Menu

কাহালুর ইউএনও করোনা মুক্ত হয়ে এখন কর্মস্থলে

মুনসুর রহমান তানসেন কাহালু থেকে ঃ করোনা যুদ্ধে সাহসী ও মুখ্য ভুমিকায় থাকা বগুড়ার কাহালু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাছুদুর রহমান করোনা মুক্ত হয়ে গতকাল রবিবার কর্মস্থলে ফিরে করোনা থেকে মানুষকে রক্ষায় আবারও তার আন্তরিকতার ঘারতি নেই। নিজ কার্যালয়ে বসে তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহবান জানিয়েছেন।
গত ৫ এপ্রিল তিনি তার শিশুপুত্র করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। গত ২২ এপ্রিল তিনি করোনা মুক্ত হলেও তার শিশুপুত্র করোনা পজেটিভ ছিলো। ইতমধ্যে তার শিশুপুত্রও করোনা মুক্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত হওয়ার ২৭ পর তিনি তার কার্যালয়ে পূর্বের ন্যায় প্রশাসনিক কর্মকান্ডে যুক্ত হলেন।
বিভিন্ন সুত্রে পাওয়া তথ্যমতে গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি উপজেলাবাসীকে করোনা মুক্ত রাখতে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেন। যারফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় করোনা রোগী সনাক্ত হলেও প্রায় ৬৫ দিন অত্র উপজেলার মানুষ করোনা মুক্ত ছিলেন। তবে বিদেশ ও করোনা সংক্রামণ এলাকা থেকে আসা লোকজনের কারণে এখানেও অনেক জায়গায় করোনার সংক্রামণ ছড়িয়ে পড়লে, তিনি মানুষকে সচেতন করতে বিভিন্ন স্থানে ছুঁটে গেছেন।
গত বছরের ১৩ মে নরসিংদী থেকে নিজ বাড়ি উপজেলা বিষ্ণপুর গ্রামে আসা এক ব্যাংক কর্মকর্তার শরীরে প্রথম করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলে। এই খবর পাওয়ার পর তিনি গভীর রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ যাকারিয়া রানা ও তৎকালিন সময়ের কাহালু থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জিয়া লতিফুল ইসলামকে সেখানে ছুঁটে যান। করোনায় আক্রান্ত ব্যাংক কর্মকর্তাকে দ্রæত চিকিৎসার জন্য বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ওই সময় করোনায় আক্রান্ত রোগীর বাড়ির আশে-পাশে যাওয়ার সাহস কেউ পেতোনা। করোনার সংক্রামণ ছড়িয়ে পড়লে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি করোনায় আক্রান্ত রোগীর বাড়িতে গিয়ে তাদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং রোগীদেরকে ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মনে সাহস যুগিয়েছিলেন। করোনা প্রতিরোধে তিনি প্রতিনিয়ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী। করোনার মুহুর্তে বেকার হয়ে পড়া গরীব মানুষের জন্য দেওয়া সরকারি ত্রাণ সঠিকভাবে বিতরণে ছিলো তার কঠোর মনিটরিং। মধ্যবিত্ত পরিবারের যারা অভাবে পড়ে মুখ ফুটে বলতে পারেনি গোপনে তাদের বাড়িতে খাদ্য-সামগ্রী পোঁছে দিয়েছেন তিনি। করোনায় মৃত ব্যক্তির দাফন ও সৎকারেও তার ছিলো মুখ্য ভুমিকা।
এখানে সবচেয়ে হৃদয় বিদারক ঘটনা ছিলো করোনায় আক্রান্ত হয়ে কাহালু চারমাথার মানিক সাহার মৃত্যু। মৃত্যুর আগে যখন মানিক সাহার অবস্থার অবনতি হয়, তখন এ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাচ্ছিলোনা। অবশেষে ইউএনও এবং মানিক সাহার পরিবারের লোকজনের অনেক চেষ্টার পরে এ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়। এ্যাম্বুলেন্সে বগুড়া মেডিক্যালে মানিক সাহাকে নিয়ে যাওয়া হলেও তাকে বাাঁচানো যায়নি।
মানিক সাহা যে রাতে মারা যান, ওই রাত থেকে সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয় এখানে। দিনের বেলায়ও মেঘলা আকাশ থেমে ছিলোনা হালকা বৃষ্টিপাত। করোনায় মারা যাওয়ার কারণে ভয়ে মানিক সাহার সৎকারে তেমন কেউ এগিয়ে আসেনি। কিন্ত ইউএনও মোঃ মাছুদুর রহমান তার কর্তব্যে ছিলেন অবিচল। ভোর ৪ টায় বৃষ্টি-বাদল উপেক্ষা করে তিনি মানিক সাহার লাশ শ্মশানে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে, সৎকার সপন্ন করে দুপুরে বাসভবনে ফিরে আসেন। এই সৎকারে মানিক সাহার আপনজনদের পাশাপাশি ডাঃ মোহাম্মদ যাকারিয়া রানা নিজেও লাশের খাটিয়া কাঁধে নেওয়াসহ চিতায় আগুন দেওয়ার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
করোনা মোকাবেলা, করোনায় আক্রান্ত রোগীর খোজ-খবর নেওয়া, কর্মহীন মানুষের সাহায্য, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকান্ডসহ মানিক সাহার সৎকারের মধ্য দিয়ে সততা, মানবতা ও মানবিকতার অনেক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন ইউএনও মোঃ মাছুদুর রহমান।

No comments

Leave a Reply

3 + 8 =

সর্বশেষ সংবাদ