Menu

বগুড়ায় মান্নানের শূন্য আসনে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি?

পাভেল মিয়াঃ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কৃষিবীদ আব্দুল মান্নান এমপি’র মৃত্যুর পর বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসন এখন শূন্য।
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে শোক বিরাজ করলেও কে বসবেন এই শূন্য আসনে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে সর্বত্র। তার আসন আওয়ামী লীগেরই থাকবে, নাকি চলে যাবে বিএনপি’র দখলে, চলছে সেটার চুলচেরা বিশ্নেষণও। সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা তাদের মতামত তুলে ধরে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।
আব্দুল মান্নান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রথমবারের মতো বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদেও জয়ী হন তিনি। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আব্দুল মান্নান। টানা তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়ে যমুনা ও বাঙালী নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহন, দুই উপজেলায় রাস্তাঘাট, ব্রীজ, কালভাট, মসজিদ, মাদ্রাসা, কৃষি, স্বাস্থ্য, প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুতের ব্যবস্থা, আশ্রয়ন প্রকল্প, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়নসহ প্রতিটি বিভাগে উন্নয়ন মূলক কাজ করেছেন। গত ১৮ জানুয়ারি আব্দুল মান্নান ইন্তেকাল করেন। চায়ের দোকানে, হাটে, মাঠে, পথে, ঘাটে আলোচনা চলছে, আব্দুল মান্নানের অবর্তমানে কারা হচ্ছেন এমপি প্রার্থী। চলছে পক্ষে-বিপক্ষে তর্ক-বিতর্ক। এসব বিতর্ক চলার মধ্যেই শোনা যাচ্ছে বেশ কয়েকজনের নাম। স্থানীয়রা বলছেন, আব্দুল মান্নানের স্ত্রী সাহাদারা মান্নান শিল্পী সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য হয়ে কাজ করছেন। তাদের একমাত্র পুত্র মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সজল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। উপজেলার নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনায় এসেছেন মা অথবা ছেলে এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন। দলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে সাহাদারা মান্নান শিল্পীর কথা বলে প্রচারণাও চালাচ্ছেন। ৩১ জানুয়ারি উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম তার ফেসবুকে লিখেছেন- প্রয়াত আব্দুল মান্নান এমপির অসমাপ্ত কাজ সম্পূর্ণ করতে সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল মান্নানের স্ত্রী সাহাদারা মান্নান শিল্পীকে নৌকার মাঝি হিসেবে দেখতে চাই। ফেসবুকে অনেকেই এ আসনে তাদের একমাত্র পুত্র মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সজল কে মনোনয়ন দিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে আওয়ামী লীগের হয়ে এই আসনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ডাকসুর সাবেক সদস্য, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সহসভাপতি ওয়ান-ইলেভেনের কারানির্যাতিত ব্যবসায়ী ম. আবদুর রাজ্জাক। এলাকার রাজনীতি ও মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আবদুর রাজ্জাক মেধাবী ছাত্র হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতিতে ভূমিকা রাখেন। স্কুলজীবন থেকে ছাত্রলীগের কর্মী হয়ে কাজ শুরু করেন। জেলজীবন থেকে বের হয়েও তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গেই কাজ করেন। আবদুল মান্নানের সঙ্গে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন। সারিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি, দাতা সদস্য, সামাজিক সাংস্কৃতিক বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গেও তিনি জড়িত থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ থেকেই আবার প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সারিয়াকান্দি পৌরসভার মেয়র আলমগীর শাহী সুমন। গত সংসদ নির্বাচনে তিনিও মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে ছিলেন। এবার তিনি মাঠে নেমেছেন। দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ আগের থেকে দিগুণ বৃদ্ধি করেছেন। তাদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের নামও শোনা যাচ্ছে। এদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হারানো এই আসনটি আবারও উদ্ধারে মাঠে নেমেছেন। প্রচার-প্রচারণাও করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাদের পছন্দের নেতাদের নাম প্রচার করে যাচ্ছেন। শোনা যাচ্ছে বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি (২০০১ থেকে ২০০৬) আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলামের নাম। তার নামটি বেশি প্রচার হচ্ছে। নেতা-কর্মীরা তার পক্ষে বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে ভিতরে ভিতরে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আলহাজ¦ কাজী রফিকুল ইসলাম বিএনপি থেকে মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হয়ে নিজের অর্থায়নে প্রথমে উন্নয়ন কাজ শুরু করেন। সে সময় এলাকার নদীভাঙন মানুষের উন্নয়নে তিনি ভূমিকা রাখেন। সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-১ আসনের বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার সখ্যও বেড়েছে আগের থেকে বেশি। আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলামের পর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন চৌধুরী। মাঝে-মধ্যেই মোশারফ এলাকায় এসে অসহায় মানুষের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ করে দিচ্ছেন। তিনি এই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ ছাড়া সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির ও বগুড়া ড্যাবের সভাপতি ডা. শাহ মো. শাজাহান আলী প্রার্থী হতে জানান দিয়েছেন।

No comments

Leave a Reply

nineteen + 14 =

সর্বশেষ সংবাদ