Menu

কাহালুর বেতার কেন্দ্রে ৪২ বছরেও নিজস্ব অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু হয়নি

মুনসুর রহমান তানসেন কাহালু থেকেঃ উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বগুড়ার কাহালু বেতার কেন্দ্রে দীর্ঘ ৪২ বছরেও নিজস্ব অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু হয়নি। প্রাচীন পুন্ড্রনগরী বগুড়া জেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে কাহালু উপজেলার দরগাহাটে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের দক্ষিন পাশে এই বেতার কেন্দ্রটি অবস্থিত।

১৯৮৮ সালে ১০০ কিলো ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এই বেতার কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, উত্তরাঞ্চলে যে, কয়টি বেতার কেন্দ্র রয়েছে, তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশী ক্ষমতা সম্পন্ন বেতার কেন্দ্র। বাংলাদেশে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ৫টি বেতার কেন্দ্রের মধ্যে একটি এই বেতার কেন্দ্র।

এই কেন্দ্রের ফ্রিকোয়েন্সি ৮৪৬ কিলোহার্জ ও তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ৩৫৪.৬০ মিটার। এখানে বর্তমানে প্রকৌশল ও প্রশাসনিক শাখা রয়েছে। এই বেতার কেন্দ্রে রয়েছে ট্রান্সমিটার, জেনারেটর ও এসটিএল। ২৫ একর জমির উপর ৮ কোটি ৫১ লাখ ৬ হাজার টাকা ব্যায়ে নির্মিত হয় এই বেতার কেন্দ্রটি। খুবই নিড়িবিলি পরিবেশে বর্তমানে এই বেতার কেন্দ্রে কর্মরত রয়েছেন ৩২ জন কর্মকর্তা/কর্মচারী।

সিকিউরিটির দায়িত্বে রয়েছেন ১২ জন পুলিশ ফোর্স। এই বেতার কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গ বেতার কেন্দ্র রূপে সম্প্রচারে যেতে না পারায় এখানে কর্মরতরা অনেকটা অলস সময় কাটাচ্ছেন।

তারা শুধু মাত্র রাজশাহী বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান গুলো এসটিএল এ নিয়ে, তা ট্রান্সমিটারে পার ক’রে প্রচার করে করছেন মাত্র। হচ্ছেনা প্রতিভার বিকাশ শিল্প-সংস্কৃতির পুণ্যভুমি প্রাচীন পুন্ড্রনগরী বগুড়া জেলার শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও কলাকুশলীদের।

এই জনপদে রয়েছে ইতিহাস খ্যাত পুরাকৃর্তির বহু নিদর্শন। সেই পুরাকৃর্তির নিদর্শনের শিকড়ের সন্ধানে এখানকার অসংখ্য শিল্পী, সাহিত্যিক, নাট্যজন, সংস্কৃতিজন, সাংবাদিক, কলাকুশলীরা।

এই অঞ্চলের নিজস্ব সংস্কৃতি ও পৌরাণিক ঘটনাবলী তারা তুলে ধরছেন লিখনী মাধ্যমে ও শিল্পের আঙ্গিকে। প্রাচীন পুন্ড্রনগরীকে ঘিরে লেখা হয়েছে নাটকের পান্ডুলিপি, গল্প, গান, জারী, পালা গানসহ অনেক কিছু। এগুলো জনসম্মুখে পরিবেশন করা হলেও রেকর্ড বা সংরক্ষিত হচ্ছেনা কোনভাবেই।

উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এই প্রেরণ কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গ বেতার কেন্দ্র রূপে ও নিজস্ব অনুষ্ঠান সম্প্রচার বঞ্চিত থাকায় পিছিয়ে পড়ছেন এই অঞ্চলের শিল্পী, কলাকুশলী, নাট্য-সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাংবাদ কর্মীরা। যারফলে এই বেতার কেন্দ্রটিকে পূর্ণাঙ্গ বেতার কেন্দ্র করার দাবীতে কয়েক বছর ধরেই আন্দোলন করে আসছে। স্বারকলিপি দেওয়া হয়েছে উর্ধতন কতৃপক্ষকে।

এই বেতার কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু হলে বিকশিত হবে এই অঞ্চলের শিল্প-সংস্কৃতি। এখানে নিজস্ব অনুষ্ঠান রেকর্ডিং করে সম্প্রচার করা হলে সংরক্ষিত হবে এই অঞ্চলের প্রতিভাবানদের সৃষ্টিশীল কর্ম।

বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক নাট্যজন তৌফিক হাসান ময়না জানান, এই বেতার কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গ বেতার কেন্দ্র হিসেবে নিজস্ব অনুষ্ঠান সম্প্রচারে গেলে এই অঞ্চলের শিল্পী, কলাকুশলী ও সংবাদ কর্মীরা তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে। অনেকের জন্য সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান। উপকৃত হবেন এই অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ।

বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান জানান, এই অঞ্চলের সকল শিল্পীদের প্রাণের দাবী কাহালু বেতার কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে নিজস্ব অনুষ্ঠান সম্প্রচার করুক।

কাহালু বেতার কেন্দ্রের সহকারি প্রকৌশলী এস, এম রফিকুল ইসলাম জানান, পূর্ণাঙ্গ বেতার কেন্দ্র করতে হলে এখানে প্রয়োজন এফএম ট্রান্সমিটার, প্রচার ভবন ও শিল্পীদের জন্য আবাসন সুবিধা। এখানে থাকবে স্টুডিও, অনুষ্ঠান শাখা ও নিউজ শাখা।

কাহালু বেতার কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী শহিদুর রহমান জানান, পূর্ণাঙ্গ বেতার কেন্দ্র করার জন্য যা যা প্রয়োজন সেই প্রস্তাবনা আমরা দিয়েছি। আমাদের প্রস্তাবনা বিবেচনায় নিয়ে এই বেতার কেন্দ্রসহ ৬ টি বেতার কেন্দ্রের প্রকল্প তৈরীসহ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

No comments

Leave a Reply

twelve − six =

সর্বশেষ সংবাদ