Menu

কাহালুর জাতীয় স্বর্ণ ও রৌপ্য প্রদকপ্রাপ্ত মাছছাষি শফিকুলের হ্যাচারীর সৌখিনতা

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (কাহালু প্রতিনিধি): কঠোর পরিশ্রম আর সততা মানুষকে বহুদুর পৌছে দেয়। কঠোর পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ গুলোর মধ্যে খুজে পাওয়া যায় সৌখিনতা ও সৃজনশীলতা। ঠিক তেমনই একজন মানুষ কাহালুর বিবিরপুকুর বাজারের মাছচাষি আলহাজ্ব মোঃ শফিকুল ইসলাম। একজন মানুষ হিসেবে যা গুনাবলী থাকা দরকার তার সবই আছে এই মানুষটির মধ্যে। শুধু তাই নয় তিনি একজন মাছচাষি ও রেনু-পোনা উৎপাদনে যে সকল গুনাবলী থাকা দরকার সবই আছে এই সৌখিন মানুষটির মধ্যে। কাহালু উপজেলায় যখন প্রথম সরকারি হ্যাচারীতে মাছের রেনু-পোনা উৎপাদন হয় তখনই মাছচাষে আগ্রহী হন এই মানুষটি। তিনি নববই দশকের প্রথম দিকে একটি মিনি হ্যাচারী প্রতিষ্ঠা করেন। অভিজ্ঞতা না থাকায় হ্যাচারীতে রেনু-পোনা উৎপাদনের শুরুতেই তিনি কিছুটা হুচট খেয়ে লোকসানের মুখে পড়েন। তারপরেও তিনি হতাশ না হয়ে পরবর্তী সময়ে স্থানীয় মৎস্য অফিসারের পরামর্শ নিয়ে রেনু-পোনা উৎপাদন ও মাছ চাষের উপর প্রশিক্ষন নেন। প্রশিক্ষন নিয়ে তিনি পুরোদমে শুরু করেন মাছচাষ ও রেনু-পোনা উৎপাদনের কাজ। তিনি নিজেই মাছচাষ ও রেনু-পোনা উৎপাদনে কঠোর পরিশ্রম করতেন। হ্যাচারী ও মাছ ব্যবসায় শুরু থেকেই তার মধ্যে ছিলো খুবই সততা। তার সততার কারনে বিভিন্ন জেলার মাছচাষি ও ব্যবসায়ী এখান থেকে ক্রয় করে নিয়ে যায় মাছের রেনু-পোনা। যারফলে অল্প দিনের মধ্যেই তিনি তার লোকসান কাটিয়ে উন্নতির চরম শিখরে পৌছে যান। মাত্র ২০ বোতল দিয়ে শুরু করা তার হ্যাচারীটি ২০০১ সালের মধ্যে ৪০ বোতলে উন্নতি করে বর্ধিত করা হয় দিগুনে। ২০০৩ সালে আলহাজ্ব মোঃ শফিকুল ইসলাম সারাদেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রেনু-পোনা উৎপাদনকারীর মর্যাদায় সিক্ত হন। তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে দেওয়া হয় জাতীয় স্বর্ণপ্রদক। ২০১২ সালে আবারও তিনি তার হ্যাচারীটি বর্ধিত করাসহ সৌখিনতা বৃদ্ধি করেন। ২০১৩ সালে দ্বিতীয় বারের মতো তিনি দেশ সেরা রেনু-পোনা উৎপাদনকারী হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে জাতীয় রৌপ্যপ্রদক গ্রহন করেন। এছাড়াও তিনি স্থানীয়ভাবে গুণীজন সংবর্ধনা পাওয়াসহ বিভিন্নভাবে সম্মানিত হয়েছে। এদিকে সম্প্রতি তিনি তার হ্যাচারীটি বর্ধিতকরন করেছেন। বিভিন্ন এলাকার হ্যাচারী গুলোর চেয়ে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম এই হ্যাচারীটি। এই হ্যাচারীর নির্মাণ শৈলী খুবই চমৎকার ও সৌখিন। মাঝখানে একটি ভবনে বসবাস করেন আলহাজ্ব মোঃ শফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারবর্গের সদস্যরা। তার নীচেই হ্যাচারীর অফিস রুম। ভবনটির চারিদিকে বিশাল এরিয়া জুড়ে হ্যাচারীর সব ধরনের কাঠামো। বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের বিবিরপুকুর স্ট্যান্ডের দক্ষিন পার্শ্বে অবস্থিত এই রেনু-পোনা উৎপাদনের বড় হ্যাচারীটি। হ্যাচারীর পূর্বদিক করা হয়ে নান্দনিক প্রবেশ পথ। এই হ্যাচারীতে রয়েছে ১০০ টি হাউজ, ৭০ টি বোতল ও তিনটি ওভার ট্যাঙ্ক। জানা গেছে বড় বড় প্রায় ৪০ টি পুকুরে আমীষ জাতীয় মাছের চাষ করেন এই গুনী মাছচাষি। তার নিজস্ব নার্চারী থেকে পোনা নিয়ে পুকুর গুলোতে মাছচাষ করা হয়। তার নিজস্ব পুকুরে মাছচাষ করার পরেও বিভিন্ন জেলার মাছচাষিদের কাছে প্রতি সিজিনে উন্নতমানের প্রায় ৪ কোটি পোনা বিক্রি করেন। হ্যাচারীতে উৎপাদিত প্রায় ২০ হাজার কেজি রেনু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তিনি সরবরাহ করে থাকেন। তার হ্যাচারীতে স্থায়ী কর্মচারী সংখ্যা ১০ জন। আর অস্থায়ীভাবে হ্যাচারীতে ও মাছচাষের জন্য তার রয়েছে ১০ জন কর্মচারী। জানা গেছে আলহাজ্ব মোঃ শফিকুল ইসলাম নিজ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার মাছচাষিদের সব সময় ভালো পরামর্শও দিয়ে থাকেন। তিনি সামাজিক কাজে ও এলাকার সকল ভালো কাছে সব সময় সহযোগীতাও করেন। নিজ এলাকাসহ বিভিন্ন জেলার মাছচাষিদের মতে রেনু-পোনা ব্যবসায়ীদের মধ্যে শফিকুল ইসলামের সততা প্রশংসার দাবীদার। আলহাজ্ব মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, অঅমি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করি যাতে ছোট-বড় সকল মাছচাষিই সাফল্যের মুখ দেখে।

No comments

Leave a Reply

nineteen − 8 =

সর্বশেষ সংবাদ