Menu

দুই বাংলার নাট্যোৎসবঃ সফলতা-বিষাদের মধ্যেও আতিথিয়তায় কাহালু থিয়েটারের প্রশাংসায় জাগরী থিয়েটার

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (মুনসুর রহমান তানসেন কাহালু প্রতিনিধি): অমর একুশে ফেব্র“য়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কাহালু উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনসহ কিছু সংস্কৃতি প্রেমী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগীতায় গত ২১ ও ২২ ফেব্র“য়ারি কাহালু থিয়েটার দুই বাংলার মানুষের নাট্য মিলন উৎসবটি সফলভাবে সমাপ্ত করেছে। যারা এই উৎসবকে সফল ও সার্থক করার জন্য আর্থিক সহযোগীতাসহ উৎসাহ-উদ্দিপনা দিয়েছে আমি একজন কাহালু থিয়েটারের নাট্যকর্মি হিসেবে তাদের সকলকে কৃতজ্ঞতার স্বরণ করছি। উৎসবের মাঝ-পথে আমার অবর্তমানে উৎসবের কিঞ্চিত পরিমান ক্রুটি রাখেনি যারা আসলে তারা সকলেই প্রশংসার দাবীদার। একটি বড় উৎসব আয়োজনে সফলতা, ব্যর্থতা ও নানা ধরনের বিষাদের মতো ঘটনা থাকে। তারপরেও যেমন জীবনের গতি থেমে থাকেনা তেমনি আগামীতে বাঙ্গালীর যেকোন উৎসবের গতিপথ থেমে থাকবেনা। সফলতার মাঝে বিষাদের কথা এই প্রতিবেদনে তুলে ধরে কাউকে আঘাত করার মানুষিকতা আমার নেই। আমাদের পথ প্রদর্শক আচার্য ড. সেলিম আল দীনের কথা মালা আমাদেরকে স্বরণ করিয়ে দেয় হাতের মুঠোয় হাজার বছর আমরা চলেছি সামনে। সামনের দিকে পাড়ি দিতে হবে অনন্ত পথ। সেই পথটি থাকবে পরিস্কার, ন্যায়, নীতিকতা ও সত্যের পথ। এই পথে বাধাঁ অনেক তা কেউ অনুধাবন করতে পারে আবার কেউ পারেনা। বুঝতে পারুক বা না পারুক সবাইকে নিয়ে হবে আমাদের পথচলা সমান্তরাল। প্রাচীন সভ্যতার বহু নিদর্শন রয়েছে আমাদের এই জনপদে। প্রাচীন পুন্ডনগরী বগুড়া জেলার অতি নিকটে আমাদের কাহালু উপজেলা। এই উপজেলায় নাট্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় প্রতিবন্ধকতা আছে অনেক। তারপরেও থেমে নেই কাহালু থিয়েটারের নাট্যচর্য়া। এখানে সাম্প্রদায়িক মানুষের সংখ্যাই অনেকটা বেশী। এখানে ক্রিয়াশীল কিছু মানুষ থাকলেও প্রতিক্রিয়াশীল মানুষদের সাথে মিলে-মিশে তারা একাকার। সুন্দর ও স্বচ্ছতার পথে রয়েছে তাদের নানা বাধাঁ। এই জনপদের কোমলমতি শিশুদের ফুলের সুভাষ নিতে পারেনা ঠিকমত। পরিবারের প্রতিবন্ধকতায় শিশুরা ধাবিত হতে পারেনা সাংস্কৃতিক ও নাট্যটর্যায়। তারপরেও সকল মানুষের সম্প্রীতির জন্য কাহালু থিয়েটারের তিন দশকের লড়াই। এই লড়াই চলবে আরো বহুকাল। কাহালু থিয়েটার নাট্য চর্চায় দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও পা রেখেছে। গত বছরের ৬ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরে আচার্য ড. সেলিম আল দীনের গন্থিক গণ কহে নাটকের সফল মঞ্চায়ন করেছে। এই নাটকটি মঞ্চায়নের পর কাহালু থিয়েটার সিদ্ধান্ত নেয় দুই বাংলার মানুষের নাট্য মিলন উৎসবের। এই উৎসবের মাধ্যমে এপার বাংলা অপার বাংলার নাটকর্মি ও সংগঠকদের একটি মিলন মেলা ঘটবে। এই মিলন উৎসবে উৎসাহ-উদ্দিপনা দিয়ে সার্বিক সহযোগীতা করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরাফাত রহমান ও কাহালু থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শওকত কবির। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের এবং কাহালু থানা পুলিশের অনেকেই এই উৎসবে সহযোগীতা করেছেন। বগুড়া জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ, কবি ও বাংলাদেশ বেতারের নজরুল সংগীত শিল্পী শামীমা নাসরিন, বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আলী আশরাফ ভুঞা, বগুড়ার গোয়োন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নুর-এ-আলম সিদ্দিকী ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সাধারন সম্পাদক তৌফিক হাসান ময়নাসহ যারা অতিথি ছিলেন তাদের সকলের উপস্থিতিতে উৎসবটি আরো প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। উৎসবে কাহালু অডিটোরিয়াম হলে বগুড়া থিয়েটারের দ্রোহ নাটক ও পশ্চিমবঙ্গের রায়গঞ্জ দেবীনগর জাগরী থিয়েটার গ্র“পের দখল নামা নাটকের সফল মঞ্চায়ন হয়েছে। কাহালু থিয়েটারের সভাপতি আব্দুল হান্নান ও সাধারন সম্পাদক শাহাজাদ আলী বাদশার নেতৃত্বে কাহালু থিয়েটারের নবীন-প্রবীন সকলের কঠোর পরিশ্রমে দুই বাংলার মানুষের নাট্য মিলন উৎসবটি সফল হয়। এই উৎসবের সমন্বয়ক ছিলাম আমি। দীর্ঘ দেড় মাস আগে থেকে এই প্রস্ততি নিতে গিয়ে অনেকের উৎসাহ পেয়েছি। আবার অনেকে নিরুৎসাহীও করেছেন। তারপরে থেমে ছিলাম-না উৎসবকে সফলতায় রূপ দিনে প্রাণপণ চেষ্টা ছিলো কাহালু থিয়েটারের সকল নাটকর্মির। জাগরী থিয়েটার গ্র“পের সাথে বরাবরই যোগযোগ ছিলো আমার। ২০ ফেব্র“য়ারি আমি ও আমার এক বড় ভাই সাংবাদিক সরদার রেজাউল হককে নিয়ে হিলিতে গেলাম জাগরী থিয়েটারের নাট্যকর্মি ও সংগঠককে নিতে। অবশেষে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর কাস্টমের কাজ শেষ করে মাইক্রোযোগে জাগরী থিয়েটারের সবাইকে নিয়ে প্রথমে পাঁচবিবি থিয়েটারে গেলাম। সেখানে পৌর মেয়র ও পাঁচবিবি থিয়েটারের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিবসহ সকল থিয়েটার কর্মি জাগরী থিয়েটারের সকলের সাথে কুশল বিনিময় করেন। সেখান থেকে সকলে মিলে কাহালু ডাকবাংলোয় এসে পৌছলাম। এখানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরফাত রহমান, কাহালু থানার ওসি মোঃ শওকত কবিরসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কাহালু থিয়েটারের সকলেই জাগরী থিয়েটারকে শুভেচ্ছা জানান। রাত ১২ টা ১ মিনিটে অমর একুশের প্রথম প্রহরে কাহালু থিয়েটার ও জাগরী থিয়েটারের সকলে মিলে শহীদবেদীতে পুস্পমাল্য অর্পন করা হয়। পরদিন ২১ ফেব্র“য়ারির নানা কর্মসূচী শেষে সন্ধ্যায় ফানুষ উড়িয়ে দুই বাংলার মানুষের নাট্য মিলন উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। উৎসবের উদ্বোধনের পর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুই বাংলার নাট্যকর্মিরদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। উৎসবের মাঝ-পথে বিষাদের ছাপ। ২২ ফেব্র“য়ারি দুপুরে আমি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বগুড়া মেডিক্যালে ভর্তি হয়। আমার অবর্তমানে সবাই এই উৎসবটিকে সফল করেছে । আমার অসুস্থ্যতায় উৎসবের কোথাও কোনো ছন্দ-পতন না ঘটায় শত বেদনার পরেও আমি আনন্দিত। জাগরী থিয়েটারের শান্ত রাহা, প্রসেন, কালিয়াগঞ্জের নাট্যকার মানিকদা ফোনে আমার সুস্থ্যতার খোজ-খবর নিয়েছে বেশ কয়েকবার। আমার খোজ-খবর নেওয়ার জন্য আমি তাদের সকলকে এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে সাধুবাদ জানায়। অপরদিকে জাগরী থিয়েটারের সকলে তাদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে কাহালু থিয়েটারের সকল নাট্যকর্মিদের প্রশংসা করেছেন ফোনে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশসহ উৎসবের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রশংসাও তারা করেছেন। তারা কাহালু থিয়েটারের সাথে রাখতে চান আতিথিয়তার বন্ধন।

No comments

Leave a Reply

17 + two =

সর্বশেষ সংবাদ