Menu

গাবতলীতে গণপিটুনির শিকার ৪যুবক ছিলো ছিনতাইকারী, থানায় মামলাঃ গ্রেফতার ১৩

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (গাবতলী প্রতিনিধি): বগুড়ার গাবতলীতে ছেলে ধরা সন্দেহের ঘটনা ও পুলিশকে আহত করার দায়ে গতকাল মঙ্গলবার ২৩ জুলাই এস আই সুজাউদৌলা বাদী হয়ে এজাহার নামীয় ২২ জনসহ অজ্ঞাত ১২‘শ জনকে আসামী করে থানায় মামলা হয়েছে। ছেলে ধরা সন্দেহে আটক ৪ জন ঢাকা থেকে মিঠা পুকুর যাওয়ার কথা বলে জ্বালিয়ে দেয়া পিকাপভ্যানটি ছিনতাই করে এনে মালিকের কাছে মুক্তিপনের দরাদরি করছিল। গ্রেফতারকৃত ২২ জনকে গতকাল আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম হোসেন জানান, ২২ জুলাই সোমবার বিকেলে উপজেলার দুর্গাহাটা এলাকায় ছেলে ধরা সন্দেহে ৪ সন্দেহভাজন যুবককে স্থানীয় জনতা আটক করে গনধোলাই ও তাদের পিকাপভ্যানগাড়ী আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। পুলিশ গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করলে তারা পুলিশের উপর ইট পাটকেল ও ঢিল ছুড়ে। এঘটনায় থানার কনষ্টেবল সাগর মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হয়ে আহত হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পুলশ ঘটনার স্থর থেকে ২২ জনকে গ্রেফতার করে। মডেল থানার এস আই সুজাউদৌলা বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত ২২ জনসহ অজ্ঞাত ১ হাজার থেকে ১২শত জনকে আসামী করে মামলা করেছে। ছেলে ধরা সন্দেহে আটক গাবতলী থানার মহিষাবান ইউনিয়নের কর্নিপাড়া গ্রামের হযরত আলীর প্রাং’র ছেলে ফাহিম হোসেন (২৫), ধুনট থানার পার ধুনট মধ্যপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে লুৎফর রহমান (৩৮), একই থানার জোড়শিমুল গ্রামের নাজির হোসেনের ২ ছেলে দুলাল হোসেন (২৫) ও নিয়ামুল হোসেন (৩৭)। তারা ২১ জুলাই ঢাকা রুপগঞ্জ রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা আবু মুসা মিয়ার পিকাপভ্যান রংপুর মিঠাপুকুর যাওয়া আসা জন্য ১৩ হাজার টাকা ভাড়া করে। পথিমধ্য কৌশলে ড্রাইভারকে ফেলে পিকাপভ্যানটি ছিনতাই করে গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা বাজার এলাকায় নিয়ে আসে। সেখানে থেকে মোবাইল ফোনে পিকাপভ্যান মালিককে জানায় তার পিকাপভ্যান গাড়ি ছিনতাই হয়েছে। ছাড়াতে হলে মোটা অংকের টাকা লাগবে। ছিনতাইকারী ওই ৪ যুবক সারাদিন ফোনে মুক্তিপনের দরাদরি করে পিকাপভ্যান মালিকের সাথে। দুর্গাহাটা বাজারের লোকজন পিকাপভ্যান নিয়ে অজ্ঞাত লোকের ঘোরাফেরা দেখে তাদের ছেলে ধরা সন্দেহ তাদেরকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কথা এলোমেলো হওয়ার স্থানিয় জনতা তাদের ছেলে ধরা বলে গনধোলাই দেয় ও পিকাপভ্যানে আগুন ধরিয়ে জ্বালিয়ে ভস্মিভুত করে। এসময় আশপাশের গ্রামে ছেলে সন্দেহে ৪ জন আটকের সংবাদ পৌঁছিলে কয়েকশত লোকজন গড়ো হয়। মারা যাওয়ার আংশকায় চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মিঠুর সহায়তায় এলাকাবাসী জনতার কবলথেকে ৪ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে আটক রাখে। গাবতলী উপজেলা নির্বাহি অফিসার আব্দুল ওয়াছে আনছারী, সহকারি পুলিশ সুপার (গাবতলী সার্কেল) সাবিনা ইয়াসমিন, ওসি মোঃ সেলিম হোসেন ঘটনার স্থানে গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্তকরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওই ৪ জনকে উদ্ধার করে থানায় আনে। পিকাপভ্যান মালিক আবু মুসা মিয়া বাদী হয়ে থানায় ৪ জনের নামে ছিনতাই মামলা করেছেন বলে থানাসুত্রে জানা গেছে।

No comments

Leave a Reply

four × one =

সর্বশেষ সংবাদ