Menu

বগুড়ার এক সফল উদ্যোক্তার গল্পঃ এক সময় নিজে কর্মচারী ছিলেন, এখন তার ১২ জন কর্মচারী

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (গোলাম রব্বানী সিপন, মহাস্থান প্রতিনিধি): মাত্র ১২ বছরে একজন সফল উদ্যোক্তা। গড়ে তুলেছেন (হ্যাচারী) মৎস্য খামার। ব্যবসায় সফল ব্যক্তিদের এগিয়ে যাওয়ার তালিকায় বগুড়ার গাবতলী উপজেলার কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রামের শ্রী নিখিন একজন।

সেই উদার মনের মানুষ নিখিনের গল্প, বয়স ৪৫ বছর। ১০ বছর ধরে তিনি ময়মনসিংহ মাছের শ্রেষ্ঠ বাজার ভালুকা একটি হ্যাচারীতে অন্যের অধিনে সামান্য বেতনে কর্মচারী ছিলেন।

মাত্র ১২ বছরে কীভাবে একজন সফল উদ্যোক্তা হলেন, জানতে চাইলে নিখিন বলেন, ‘খুব ছোট থেকেই কষ্টের মাঝে বড় হয়েছি” যখন অন্যের হ্যাচারী কাজ করি তখন নতুন কিছু করার প্রবল আগ্রহ ছিল। মনোবল সহকারে প্রশিক্ষণ সরূপ কাজ করে অভিজ্ঞ অর্জন করে, নিজ এলাকাতে নিজেই ছেলের নামে জয় হ্যাচারী নাম দিয়ে ১০হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে যাত্রা শুরু করি”।

প্রথমে নিজের পুকুরে মা মাছের ডিম তৈরী করে নিজস্ব হ্যাচারীতে পোনা মাছ (রেণু) বের করে বিক্রির উপযোগী করে বাজার জাত করেন। যার সাফল্যের প্রতিফলন আজকের এই জয় মৎস্য হ্যাচারী। তিনি আরও জানান, “কালক্রমে এই হ্যাচারীটি যে আমাকে একজন সফল উদ্যোক্তা করে তুলবে তা কখনো ভাবতেই পারিনি”।’

মাত্র কয়েক বছর অর্জন করে এলাকায় অবিস্মরণীয় সাফল্য হয়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান করেছেন নিখিন।
নিখিন বলেন, ধৈর্য্য এবং সততার সাথে সব সময় কাজ করেছি। প্রতিদান স্বরূপ আমার হ্যাচারী সফল হয়েছে। ব্যক্তিগত ভাবেও সফল হয়েছি আমি।
নিখিলের পরিবারে ১ মেয়ে, ১ ছেলে। ছেলে ছোট আর ছেলের, নামকরণ করা হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের। উৎসাহ দিয়েছেন তার স্ত্রী।

কর্মচারীদের পাশাপাশি কাজে সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী। বর্তমানে তার হ্যাচারীতে ১০/১২ জন কর্মচারী কাজ করেন। তাদের বেতন প্রতি মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

লেখাপড়া সম্পর্কে জানতে চাইলে নিখিন বলেন, অভাবের কারণে লেখাপড়া বেশি এগুতে পারিনি। ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত তিনি লেখা পড়া করেছেন।
মাত্র ১০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে যাত্রা শুরু করেন নিখিন। শুরুতে ঝুঁকি নিলেও, পরবর্তীতে এসেছে সফলতা। ব্যবসা করতে গেলে ঝুঁকি থাকবেই। তাই বলে পিছুপা হননি সফল এই উদ্যোক্তা।

বর্তমানে শুধু মা-মাছ তৈরী করতে নিখিলের ১০ বিঘা আয়তনের পুকুর’সহ মোট ছোট বড় ৫টি পুকুর রয়েছে। নতুন উদ্যোক্তা বা যারা নতুন পরিসরে এই ব্যবসা করতে চান তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ধৈর্য্য, সততা, নিষ্ঠা, এবং অধ্যাবসায়ের সাথে কাজে লেগে থাকতে হবে। তাহলে সফলতা আসবেই।

যে প্রজাতির (রেণু) বা পোনা মাছ এই হ্যাচারীতে নিখিন প্রজন্ম করেন, দেশীয় মাগুর, শিং, টেংরা, পাবদা, পাঙ্গাস, রুই, তেলাপিয়া, কার্পু ইত্যাদি। তার কাছ থেকে অনেকে পোনা মাছ কিনে বানিজ্যিক ভাবে লাভবান হয়েছে। যদি কেউ শ্রী নিখিল এর কাছ থেকে পোনা মাছ কিনতে চান বা মৎস্য চাষের জন্য কোন পরামর্শ নিতে চান তাহলে যোগাযোগ করুন।

No comments

Leave a Reply

nine + 11 =

সর্বশেষ সংবাদ