Menu

কাহালুর ক্যান্সারে আক্রান্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা হামিদের বাস ঝুঁকিপূর্ণ জড়াজীর্ণ বাড়িতে

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (মুনসুর রহমান তানসেন, কাহালু): কাহালুর উলট্ট গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা আঃ হামিদ ফুসফুসের ক্যান্সার নিয়ে মাটির জড়াজীর্ণ ভাঙ্গা বাড়িতে পরিবার-পরিজনের সাথে জীবনের ঝুঁকি বসবাস করছেন।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষনে উজ্জিবিত হয়ে একদিন বাঙ্গালী জাতীর মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এই বীরমুক্তিযোদ্ধা আঃ হামিদ। এখন তার ফুসফুসে বাসা বেঁধেছে ক্যান্সার রোগ।

রোগ -শোক তিনি ১৯৫২ সালের ১২ জুন কাহালু উপজেলা সদরের উলট্ট গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। ১৯৭১ সালে তিনি সবেমাত্র ১০ শ্রেণীর ছাত্র ছিলো। ২৫ মার্চের কালো রাতে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী নির্বিচারে নিরস্ত্র বাঙ্গালীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে ক্ষোভে ছাত্র হামিদের শরীরের রক্ত টগবগ করে উঠে।

ওই সময় আঃ হামিদ দেশের নিরীহ মানুষের কথা বিবেচনা করে ঘরে বসে থাকতে পারেননি। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাস থেকে যখন ভারতে এ দেশের সুর্য সন্তানেরা মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষন নিতে যান তখন আঃ হামিদও প্রশিক্ষন নেওয়ার জন্য ভারতের বোয়ালদা ক্যাম্পে যান। তৃতীয় ব্যাচে তিনি টেনিং নিয়ে দেশকে শক্রুমুক্ত করতে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন।

তিনি ন্যাপ ছাত্র ইনিয়ন ও সিপিবি যৌথ্য গেরিলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে পাঁচবিবি, জয়পুরহাট এলাকায় পাকিস্থানী বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেছেন। ৭ নং সেক্টরে নুরুল আনোয়ার বাদশা নেতৃত্বে তিনি যুদ্ধ করেছেন বলে এই প্রতিবেদককে তথ্য দিয়েছেন।

মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্র ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় কতৃক প্রকাশিত গেজেটে লক্ষ করা গেছে আঃ হামিদের মুক্তিবার্তা নং ০৩০৬১১০০৩৩ ও গেজেট নং ১৯১৮। এই বীরযোদ্ধার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় একজন গেরিলা যোদ্ধা ছিলেন। বর্তমানে এই গেরিলা যোদ্ধা অসুখ-বিসুখ আর আর্থিক অভাব-অনটনে একেবারে ভেঙ্গে পড়েছেন। তিনি ৪ পুত্র ও ২ কন্যা সন্তানের জনক। ২ কন্যার বিয়ে দেওয়ার পর তারা স্বামীর সংসারে।

৪ পুত্রের মধ্যে বড় ছেলে আরিফুল বলতে গেলে একপ্রকার বেকার। ২য় ছেলে আশিকুল মাস্টার্স পাশ করে কাহালু মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল এন্ড স্কুলে চাকুরীতে যোগদান করলেও তার কোনো বেতন হয়নি। তৃতীয় ছেলে আসাদুজ্জামান অর্থ কষ্টে লেবার হিসেবে কাজ করছেন। ৪র্থ ছেলে আয়ুব আলী অনার্সে পড়ছে। এই বীরযোদ্ধার নেই তেমন স্বয়-সম্পত্তি ও আয়-রোজগার। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন ১২ হাজার।

এই ভাতার টাকা দিয়ে চলেনা সংসার। তিনি ক্যান্সার রোগের চিকিৎসার জন্য মানুষের কাছ থেকে ধার-দেনা করে কিছুদিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও অর্থাভাবে ওষুদপত্র কিনতে পারছেনা। তার ক্যান্সার রোগের জন্য ক্যামুসহ যেগুলো ওষুদ ব্যবহার করা দরকার তার দাম অনেক টাকা। ওষুদ বিহীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে লড়াই করে কোনোমতে বেঁচে আছেন এই বীরযোদ্ধা।

এদিকে তিনি তার পূর্ব-পুরুষের আমলে নির্মাণ করা একটি মাটির ভাঙ্গা বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন। মাটির দেয়াল ফাটল ধরে খসে খসে পড়ছে। পুরো বাড়িটির এক ধরনের জড়াজীর্ণ অবস্থা। অর্থাভাবে সেই বাড়িতেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। কাহালু মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নজিবর রহমান জানান, আঃ হামিদ একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা।

কোলকাতায় তিনি চিকিৎসা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে ফুসেফুসে ক্যান্সার ধরা পড়েছে। ডাক্তার বলেছে প্রতি মাসে তাকে একটি ক্যামু দিতে হবে। সেই ক্যামুর দাম প্রায় ৬০ হাজার টাকা। টাকার অভাবে গত মাস থেকে ক্যামু দিতে পারেনি।

তারমতে মুক্তিযোদ্ধা হামিদের চিকিৎসা ও বাড়ি দুটোরই জরুরী প্রয়োজন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাছুদুৃর রহমান জানান, তিনি আবেদন দিলে বাড়ির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। চিকিৎসার জন্য সমাজ সেবা অফিসের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

No comments

Leave a Reply

13 − twelve =

সর্বশেষ সংবাদ