Menu

গাবতলীতে মাতলামী করতে নিশেধ করায় বিধবার বসতবাড়ী ভাংচুর অগ্নীসংযোগঃ আদালতে মামলা

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (আমিনুর ইসলাম, গাবতলী বগুড়া): বগুড়ার গাবতলীতে বাড়ীর ভেতর ঢুকে নেশা জাতীয় দ্রব্য পান করে মাতাল অবস্থায় মাতলামী করতে বাধা দেয়ার অপরাধে নামাজরত গৃহবধুকে অসৎ উদ্দেশ্যে ঝাপটে ধরার প্রতিবাদ করায় মধ্যযুগিয় কায়দায় বসতবাড়ীতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ককটেল বিস্ফোরন ঘটিয়ে ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে দিয়েছে দুবৃর্ত্তৃরা। এঘটনায় আদালতে মামলা করা হয়েছে। এলাকাবাসী ও মামলাসুত্রে জানাগেছে, গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের চক-মড়িয়া গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের বিধবা স্ত্রী লাইলি বেওয়া বাদী হয়ে বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত-৪-এ-চলতি বছরের ৭ জানুয়ারী দায়েরকৃত মামলায় বলেছেন, ঘটনার দিনগত ২ জানুয়ারী রাত ৮ টায় একই এলাকার মৃত জোব্বার মোল্লার ছেলে আব্দুস সামাদ বাচ্চ ু(৫২) নেশা জাতীয় দ্রব্য পান করে মাতাল অবস্থায় বাদীনির বাড়ীর মধ্য ঢুকে পড়ে ও বাড়ীর অঙ্গিনায় বমি করতে থাকে। এ অবস্থা দেখে বাদীনি ঘর থেকে বের হয়ে মাতাল বাচ্চুকে টিউবয়েলে যাওয়ার কথা বললে মাতাল বাচ্চু বাদীনির পুত্রবধু নামাজরত লাভলী বেগমের ঘরে ঢুকে তাকে অসৎ উদ্দেশ্যে ঝাপটে ধরে। এসময় লাভলী বেগম মাতাল বাচ্চুকে চর থাপ্পর দিলে সে চলে যায়। পরদিন ৩ জানুয়ারী দুপুর ১২ টায় আব্দুস সামাদ বাচ্চু আগের দিনের চর থাপ্পরের প্রতিশোধ নিতে ৩০/৩৫ জনের বিভিন্ন এলাকাহতে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজনসহ রামদা-লোহার রড, লাঠিসোটা ও দেশিয় বিভিন্ন ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত বাদীনির বসত বাড়ীতে হামলা চালিয়ের মধ্যযুগিয় কায়দায় ভাংচুর, লুটপাটসহ ককটেল বিস্ফোরন ঘটিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। যাবার সময় বাদীনির বাড়ীতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়ে যায়। ৪ ঘন্টাব্যাপি তান্ডব চালিয়ে সন্ত্রাসীরা এলাকা ত্যাগকরে। এতে বাদীনির ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়। এসময় তাদের ভয়ে এলাকার সাধারন মানুষ কাছে আসতে সাহস পায়নি। সংবাদপেয়ে গাবতলী মডেল থানার এস আই জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ঘটনার স্থান পরিদর্শন করেন। সর্বস্ব হারা বিধবা লাইলি বেগম সন্তান সন্ততি নিয়ে পলিথিনের তাবু বানিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করা অবস্থায় থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেয়নি বলে আদালতে দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগ উল্লেখ করেছেন। বিস্ফোরক ধারাসহ বিভিন্ন ধারায় আব্দুস সামাদ বাচ্চুসহ নারী ও পুরুষের ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামী করা হযেছে। আদালত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন চেয়ে গাবতলী মডেল থানায় নথি প্রেরন করেছেন। আসামীরা মামলার সংবাদ জানতে পেরে বাদীনিকে মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করে। বাদীনি লাইলি বেওয়া মামলা তুলেনিতে রাজী না হওয়ায় আসামীরা পুনরায় ১২ জানুয়ারী বাদীনির পলিথিনের তাবু ভেঙ্গে দেয় ও জমিতে রক্ষিত বিভিন্ন ফলজ ও ইউক্লিপ্লিপটার্স গাছ কেটে ফেলে ৪০ হাজার টাকার ক্ষতিকরে ও বাদীনিকে তার ভিটে থেকে তাড়িয়ে দেয় বলে ১৪ জানুয়ারী আদালতে আবারো একটি দায়েরকৃত মামলা উল্লেখ করেছেন। মামলাটি এফ আই আর হিসাবে আদালত থেকে গাবতলী মডেল থানার ওসিকে নির্দ্দেস দিয়েছেন বলে বাদীপক্ষের ও এ্যাডভোকেট এস এম জাকিউল ইসলাম সোহেল মারফত থেকে জানাগেছে। এই মামলায় মিঠু মোল্লাসহ ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫/২০ জনকে আসামী করা হয়েছে। ককটেল বিস্ফোরন ঘটিয়ে বসতবাড়ী জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে গাছ কেটে ভিটে ছাড়া হয়ে গরীব অসহায় বিধবা লাইলি বেওয়া আসামীদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বাদীনি আইনশৃংখলা বাহিনীসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সার্বিক সহযোগীতা চেয়েছেন। এব্যপারে আব্দুস সামাদ বাচ্চুরর সাথে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ আস্বীকার করে বলেন, জমা জমিনিয়ে বাদীনির সাথে বিরোধ চলে আসছে।

No comments

Leave a Reply

5 × five =

সর্বশেষ সংবাদ