Menu

গোবিন্দগঞ্জের লাশ দাফনের ৮দিন পর হত্যার অভিযোগ তুলে থানায় মামলা

আব্দুর রাজ্জাক, সোনাতলাঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের উজিরেরপাড়া বাইগুনী গ্রামে মৃত খোরশেদ আলমের লাশ দাফনের ৮দিন পর হত্যার অভিযোগ তুলে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। খোরশেদ আলমের মা পারুল বেগম বাদী হয়ে বড় ছেলের বউ মরিয়ম বেগমকে প্রধান আসামীকরে ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় এজাহারটি দায়ের করেন। এজাহার পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনা তদন্তে ২২ সেপ্টেম্বর ঘটনাস্থলে আসেন।

সরেজমিনে ও এজাহার সুত্রে জানা যায়, খোরশেদের বড় ভাই গত ১০ বছর আগে জীবিকার নির্বাহের উদ্দেশ্যে দুবাই প্রবাসে পারি জমান। প্রবাসে থাকা কালীন ওয়াহাব তার পৈত্রিক বাড়ি ছেড়ে একই গ্রামের পাশ্ববর্তী নিজস্ব কবলা জমিতে বাড়ি ঘর নির্মান করেন। খোরশেদ আলম তার বড় ভাই আব্দুল ওয়াহাবের ভিন্ন বাড়িতে ভাবির সংসারে বসবাস করত। সেখানে থাকা অবস্থায় বড় ভাই আব্দুল ওয়াহাব ছোট ভাই খোরশেদকে অর্থাপার্জনের জন্য দুবাইয়ে নিয়ে যান। সেখানে আড়াই বছর চাকুরী করা কালীন উপার্জিত অর্থ তার ভাবির মরিয়ম বেগমের কাছে পাঠায়। এরপর ছুটিতে দেশে আসলে তার ভাবি তাকে আর প্রবাসে যেতে দেননি। ভাবির কথামতো খোরেশদ নিজ এলাকাতেই ইলেকট্রিক ও ইন্টারনেট সার্ভিসের কাজ করতো। দির্ঘদিন যাবৎ খোরেশদ অবিবাহিত ভাবেই ভাবির সংসারে সংযুক্ত ছিল। মৃত্যুর দুই দিন আগে খোরশেদ বিবাহ নিয়ে কথা বার্তা ও বিবাহের দিন তারিখ ধার্য্য হয়। কিন্তু বিধিবাম বিবাহের আগের রাতেই ১২ সেপ্টেম্বর দিবাগত ভোরে সোনাতলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে খোরশেদের মৃত্যু হয়। ভাবি মরিয়ম বেগম তার ছেলে মানিকসহ তাদের আত্বীয় স্বজনের নিয়ে তাড়া হুড়া করে লাশ দাফন করেন। এতে খোরশেদের মা সহ পরিবারের লোকজনের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ হলে থানায় এজাহার হয়।
এ বিষয়ে খোরশেদের মা পারুল জানান, আমার ছেলেকে বড় ছেলের বউ মরিয়ম দির্ঘদিন যাবৎ আমার আসতে দেয়নি। ছেলের বিবাহ নিয়ে সব সময় সে তালবাহানা করতো। বিবাহের আগের রাতেই ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। আমি এর সুষ্ট বিচার চাই।
এব্যাপারে ভাবি মরিয়ম জানান, ২৩ বছর যাবৎ দেবর খোরশেদকে প্রতিপালন করেছি। তাকে আমি ছোট ভাইয়ের মতোই লালন পালন করেছি, ওই রাতে সে অসুস্থ হলে ছেলে মানিক তাকে সোনাতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এতে কোন সন্দেহ নেই। এ ব্যাপারে গোবিন্দ থানা অফিসার ইনচার্জ একেএম মেহেদী হাসান জানান, বিষয়টি আমরা জেনেছি, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

No comments

Leave a Reply

5 × 5 =

সর্বশেষ সংবাদ