Menu

কাহালু উপজেলার দুর্নীতিবাজ প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অনিয়মে ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (কাহালু প্রতিনিধি): কাহালু উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে এখানে যারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এসেছেন তারা সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্ঠা করেছে। এখানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ধরে রাখাসহ শিক্ষার মান উন্নয়নে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরাফাত রহমান ও বর্তমান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিকুল ইসলাম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ বর্তমান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এস, এম সাওয়ার জাহান ও তার দপ্তরের কতিপয় কর্মচারীর সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে উপজেলা সচেতন শিক্ষক ও অভিভাবকরা মহা দুঃশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এস, এম সারওয়ার জাহানের অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো শিক্ষক প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধে এই দুর্নীতিবাজ শিক্ষা অফিসার অযৌতিকভাবে শান্তি মূলুক ব্যবস্থা নিয়ে সরল সাদা শিক্ষক/শিক্ষিকাকে বেকায়দায় ফেলে। যারফলে এই শিক্ষা অফিসে বসে এস, এম সারওয়ার জাহান ইচ্ছে মত বদলী বাণিজ্য, ম্যানেজিং কমিটি গঠনে অনিয়ম, বিল ভাউচারে স্বাক্ষর নিতে গেলে শিক্ষকদের কাছ থেকে নেওয়া হয় বকশিসের নামে ঘুষ। এছাড়াও গত বছর উপজেলার ১১৪ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটি বিদ্যালয়ে ৪০ হাজার টাকা করে উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়। একাধিক সুত্রে পাওয়া তথ্যমতে এই উন্নয়ন মূলুক কাজ শেষে বিল ভাউচারে স্বাক্ষর নিতে গেলে শিক্ষা অফিসারকে দিতে হয়েছে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন। নাম না প্রকাশের শর্তে এক শিক্ষিকা জানিয়েছে আমি সিনিয়ার হওয়ার পর এই শিক্ষা অফিসার দুর্নীতির মাধ্যমে আমার জুনিয়ারকে পদায়ন করেছে। নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক শিক্ষক জানিয়েছে বকশিস ছাড়া কোনো ফাইলই এই শিক্ষা অফিস থেকে স্বাক্ষর হয়না। বকশিস বা শিক্ষা অফিসারের কথামত না চললে এই শিক্ষা অফিস থেকে শিক্ষকরা নানাভাবে হয়রানীর শিক্ষার হয়। এছাড়া একজন শিক্ষক ও একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রনালয়, সচিবালয় সহ বিভিন্ন দপ্তরে এই শিক্ষা অফিসার এস, এম সারওয়ার জাহানের ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়ন তুলে ধরে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শান্তির দাবী জানিয়ে আবেদন করেন। এই দুটি আবেদনের মধ্যে একটিতে ৩৩ টি ও অপরটিতে ২৯ টি অভিযোগ এস, এম সারওয়ার জাহানের বিরুদ্ধে তুলে ধরা হয়। এছাড়াও স্থানীয় একাধিক দৈনিক পত্রিকায় এস, এম সারওয়ার জাহানের নানা ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র প্রকাশ হয়েছে। প্রতিনিয়িত তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ উঠলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়না কেন এমন প্রশ্ন ঘোরপাক খায় অনেকের মধ্যে। জানা গেছে ২০১৫ সালে ১ জুলাই থেকে এস, এম সারওয়ার জাহান এই শিক্ষা অফিসে কর্মরত রয়েছেন। একটি অফিসে ৩ বছরের বেশী সময় কোনো কর্মকর্তার থাকার কথা নয়। অথচ তিন বছরের অধিক সময় ধরে প্রতিনিয়ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করে কোন খুঠির জোড়ে এস, এম সারওয়ার জাহান এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছেন এমন প্রশ্ন এখন অনেকের মনে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এস, এম সারওয়ার জাহান এর কাছে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত তার বিরুদ্ধে সংবাদ ও বিভিন্ন দপ্তরে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ সম্পর্কে কথা বলতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলে এগুলো বিষয়ে দু-বার তদন্ত হয়েছে। তদন্তের রিপটে কি পাওয়া গেছে জানতে চাইলে তিনি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন যে তদন্ত করেছে তার কাছে গিয়ে শুনুন। এদিকে এই শিক্ষা অফিসে এসে নানাভাবে হয়রানীর শিক্ষার ভোক্তভোগীরা এই শিক্ষা অফিসারের বিষয়ে সঠিকভাবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ ও মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন।

No comments

Leave a Reply

2 × four =

সর্বশেষ সংবাদ