Menu

গাবতলীতে ভাস্কার্য শিল্পী সঞ্জয় কুমারের নিপুন কাজে মুগ্ধ এলাকাবাসী

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (আমিনুর ইসলাম): বগুড়ার গাবতলীতে পরিবার পরিজন নিয়ে অতিকষ্টে দিনানিপাত করছেন ভাস্কার্য শিল্পি সঞ্জয় রায়। বঙ্গবন্ধুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও কবি সাহিত্যিকদের নিপুরভাবে ভাস্কার্য তৈরী করা হচ্ছে পল্লি এলাকায়। অর্থিক সহায়তা পেলে তিনি দেশের সুনাম বয়ে আনতে পারে ভাস্কার্যের মাধ্যমে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, গাবতলী উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের রহিমার পাড়া গ্রামের মৃত সুধির চন্দ্র রায়ের ছেলে ভাস্কার্য শিল্পি সঞ্জয় রায় (৪১) ছোট বেলা থেকেই মাটিতে বালিতে বিভিন্ন প্রকার ছবি অর্কন করতো। এস এস সি পরীক্ষা দিয়ে কৃতকার্য হতে পারেনি সে। এর মধ্যই সংসার নামক দায়িত্ব তার ঘাড়ে চেপে বসে।

পরিবার পরিজন নিয়ে ২ বিঘা জমির ফসল আর ভাস্কার্য তৈরীর টাকা দিয়ে তার সংসার চলা এখন দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংসারে ২ ছেলে, স্ত্রীসহ ৪ জনের পরিবার।

অভাব অনটনের সংসারে সঞ্জয়ের থেমে নেই ভাস্কার্য তৈরী করা। নেশা থেকে পেশায় পরিনত হয়েছে সঞ্জয়ের ভাস্কার্য তৈরী করা।

তিনি নিপুনভাবে তৈরী করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কবি বিবেকান্দ, ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, শরৎ চন্দ্র, মাইকেল মধু সুদন দত্ত, সুব্রত ভট্রচার্জ, কাজী নজরুল ইসলাম ও রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাস্কার্য।

সিমেন্ট বালিতে প্রাথমিকভাবে ভাস্কার্যের সুচনা তৈরী করে। তাতে রং ও তুলিতে নিপুনভাবে ফুটিয়ে তোলেন সে সব ব্যাক্তিদের অবয়ব (মুখ মন্ডল)। মুজিব বর্ষে সঞ্জয় রায় তার ছেলে সজিব রায় ১০০টি মুজবের প্রতিকৃকি অর্কন করেছেন।

প্রতিষ্ঠারিক বা আর্ট স্কুল কলেজে না পড়েও তিনি সুদক্ষভাবে ভাস্কার্য তৈরী করতে পারেন। ভাস্কার্য শিল্পি সঞ্জয় রায় জানান, তার অভাব অনটনের কারনে তার প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারছেন না।

তিনি গাবতলী মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের প্রাচিরের ভেতর বাহিরে, ডাঃ বিপুল চন্দ্র রায়ের তৈরীকৃত মাতৃ সরোবরে ভেতরসহ সারিয়াকান্দি দিঘলকান্দি পার্কের মধ্য বিভিন্ন ভাস্কার্য ও আলপনা তৈরী করেছেন।

তিনি সরকারীভারে সহযোগীতা পেলে আরো ভালো মানের ভাস্কার্য তৈরী করার আশা পোষন করেছেন। সঞ্জয় রায় তার বাড়ির মধ্য একটি ঘরে মিনি যাদুঘর করেছেন। সেখানে কবি, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক নেতা নেত্রী, বাংলাদেশের মানচিত্র ও পতাকা তৈরী করে রেখেছেন।

প্রতিদিন এলাকার নারী পুরুষ সেখানে ঐ সকল কারুকার্য ও ভাস্কার্য দেখতে ভীড় করছেন। ভাস্কার্য দেখতে আসা দক্ষিন নেপালতলী সবরাতলীপাড়া গ্রামের সাবেক মেম্বার, উপজেলা আ’লীগের সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নেপালতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ শহীদুল ইসলাম বাবু।

কথা হয় তার সাথে তিনি জানান, গ্রামে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা ভাস্কার্য শিল্পি সঞ্জয় রায় পৃষ্টপোষকতা ও আর্থিক সহায়তা পেলে তিনি দেশের সুনাম বয়ে আনতে পারেন। সকলে মিলে তাকে সহায়তা করা প্রয়োজন।

তিনি সঞ্জয় রায়কে বিভিন্নভাবে সহায়তা কারার আশ্বাস দেন। ভাস্কার্য দেখতে আশা, মসজিদের ঈমাম মোস্তাফিজার রহমান, শিক্ষক সুবির ঘোষসহ এলাকার পঙ্কজ কুমার সেন, চৈতন্য মজুমদার, অমলচন্দ্র রায়, সুজিত রায়, এলাকার বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষ।

তারা সঞ্জয় রায়ের কারুকার্য ও ভাস্কার্য দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। তারা সঞ্জয় রায়ের এই প্রতিভা ছড়িয়ে দিতে সরকারকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

No comments

Leave a Reply

20 − fourteen =

সর্বশেষ সংবাদ