Menu

কাহালুর শফিকুল ইসলাম এখন দেশী প্রজাতির রেনু-পোনা অধিকাংশ জেলায় সরবরাহ করছেন

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (মুনসুর রহমান তানসেন, কাহালু): মাছের রেনু-পোনা উৎপাদনে দু-বার দেশ সেরা হয়ে জাতীয় স্বর্ণ ও রৌপ্য প্রদক পেয়েছেন কাহালুর বিবিরপুকুর বাজারের মাছচাষি আলহাজ্ব মোঃ শফিকুল ইসলাম। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি এখন দেশী প্রজাতি মাছ চাষ ছড়িয়ে দিচ্ছেন দেশের আনাচে-কানাচে। তার হ্যাচারীতে উৎপাদিত দেশী প্রজাতি মাছের রেনু-পোনা সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের অধিকাংশ জেলায়। উপজেলা মৎস্য অফিস ও স্থানীয় মাছচাষির মতে কঠোর পরিশ্রম, সততা ও অভিজ্ঞতা শফিকুলকে অনেক দুর পৌছে দিয়েছে। অনেকের মতে শফিকুলের দেখানো পথ ধরেই এখানে প্রায় বিলুপ্ত হওয়া দেশী প্রজাতি মাছচাষ অনেকেই শুরু করেছেন। তথ্যমতে ৪/৫ বছর আগে খাদ্য মুল্য বেশী, মাছের বাজার মুল্য কমসহ নানাবিধ সমস্যায় এখানে অধিকাংশ মাছচাষি কিছুটা লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। সেই সময় শফিকুল ইসলাম রেনু-পোনা উৎপাদন করে চাষিদের দেশী প্রজাতির মাছচাষে বেশী করে উদ্বুদ্ধ করেন। যারফলে এখানে বিদেশী ও বাংলা মাছচাষের পাশিপাশি ব্যপকভাবে দেশী প্রজাতি মাছের চাষ শুরু হয়েছে । এদিকে শফিকুলের দেখাদেখি অত্র উপজেলার ছোট-বড় ১৭ টি হ্যাচারীর মধ্যে প্রায় সব গুলোতেই উৎপাদিত হচ্ছে দেশী প্রজাতি মাছের রেনু-পোনা। অনেকের মতে দেশী প্রজাতি মাছ চাষ ও রেনু-পোনা উৎপাদনে উত্তরাঞ্চলে শফিকুল ইসলাম অনেক বেশী এগিয়ে রয়েছেন। অপরদিকে অত্র উপজেলায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের শুরু থেকেই মৎস্য কর্মকর্তা, মাছচাষি, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তার মুখে ছিলো দেশী প্রজাতি মাছচাষে শফিকুল ইসলামের অভিজ্ঞতা ও অবদানের প্রশংসা। মৎস্য সপ্তাহের আলোচনায় উঠে আসে শফিকুল ইসলামসহ এখানকার মাছচাষি দেশের অর্থনীতিতে রাখছেন বড় ধরনের সহায়ক ভুমিকা। সংশ্লিষ্ট সুত্রমতে দেশী প্রজাতি মাছের রেনু-পোনা উৎপাদনের জন্য শফিকুলের হ্যাচারীতে রয়েছে ১০২ টি হাউজ ও প্রায় ৩০ টি বোতল। শুধুমাত্র দেশী প্রজাতি মাছের রেনু-পোনা উৎপাদনের জন্য মজুদ রাখা হয়েছে প্রায় ৩০/৩৫ মেঃটন ব্র“ড মাছ। চলতি মৌসুমে এই হ্যাচারীতে ৫ হাজার কেজি দেশী প্রজাতি মাছের রেনু উৎপাদনের ট্যার্গেট রয়েছে। এই হ্যাচারীতে কর্মরত আশরাফ আলী জানান, দেশের প্রায় সকল জেলাতে আমরা দেশী প্রজাতি মাছের রেনু-পোনা সরবরাহ করছি। তারমতে দেশী রেনু-পোনা ছাড়াও এখানে বিদেশী ও বাংলা প্রায় সকল প্রকার মাছের রেনু-পোনা উৎপাদন হয় । পাবদা, গুলসা, শিং ও মাগুড় মাছের মতো দেশী টেংড়া মাছের রেনু-পোনা উৎপাদনও আমাদের এখানে হচ্ছে। আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম জানান, মানব দেহের স্বাস্থ্যের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, তার জন্য আমরা স্বাস্থ্য সম্মতভাবে মাছের চাষ করছি। এই গুণী মাছচাষির মতে ফিড মিল গুলোতে সরকারি নজরদারী রাখা উচিত যাতে মানব দেহের ক্ষতিকারক মাছের খাদ্য তারা তৈরী করতে না পারে। তারমতে আমাদের দেশে আরো বেশী করে মাছের উৎপাদন বাড়াতে হলে সরকারি খাল, বিল, পুকুর ও জলাশ্বয় গুলো সংস্কার ও খনন করা জরুরী হয়ে পড়েছে। সরকারিভাবে দ্রুত এই প্রদক্ষেপ নিলে সরকারি রাজস্ব আয় বৃদ্ধিসহ মাছের উৎপাদন অনেক বেশী বৃদ্ধি হবে। উপজেলা সিনিয়ার মৎস্য কর্মকর্তা ইরিনা মোশুমী জানান, একজন গুণী ও অভিজ্ঞ রেনু-পোনা উৎপাদনকারী। তারমতে মাছচাষি, নার্সারী ও হ্যাচারী মালিকদের শেখার অনেক কিছু আছে এই গুণী মাছচাষির কাছে।

No comments

Leave a Reply

eleven + 8 =

সর্বশেষ সংবাদ