Menu

কাহালুর শফিকুল ইসলাম রেনু-পোনা উৎপাদনে তিনবার হলেন দেশসেরা

মুনসুর রহমান তানসেন কাহালু থেকেঃ বগুড়ার কাহালু উপজেলার লোহাজাল গ্রামের মরহুম বছির উদ্দিন মন্ডলের ছেলে আলহাজ্ব মোঃ শফিকুল ইসলাম। তিনি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বিবিরপুকুর বাজারে তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন গুণগতমানের রেনু-পোনা উৎপাদনের জন্য বিশাল হ্যাচারী।
এই শাহসুলতান-শাহজালাল হ্যাচারীতে রেনু-পোনা উৎপাদন ও পুকুরে মাছচাষের উপরেই তার সারাক্ষণ ধান-জ্ঞান। গুণগতমানের রেপু-পোনা উৎপাদনে বড় ধরনের অবদান রাখায় তিনি তিনবার দেশসেরা রেনু-পোনা উৎপাদনকারী নির্যাচিত হয়েছেন। এই সফলতায় তিনি মোট তিনবার রাস্ট্রীয়ভাবে জাতীয় পুরুস্কার পেয়েছেন।
উপজেলা মৎস্য অফিস সুত্র জানায়, গুণগতমানের রেনু-পোনা উৎপাদন ও সফল মাছচাষি হিসেবে তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অসংখ্য পুরুস্কার পেয়েছেন। তিনি প্রথম জাতীয় স্বর্ণ প্রদক পান ২০০৩ সালে। ওই সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তার গলায় স্বর্ণপ্রদকটি পড়িয়ে দেন। এরপর দ্বিতীয়বার দেশসেরা হয়ে তিনি ২০১৩ সালে জাতীয় রৌপ্যপ্রদক পান। এই জাতীয় রৌপ্যপ্রদক তার গলায় পড়িয়ে দিয়ে সম্মানিত করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার তৃতীয়বার দেশসেরা গুণগতমানের মাছের রেনু-পোনা উৎপাদনকারী নির্বাচিত হয়ে গত রবিবার রাজধানীর মৎস্য ভবনে মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ, ম রেজাউল করিমের কাছ থেকে তিনি জাতীয় স্বর্ণপ্রদক গ্রহন করেন।
জানা গেছে আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ৯০ সাল থেকে মাছচাষ ও রেনু-পোনা উৎপাদনের কাজ শুরু করেন। ওই সময় প্রশিক্ষণ না থাকায় তিনি কিছুটা লোকসানের মূখে পড়েন। লোকসানে পড়ে তিনি ধর্য না হারিয়ে মাছচাষ ও রেনু-পোনা উৎপাদনের উপর বেশ কয়েকটি প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর তিনি পুরোদমে মাছচাষ ও রেনু-পোনা উৎপাদনের কাজ শুরু করেন। কঠোর পরিশ্রম আর নিজের ইচ্ছে শক্তির মাধ্যমে তিনি উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে যান। মিনি হ্যাচারী থেকে ধীরে ধীরে তার হ্যাচারীটি অনেক বড় করেন। বর্তমানে বিশাল এরিয়া জুড়ে তার হ্যাচারী বর্ধিত করা হয়েছে।
তার এই সৌখিন ও বিশাল বিশাল দেখতে এখানে ছুটে আসেন মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন এলাকার মাছচাষি ও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। রেনু-পোনা উৎপাদন ও মাছচাষের প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেও এই হ্যাচারীটি অনেক সময় নির্বাচন করা হয়। এখানে রয়েছে প্রায় ১১০ টি হাউজ ও ৪০ টি বোতল। শুধু দেশী প্রজাতির রেনু-পোনা উৎপাদনের মজুদ রাখা হয় ৩৫ থেকে ৪০ মেঃটন ব্রæড মাছ। এছাড়াও বাংলা মাছের রেনু-পোনা উৎপাদনের জন্যেও তিনি বেশ কয়েক মেঃটন ব্রæড মাছ। তিনি নিজেও প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টি পুকুরে মাছচাষ করেন। তার উপৎপাদিত রেনু-পোনা দেশরে প্রায় অধিংকাংশ জেলাতে সরবরাহ করা হয়।
এখানে ছোট-বড় প্রায় ১৭ টি হ্যাচারী রয়েছে এবং কয়েক হাজার মাছচাষি রয়েছেন। সেই হ্যাচারী মালিক ও মাছচাষিদের অনেকেই স্বীকার করেন দেশে মাছচাষের বিকাশে শফিকুল ইসলামের বড় ধরনের অবদান রয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখছেন। হ্যাচারী মালিক থেকে শুরু করে অনেক মাছচাষিই শফিকুল ইসলামের পরামর্শ নিয়ে সফল হয়েছেন। পাল্লাপাড়া গ্রামের মাছচাষি তোতা মিয়া জানান, শফিকুল সাহেবের পরামর্শ নিয়ে মাছচাষ করে আমি অনেক ভালো সুফল পেয়েছি। তোতা মিয়ার মত অনেক মাছচাষিই বলেছেন মাছচাষে সফল হতে গেলে শফিকুল ভাইয়ের পরামর্শ নেওয়া উচিত ।
উপজেলা সিনিয়ার মৎস্য অফিসার মাহমুদা খাতুন জানান, শফিকুল ইসলাম কাহালু উপজেলাবাসীর একজন রতœ। মানুষ হিসেবেও তিনি খুবই ভালো। রেনু-পোনা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ব্রæড মাছের গুণগতমান সব-সময় ঠিক রাখেন। রেপু-পোনার গুণগতমাণ ভালো হলে মাছের উৎপাদনও ভালো হয়

No comments

Leave a Reply

thirteen − 7 =

সর্বশেষ সংবাদ