Menu

গাবতলীতে প্রতিবন্ধি রাজু পরিবার নিয়ে জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছেঃ সরকারী ঘর পেতে চায় সে

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (আমিনুর ইসলাম, গাবতলী বগুড়া): বগুড়ার গাবতলীতে অসহায় সহায় সম্বল ভূমিহীন প্রতিবন্ধি রাজু মিয়া সরকারি দল করলেও তার সংসার চলে অভাব অনটনে। সে আওয়ামী যুবলীগ ও বর্তমানে ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে আ’লীগ সরকার দেশ পরিচালনা করছেন। অনেক নেতাকর্মীর আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

উন্নতি হয়নি ত্যাগি ও আ’লীগকে ভালাবাসা প্রতিবন্ধি রাজু মিয়ার। সে এখনো মোবাইল মেরামত করে যা উপার্জন করে তাই দিয়ে সংসার, স্ত্রী, সন্তান ও দলের সভা সমাবেশে খরচ করেন। পিতার পৈত্তিক সুত্রে পোনে ২ শতাংশ জমি তার ভাগে জুটেছে। সেখানে একটি পুরানা জরাজীর্ণ টিনের চালার ঘর রয়েছে। তার ঘরের উত্তর পাশের বেড়া পাশের বাড়ির অন্যের ঘরের। জানালা, দরজা ভাঙ্গা। জরাজীর্ণ ঘরে স্ত্রী সুরভী বেগম ও এবার জেএসসি পরীক্ষার্থী ছেলে সিয়ামকে নিয়ে বসবাস করে প্রতিবন্ধি রাজু মিয়া। ঝড় তুফান এলে আতঙ্কে থাকেন, কখন বাতাসে তার ঘর উড়ে নিয়ে যায়। ঝড় তুফানে আল্লাহকে স্বরন করা ছাড়া উপায় থাকেনা তাদের। আ’লীগ সরকার অসহায় গরীবদের জন্য সারাদেশে নতুন ঘর দিচ্ছে। দিক বিবেচনায় যুবলীগ ও শ্রমিকলীগের সাথে জড়িত অসহায়, গরীব ভুমিহীন রাজু মিয়া ঘর পাওয়ার দাবিদার। তার ভাগ্যে জোটেনি কোন সরকারি সাহায্য সহযোগীতা। সরকার তাকে এটটি ঘর দিলে সে উপকৃত হবে বলে এলাকার মেম্বার সোহেল রানা জানায়।

উপজেলার দুর্গাহাটা ইউনিয়নের বৈঠাভাঙ্গা উত্তর পাড়া গ্রামের মৃত সাহাজ্জল প্রাং’র ছেলে প্রতিবন্ধি রাজু মিয়ার সাথে কথা হয়। সে জানায়, আমি দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে দুর্গাহাটা ইউনিয়নের শ্রমিক লীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। আ’লীগকে ভালবাসি, সে জন্য দলকরি। সংগঠনের সভা সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে ৬ বার আমি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছি। এখন আমি প্রতিবন্ধি। ঠিকমত ভারি কাজ করতে পারিনা। দুর্গাহাটা বাজারে ভুমি অফিসের সরকারি সামান্য জায়গায় একটি টিনের ষ্টলে মোবাইল মেরামত করি। দিন শেষে ১’শ থেকে ২’শ টাকা উপার্জন হয়। তা দিয়ে চাল, ডাল, লবন, তেল কিনে সন্ধ্যায় বাড়িতে যাই। ইউনিয়ন পর্যায়ের বাজার প্রতিদিন ঠিকমত কাজ হয়না। মাসের বেশি ভাগ দিন অর্ধাহারে অনাহারে থাকতে হয়।

তিনি আরো জানান, আমার একটি ছেলে আছে সিয়াম, সে এবার জুনিয়ন সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা দেবে। তাকে ভালো কিছু খেতে পড়তে দিতে পারিনা। অভাব অনটন লেগেই থাকে আমার। সদলের সভা সমাবেশে ডাক পেলে নিজের খরচেই সেখানে চলে যাই। কারো কাছে হাত পাতাই না। কারন আমি আ’লীগে ভীষন ভালোবাসি। আমি ভুমিহীন বাড়ির পোনে ২ শতাংশ জমি ছাড়া মাঠে কোন জমিনেই। সরকার গরীব অসহায় ভুমিহীনদের ঘর দিচ্ছে। আমাকে একটি ঘর বা বাড়ি তৈরি করে দিলে ভীষন উপকৃত হতাম। জরাজীর্ণ ঘরে স্ত্রী, সন্তান নিয়ে বসবাস করতে ভীষন কষ্ট হয়। ছেলে বড় হয়ে উঠছে, তার একটি আলাদা ঘরের প্রয়োজন। আমার সামর্থ নেই যে, তাকে একটি ঘর তৈরী করে দেব।

এব্যপারে দুর্গাহাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মিঠু জানান, রাজু আ’লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ ও শ্রমিকলীগের একনিষ্ঠ কর্মী। সে অসহায় সরকারি ঘর পাওয়ার মত। এই ইউনিয়নে সরকারি ঘর এলে তাকে ঘর দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমরা এধরনের কোন সংবাদ পাইনি। সে আমাদের বরাবর আবেদন করলে, তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সে যে ক্যটাগড়িতে পড়ে, সে অনুযায়ী ঘর নির্মান করে দেয়ার চেষ্টা করা হবে।

No comments

Leave a Reply

5 × 2 =

সর্বশেষ সংবাদ