Menu

গাবতলীতে কাঠের সাঁকোয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুই উপজেলার কয়েক হাজার মানুষের চলাচল

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (আমিনুর ইসলাম): বগুড়ার গাবতলীতে স্থানীয় সুখদহ নদীতে একটি ছোট ব্রিজের অভাবে দুই উপজেলার কয়েক হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাবাসী বিকল্প হিসাবে সেখানে কাঠের ব্রিজ তৈরী করে ঝুকিনিয়ে চলাচল করছে।

জানাগেছে, গাবতলী উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের বুরুজ পুর্বপাড়া এলাকায় ও পার্শ্ববর্তী সারিয়াকান্দী উপজেলার নারচি গ্রামের পশ্চিমে অবস্থিত স্থানীয় সুখদহ নদী বয়ে গেছে। ৬৫ মিটারের একটি ব্রিজের অভাবে প্রতিদিন নারচি ও বুরুজসহ আশপাশ গ্রামের কয়েক হাজার লোক মাঠে ও শহরে আসা যাওয়া করে।

কাঠের ব্রিজের পুর্বপার্শ্বে সারিয়াকান্দি উপজেলা থেকে একটি পিচঢালা পাকা সড়ক এসে সংযুক্ত হয়েছে। নদীতে পাকা ব্রিজ না থাকায় রিকশা ভ্যান, যন্ত্র চালিত কোন যানবাহন বা মালামাল পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছেনা। ববুরুজ গ্রামের কৃষকের কয়েক হেক্টর জমি রয়েছে ব্রিজের পুর্বপার্শ্বে।

হালচাষ করতে গরু ও পাওয়ার টিলার এবং উৎপাদিত শষ্য সামগ্রী আনানেয়া ওই ব্রিজের উপর দিয়ে খুব ঝুকিপুর্ন। সে-কারনে তাদেরকে বিকল্প পথে দুর দিয়ে ঘুরে আসতে হয়। কোন রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার ক্ষেত্রেও রোগীর স্বজনদের বিরম্বনায় পড়তে হয়। ফলে ১০ মিনিটের রাস্তা ঘুরে আসতে হয় ১ ঘন্টায়।

এলাকার কৃষক আনিছার রহমান (৭০), ফুল মিয়া (৬৫), গৃহবধু রোমেনা বেগম (৬০), আইরিন নাহার (৪৫) জানান, বুরুজ সুখদহ নদীতে একটি ছোট ব্রিজের অভাবে আমারদের ও পার্শ্ববর্তি সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ঝুকিপুর্ন কাঠের ব্রিজ দিয়ে চলাচল ও মালামাল আনা নেয়া খুবই ঝুকিপুর্ন। রেলিং না থাকায় কোনমতে আমরা পায়ে হেটে ব্রিজ পারাপার হই। আমাদের এধরনের দুর্ভোগ দেখে স্থানীয় চেয়ারম্যান এস এম লতিফুল বারী মিন্টু ও ইউপি সদস্য মোঃ মহিদুল ইসলাম টুনু ব্যাক্তিগত উদ্যোগে কয়েক বছর আগে এই কাঠের ব্রিজ তৈরী করে দিয়েছেন। প্রতিবছর রোদ বৃষ্টিতে কাঠ গুলো নষ্ট হয়ে যায়। তখন আরো ঝুকিতে পড়তে হয়।

স্থানীয় এলাকাবাসী আরো জানায়, আমাদের কৃষিপন্যগুলো হাট বাজারে নিতে না পারায়, সেগুলো কমদামে ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করতে হয়। ফলে ফসলের খরচ উঠেনা আমাদের লোকশান গুনতে হয়। তারা সুখদহ নদীতে দ্রুত একটি পাকা ব্রিজ দাবী করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ মহিদুল ইসলাম টুনু জানান, অনেক এমপি এখানে ব্রিজ তৈরী করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গাবতলী অফিসে যোগাযোগ করেছি। ইঞ্জিনিয়ার মাপযোগ করে নিয়ে গেছেন। তিনি বুরুজ গ্রামে সুখদহ নদীতে ব্রিজের জন্য স্থানীয় এমপি রেজাউল করিম বাবলুর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এব্যপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গাবতলী অফিসে যোগাযোগ করা হলে, প্রকৌশলী রিপন কুমার সাহা জানান, নেপালতলী ইউনিয়নের বুরুজ গ্রামে অবস্থিত সুখদহ নদীতে একটি ৬৫ মিটার ব্রিজের মাপযোগ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হয়ে আসলেই সেখানে দ্রুত ব্রিজ তৈরীর কাজ শুরু হবে।

No comments

Leave a Reply

twenty − fourteen =

সর্বশেষ সংবাদ