave a Reply

eleven − eight =

সর্বশেষ সংবাদ