Menu

কাহালুর ঐতিহাসিক পাঁচপীর মাজারে ওরশ মাহফিল শনি ও রবিবার

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (মুনসুর রহমান তানসেন, কাহালু): কাহালু উপজেলার ঐতিহাসিক পাঁচপীর মাজার শরীফে প্রতি বছরের ন্যায় আজ ও আগামীকাল দুদিনব্যাপী ওরশ মাহফিলের সকল প্রস্ততি নিয়েছে মাজার কমিটি। ঐতিহাসিক পাঁচপীর মাজারের ওরশকে ঘিরে মাজারের আশে-পাশের গ্রাম গুলোর প্রতিটি বাড়িতে আতœীয়-স্বজনের সমাগম বেড়েছে।

মাজারের পাশেই বসেছে হরেক রকমের দোকানপাট। ওরশের জন্য বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে মাজার এবং ওয়াজ মাহফিলের স্থান। বিভিন্ন সুত্র ও স্থানীয় লোকজনের জনশ্র“তিতে এই মাজার সম্পর্কে নানা তথ্য পাওয়া যায়। বাংলার প্রাচীতম শহর হিসেবে বগুড়ার নাম অন্যতম।

ভারত উপমহাদেশের দ্বিতীয় প্রাচীন সভ্যতা বগুড়ার মহাস্থান গড়ে। প্রাচীন পুন্ডনগরী হিসেবে পরিচিত এই জনপদে যেমন রয়েছে বিভিন্ন ধর্মাম্বলীর ইতিহাস। তেমনি ইসলাম প্রচারে আসা অনেক পীর আউলিয়ার নাম। প্রাচীন পুন্ডনগরীতে ব্যবসা বাণিজ্য অথবা ইসলাম প্রচারে আসা দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষের আগমন ঘটে এই জনপদে।

সেই সব মানুষের আগমনের নানা ইতিহাস জড়িয়ে আছে এই জনপদের বিভিন্ন স্থাপনা ও মাজার গুলোকে ঘিরে। ভারত উপমহাদেশে মূলত ইসলাম প্রচার শুরু হয় ইরাক-ইরান থেকে আসা পীর আউলিয়া ও তাদের অনুসারীদের দ্বারা।

তারা ধীরে ধীরে ভারত উপমহাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন। এলাকায় জনশ্র“তি রয়েছে ইসলাম প্রচারে আসা তাদের পাঁচজন পীরের নামানুসারে এই মাজারের নাম হয়েছে পাঁচপীর মাজার। এখানে শায়িত পীরদের আগমন ও নামের সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায়নি। যারফলে পীরদের আগমন ও নাম নিয়ে বিভ্রান্তিকরভাবে তথ্য পাওয়া যায়।

স্থানীয় লোকজনের মতে কোনো একজন খোয়াবের মাধ্যমে জানতে পারেন পীরের নাম। সেই সুত্রমতে এই মাজারে চীর নিদ্রায় শায়িত আছেন পীরজাদা আহমদুল­্যাহ, আঃ গফুর, আব্দুস সামাদ, আঃ রহমান ও মোহাম্মাদী ফরিদি।

তথ্যমতে বাগদাদ থেকে ইসলাম প্রচারে আসা পীরজাদা মোঃ আহমদুল­্যাহ (রহঃ) প্রথমে পাঁচপীর মাজারের ১ কিঃ মিঃ পশ্চিমে ফকিরপাড়ার সন্নিকটে একটি পাকড় গাছের নীচে আস্তানা গাড়েন। সেখানে থেকে ইসলাম প্রচার শুরু করার পর তার সাথে উলে­খিত চারজন পীর যোগ দেন।

এরপর তারা পাঁচজন মিলে সম্মিলিতভাবে এখান থেকে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। বর্তমান পাঁচপীর রেল ষ্টেশনের উত্তর পার্শ্বে ছিলো জমিদার প্রত্যাপ নারায়নের বাড়ি। আর যেখানে মাজার রয়েছে সেটি ছিলো জমিদারের কাচারী।

এলাকায় জনশ্র“তি রয়েছে জমিদার ইসলাম প্রচারে বাধাঁ দিলে স্থানীয় মুসলমানদের সহযোগীতায় জমিদাকে বিতারিত করে তার কাচারীতে পীরজাদারা আস্তানা গাড়েন। এই আস্তানা থেকে উলে­খিত পাঁচজন পীর ইসলাম প্রচার করেছেন এবং এখানেই মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর পাঁচজন পীরকেই তাদের অনুসারীরা এখানে দাফন করেন।

জনশ্র“তি রয়েছে সম্রাট আকবরের শাসন আমল থেকেই এই এলাকার নাম পাঁচপীর। এদিকে ১৯৫২ সালের দিকে মাজারের স্থানটির উঁচু ঢিবি মানুষজন সমতল করতে গিয়ে পাঁচটি কবরের সন্ধান পায়। পরবর্তীতে মাজার গুলো সংরক্ষন করা হয়।

তবে ইতিহাস থেকে পাওয়া তথ্যমতে ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে আব্দুল আজিজ (রহঃ) নামের একজন বিশিষ্টজনের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি দল এই দেশে ইসলাম প্রচারে আসেন। পরবর্তীদের নুর উদ্দিন ইয়ামিন (রহঃ) এর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি দল এই উপজেলায় ইসলাম প্রচারে আসেন।

এই মাজারে রয়েছে একটি মাদ্রাসা ও একটি মসজিদ জানা গেছে মাজার কমিটির সভাপতি ও দুর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান খান বদের মাজার মসজিদের ও মাজারের উন্নয়নে অনেক কাজ করেছেন। তিনি মাজারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখানে আগের চেয়ে বেশী মানুষের সমাগম ঘটে।

No comments

Leave a Reply

sixteen + 12 =

সর্বশেষ সংবাদ