Menu

বগুড়ার শিবগঞ্জে মোখলেছুরের শখের হরিণ খামার এখন লাভজনক ব্যবসা

সোনাতলা সংবাদ ডটকম ডেস্কঃ বগুড়া শহর থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দূরে শিবগঞ্জ উপজেলার পীরব ইউনিয়নের সিহালী গ্রাম। এ গ্রামের মোখলেছুর রহমান তার চাতালের একপাশে গড়ে তুলেছেন হরিণ খামার। শখের বশে শুরু করলেও বর্তমানে রীতিমতো বাণিজ্যিক খামারে পরিণত হয়েছে এটি। বর্তমানে ১২টি পূর্ণবয়স্ক হরিণ আছে। এর মধ্যে কয়েকটি বাচ্চাও দিয়েছে। বেশ কয়েকবার ভালো দামে হরিণ বিক্রি করেছেন মোখলেছুর।

মোখলেছুর রহমান জানান, ছোটবেলা থেকেই হরিণ, উট ও দুম্বার ব্যতিক্রমী খামার করার ইচ্ছা ছিল তার। ২০০৩ সালে রাজশাহী চিড়িয়াখানা থেকে ৪০ হাজার টাকায় দুই বছর বয়সী এক জোড়া চিত্রা হরিণ (স্ত্রী-পুরুষ) কিনে পোষা শুরু করেন। দেড় বছর পর বাচ্চা দিতে শুরু করেছে। গত ১৫ বছরে বেশ কয়েক জোড়া হরিণ বিক্রি করেছেন। প্রথম দিকে ৫০ হাজার টাকা জোড়া বিক্রি করলেও এখন ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা জোড়া বেচতে পারছেন। ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠার পার্ক, পিকনিক স্পটের জন্য এসব হরিণ কেনা হয় বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি মোখলেছুরের খামারে গিয়ে দেখা যায়, আনন্দের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে একপাল হরিণ। খামারের কর্মীরা জানান, হরিণগুলো বছরে দুবার বাচ্চা দেয়। ছয় মাস পর একটি হরিণের ওজন হয় ২০ কেজির বেশি।

মোখলেছুর রহমান জানান, হরিণ পালনে গরুর চেয়ে খরচ কম। ঘাস, ভূষি, কাঁঠালপাতা, চালের কুঁড়া, কলাগাছ, পাকুড় গাছের পাতা এমনকি ধানও খায়। তবে ছাগল পালনের চেয়ে খরচ একটু বেশি। স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা হরিণগুলোর চিকিৎসা ও খোঁজখবর নেন।

তবে লাইসেন্স পেতে অনেক ঝামেলা এবং খরচের কারণে আগ্রহ থাকলেও তার এলাকারই অনেকে হরিণের খামার করতে পারছে না বলে জানিয়েছেন মোখলেছুর রহমান। তিনি বলেন, হরিণ পালনে নিয়মকানুন আরো সহজ করতে হবে। ফি, লাইসেন্স নবায়ন ফি এসব কমাতে হবে। তাহলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ভালো ব্যবস্থা হতে পারে।

এ ব্যাপারে সামাজিক বন বিভাগ, বগুড়ার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহম্মদ সুবদোর ইসলাম জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী হরিণ পালন বা খামার করা যাবে। চিত্রা হরিণের খামার বগুড়ায় আছে। খামারটির খোঁজখবর সবসময় রাখা হয়।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা খামারিকে সব ধরনের সহযোগিতা করেন বলে জানান বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার। সূত্র- বণিক বার্তা

No comments

Leave a Reply

5 − four =

সর্বশেষ সংবাদ