Menu

কাহালুর যোগীর ভবন প্রাচীন আশ্রম ও মন্দির সংস্কারের অভাবে শ্রীহীন হয়ে পরেছে

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (মুনসুর রহমান তানসেন, কাহালু বগুড়া): প্রাচীন পুন্ড্রনগরী বগুড়া জেলার রয়েছে নানান ইতিহাস ঐতিহ্য। প্রাচীন পুন্ড্রনগরী মহাস্থানগড় ও তার আশে-পাশের বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে প্রাচীন সভ্যতার বহু নিদর্শন।

এক সময় এই জনপদে ছিলো নানান বর্ণের মানুষের পদচারনা। বগুড়া জেলার প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন গুলোর মধ্যে একটি অন্যতম কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নের যোগীর ভবনে অবস্থিত প্রাচীন শ্রী শ্রী অনাদি শিব লিঙ্গ মহাদেব যগী-ঋৃষীর আশ্রম ও মন্দির।

এই আশ্রম ও মন্দির কালের বিবর্তনে সংস্কারাভাবে শ্রীহীন হয়ে পড়লেও এখনো তা কালের নীরব সাক্ষী হয়ে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে। আশ্রম ও মন্দির গুলো জরাজীর্ণ হলেও এর নির্মাণ শৈলী ছিলো খুবই উচুমানের। বগুড়ার ইতিহাসে পাওয়া যায়, বগুড়া থেকে সাত মাইল উত্তর-পশ্চিমে এবং মহাস্থান থেকে ৪ মাইল দক্ষিন-পশ্চিমে যোগীর ভবনে ৮০ বিঘা ভূমির উপর নাথ স¤প্রদায়ের শৈব সন্ন্যাসীদের আবাসিক এলাকা ছিলো।

যোগীর ভবনের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুলো একটা প্রাচীর বেষ্টনীর মধ্যে অর্থাৎ মাঠের মধ্যে দক্ষিন-পশ্চিম কোণে অবস্থিত। এখানে রয়েছে একটি আশ্রম, চারটি মন্দির, কানচ কূপ, একটি ইঁদারা, ধর্মটুঙ্গী। ধর্মটুঙ্গীর মধ্যে রয়েছে অগ্নি কুন্ডলী।

আশ্রম ও মন্দিরের পার্শ্বে রয়েছে সিদ্ধি পুকুর। ধর্মটুঙ্গীর দেয়ালের গায়ে ৮৮৪, ১১১৩ ও ১১১৯ লেখা রয়েছে। ওই লেখা থেকে অনুমান করা হয় আশ্রম ও মন্দিরের স্থাপত্য কাল ৮৮৪ খ্রিষ্টাব্দ। সম্ভবতঃ পরতর্তি সাল, আশ্রম ও মন্দিরের সংস্কার সাল উলে¬খ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রবীণজনদের মতে নাথপন্থি কানফোঁট শৈব সনাতন ও অগ্নি উপাসক সাধু গণের সাধনার পীঠস্থান ছিলো যোগীর ভবন আশ্রম ও মন্দির।

থানীয় লোকজনের মতে ভারত বিভক্তির আগ মুহুর্ত পর্যন্ত এই আশ্রম ও মন্দিরে ভারত, নেপাল, ভূটানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে দলে দলে সাধু-সন্ন্যাসীরা এখানে আসতেন আরাধনার জন্য। এই আশ্রমের ধর্মটুঙ্গীর ভিতর আগুনের কুন্ডলী সামনে রেখে ধ্যান-সাধনায় মশগুল হতেন তারা। এখানে যারা আসতেন তাদের মধ্যে বেশীর ভাগ মানুষই সংসার ধর্মে পা রাখেনি।

তারা মানব জনম পূর্ণ করতে ধ্যান-সাধনার জন্যই এখানে আসতেন। কথিত আছে মসনা দেবীর অভিসম্পানে বাসর রাতে সর্প দংশনে লক্ষিনদার মারা যায়। এরপর বেহুলা তার স্বামীকে ভেলায় ভাসিয়ে এই মন্দিরের সিদ্ধির পুকুরে আসে।

পরে বেহুলার মুখে তার স্বামীর মৃত্যুর কাহিনী শোনে সেখানকার নেতাই ধুপনী। নেতাই ধুপনীর পরামর্শে জঙ্গলের গাছ-গাছরা আর কানচ কুপের পানি দিয়ে বেহুলা তার মৃত স্বামী লক্ষিনদারের জীবন ফিরে পায়। তবে এসব কথার কোনো ভিত্তি না থাকলেও এলাকায় জনশ্র“তি রয়েছে।

স্থানীয়রা তাদের পুর্ব-পুরুষদের কাছে কল্প কাহিনী মত বেহুলা-লক্ষিন্দারের গল্প শুনে আসছেন। বিভিন্ন সুত্রে পাওয়া তথ্যমতে এই প্রাচীন আশ্রম ও মন্দিরে বার মাসে তের পার্বন হত। সেই পার্বন উপলক্ষে এখানে সকল বয়সের মানুষের সমাগম ঘটতো।

কালের বিবর্তনে এখানে আগের মতো আর নেই মানুষের কোলাহল। আশ্রম ও মন্দিরের নেই সংস্কার। আশ্রম ও মন্দিরের সম্পত্তি যে, যার মতো করে ভোগ-দখল করছে। আর আশ্রম ও মন্দিরের জন্য কিছুই হচ্ছেনা। প্রতœতত্ত¡ বিভাগের একটি সাইন বোর্ড সেখানে লাগানো থাকলে আশ্রম ও মন্দির গুলো রক্ষনা-বেক্ষনে কাজের কাম কোনটায় হচ্ছেনা।

স্থানীয় লোকজনের মতে সরকাািরভাবে প্রাচীন এই আশ্রম ও মন্দিরসহ এখানে পূরাকৃর্তির যে, নিদর্শন গুলো রয়েছে তা সংস্কার এবং খনন করা হলে এখানে ঘটবে পর্যটকদের আগমন।

No comments

Leave a Reply

20 + two =

সর্বশেষ সংবাদ