Menu

কাহালুর আজাদ পেপার মিলের তথ্য থাকেনা দায়িত্বে থাকা ম্যানেজারের কাছে!

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (কাহালু প্রতিনিধি): বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের কাহালু উপজেলার যোগারপাড়ার উত্তর পার্শ্বে বীরকেদার মৌজায় বিশাল এলাকা জুড়ে আজাদ পেপার মিল। এই পেপার মিলের শ্রমিকদের নিরাপত্তার অভাবসহ মিলের নির্গত পানি ও বর্জ পরিবেশ দুষন করায় সাধারন মানুষ রয়েছেন স্বাস্থ্য ঝঁকিতে। মিলের পাশ দিয়ে চলাচলকারী মানুষ প্রায়ই জানান, মিলের পানি ও বর্জ যেদিক দিয়ে যায় দুর্গন্ধে তার ধারে কাছ দিয়ে যাওয়া যায়না। জানা গেছে এই মিলটিতে দীর্ঘদিন যাবত কর্মরত রয়েছেন মোঃ মোস্তাক আহম্মেদ নামের এক ভদ্রলোক। বিভিন্ন সুত্রের পাওয়া তথ্যমতে মিলটির প্রায় সকল কার্যক্রম পরিচালনা তিনিই দেখাশুনা করেন। অথচ মিলে কতৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যক্তি জানেন না মিলের সার্বিক তথ্য। বিভিন্ন সুত্রে পাওয়া তথ্যমতে মিল কতৃপক্ষের দায়িত্বহীনতায় অতিতে পর পর দুবার মিলের ভিতরে দুর্ঘটনায় মোট ৪ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এছাড়াও মাঝে-মধ্যে ছোট-খাটো দুর্ঘনায় শ্রমিকদের শরীরে ক্ষত হওয়ার বিষয়টি মোস্তাক আহম্মেদ স্বীকার করলেও মিলের শ্রমিকদের সব ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে বলে তিনি জানান। তবে মিলের ভিতরে শ্রমিকদের নিরাপত্তায় কি ধরনের ব্যবস্থা আছে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে সাধারন মানুষের মধ্যে। মিলের পাশ দিয়ে চলাচল করা মানুষের সমালোচনা পর্যালোচনার বিষয়ে কাহালু প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক আঃ ছালেক তোতা, কাহালু প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি প্রভাষক মাকসুদুর রহমান মাসুদসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা মিল কতৃপক্ষের সাথে কথা বলার জন্য তিনদিন মিলে গেলেও তাদের কোনো সারা পাওয়া যায়নি। অবশেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরাফাত রহমানের সহযোগীতায় মিলটির দায়িত্বরত ম্যানেজার মোস্তাক আহম্মেদ এর সাথে সাংবাদিকদের সাক্ষাতের সুযোগ মিলে। তার সাথে সাক্ষাতের সুযোগ হলেও তিনি জানান, মিলটির সব তথ্য আমি জানিনা। তবে তিনি জানান, এই মিলে পুরুষ-মহিলা মিলে প্রায় ২০০ জন শ্রমিক কাজ করে। বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, কোন ধরনের দুর্ঘটনা। মাঝে-মধ্যে তো শ্রমিকদের কাটা-ফাটার মতো দুর্ঘটনা ঘটেই। বড় ধরনের দুর্ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাস করা হলে তিনি জানান, শ্রমিকদের অসাবধানতায় দুবারের দুর্ঘটনায় ৪ জন শ্রমিক মারা যায়। মিলে সিটিজেন চার্টারের না থাকার বিষয়ে কথা বলা হলে তিনি জানান, সেটা লাগানো হবে। পরিবেশ দুষন সংক্রান্ত বিষয়ে পানিশোধনের মেশিন আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি জানান, সেটি আমাদের মিলে রয়েছে এখানে পরিবেশ দুষন হচ্ছেনা। কত একর সম্পত্তির উপর মিলটি প্রতিষ্ঠিত সেই তথ্যসহ অন্যান্য তথ্য জানতে চাইলে তার কাছে সেই তথ্য নেই বলে জানান। তবে উপজেলা ভূমি অফিস সুত্রে জানা গেছে এই মিলটির খারিজকৃত মোট ১০ টি হোল্ডিংয়ে প্রায় জমির পরিমান ২৩ একর। সুত্রমতে খারিজ ছাড়াও আরো অনেক জমি রয়েছে মিলটির এরিয়ার মধ্যে রয়েছে। সুত্রটি মতে বেশীরভাগ ধানী ও ফসলী জমির উপর এই মিলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এব্যাপারে মিল মালিক আবুল আজাদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলা হলে তিনি জানান, এখানে অনেক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তারপরেও আমরা আন্তরিকভাবে সরকারি নীতিমালা ফল করি।

No comments

Leave a Reply

19 − 8 =

সর্বশেষ সংবাদ