Menu

গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলায় লাখো মানুষের পদচারনায় মুখরিতঃ বৃহস্পতিবার বউমেলা

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (বগুড়া প্রতিনিধি): বুধবার সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হলো গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা। মাছ ও মিষ্টির জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠা এই মেলায় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছিল। মেলায় সিরাজগঞ্জের মাছ ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ বিশাল আকৃতির বাঘাইড় মাছ মেলায় নিয়ে এসেছেন। যমুনা নদীর ৮০কেজি ওজনের এই বাঘাইড়টি বিক্রি করছেন ১হাজার টাকা কেজি দরে। আর ৬০/৬৫ কেজি ওজনের জীবিত বাঘাইড় মাছ কেটে বিক্রি হচ্ছে ১২’শ থেকে ১৪’শ টাকা কেজিতে। মাছ ব্যবসায়ী সুরমান আলী যমুনা নদীর ৬৫ কেজি ওজনের একটি বাঘাইড় মাছ মেলায় নিয়ে এসেছেন। তিনিও একই দামে বিক্রি করছেন তার মাছটি। শেরপুরের মান্নান ব্যাপারীর মাছের দোকান থেকে সারিয়াকান্দির শফিকুল ইসলাম ১৫কেজি ওজনের একটি বোয়াল কিনেছেন ২২হাজার টাকায়। ক্রেতা জাহিদুল বলেন, মেলায় মাছের দাম একটু বেশী বেশীই মনে হচ্ছে। মেলায় আসা (জামাই) সোহাগ একটি বড় ব্রিগেড মাছ ক্রয় করেছেন। তিনি জানান, পছন্দের মাছ হওয়ায় দামটা একটু বেশীই নিয়েছে। এছাড়াও মেলায় ১৭কেজি ওজনের বোয়াল মাছের দাম হাকানো হয়েছে প্রতি কেজি ১৫শ টাকা, ১৫ থেকে ১৮কেজি ওজনের কাতলা মাছ ১২’শ টাকা কেজি, ৮ থেকে ১০কেজি ওজনের কাতলা মাছ ৮’শ টাকা, ১০ কেজির উপরে আইড় মাছ ১২ ’শ থেকে ১৫’শ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রুই বিক্রি হচ্ছে ৬’শ টাকা কেজি, চিতল ৪’শ টাকা কেজি, পাঙ্গাস ৩’শ টাকা কেজি, ব্রিগেড ৩’শ ৫০টাকা কেজি, ব্লাডকাপ ৭’শ টাকা কেজি, ১০কেজি ওজনের উপরে সিলভার কাপ ৪’শ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য জাতের মাছও মেলায় উঠেছে। মেলার জন্য ১০ কেজি ওজনের মাছ আকৃতির মিষ্টি তৈরী করেছেন বিশিষ্ট মিষ্টি ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ। মহিষাবান এলাকার ব্যবসায়ী লতিফের দোকানে এ মিষ্টির দাম হাকানো হয়েছে ৪ হাজার টাকা। এছাড়া ১কেজি, ২ কেজি, ৩কেজি, ৪কেজি ওজনের মিষ্টিও মেলায় পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন দামে। লতিফের মিষ্টির দোকানে ২’শ মনের বেশী মিষ্টি রয়েছে- যা তিনি মেলার দিনেই বিক্রির জন্য তৈরী করেছেন। প্রতিটি দোকানে শত শত মন মিষ্টি বেচা-কেনা হয়েছে। মেলায় মাছ, মিষ্টি, গরুর মাংস, বড়ই (কুল), কাঠ ও ষ্টীলের ফার্নিচার, কস্মেটিকসহ বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী হাট-বাজারের মতোই ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে চোখে পড়ার মতো। মেলায় লাখো মানুষের ভীর লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়াও গাবতলীর দূর্গাহাটা হাইস্কুল মাঠ, দাঁড়াইল বাজার, বাইগুনি হাটসহ বিভিন্ন বাজারে বাজারে মাছ-মিষ্টির মেলা বসেছিল। উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের গোলাবাড়ী বন্দর সংলগ্ন পোড়াদহ নামক স্থানে প্রায় ৪’শ বছর পূর্বে থেকে স্থানীয় সন্ন্যাাসী পূজা উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও স্থান পরিবর্তন করে গোলাবাড়ী বন্দরের পূর্বধারে সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানা জমিতে একদিনের জন্য মেলা বসে। মেলাটি একদিনের হলেও তিনদিন পর্যন্ত চলে। প্রতিবছর বাংলা সনের মাঘ মাসের শেষ অথবা ফাল্গুন মাসের প্রথম বুধবার মেলাটি হয়। মেলা উপলক্ষে পার্শ¦বর্তী উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয় এ মেলা প্রাঙ্গন। এ ব্যাপারে মেলার পরিচালক স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের আমিনুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলাকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে। মেলায় মেয়ে-জামাই, আত্মীয় স্বজনসহ লাখো মানুষের পদচারণা মুখরিত হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। মেলায় শিশুদের জন্য বিনোদনমূলক বিচিত্র গান, নাগোরদোলা, চরকি এবং মটরসাইকেল খেলা ছিল। গাবতলী মডেল থানার ওসি মোঃ সেলিম হোসেন বলেন, পোড়াদহ মেলাটি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্বারা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মেলা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে প্রতিবছরের মতো আজ গাবতলীর মহিষাবান ইউনিয়নের রানীরপাড়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে বউমেলা।

No comments

Leave a Reply

thirteen − four =

সর্বশেষ সংবাদ