Menu

বগুড়ায় স্কুলছাত্রীর আত্নহত্যাঃ রক্ত দিয়ে সম্পর্ক গড়ে ফাঁদে ফেলেন বখাটে আবির ও অন্তর

সোনাতলা সংবাদ ডটকম ডেস্কঃ প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আপত্তিকর কিছু ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ায় ঘৃণা ও লজ্জায় আত্মহত্যা করেছে বগুড়ার ওয়াইএমসিএ স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী মায়িশা ফাহমিদা সেমন্তি (১৫)। নিহত মায়িশার মোবাইলে আলাপন ও মেসেঞ্জার থেকে পাওয়া তথ্যে এর সত্যতা মিলেছে। গত ১৭ জুন রাতে মায়িশা নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। সূত্রঃ দৈনিক কালের কন্ঠ

মায়িশার আত্মহত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন হলো তার প্রেমিক আবীর আহমেদ (২০) ও তার বন্ধু শাহরিয়ার অন্তর। এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশিত হলে বগুড়া সদর থানা পুলিশ বাড়ি থেকে মায়িশার বাবাকে থানায় ডেকে নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা নেয়। তবে ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এ অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়নি।

মায়িশার বাবা হাসানুল মাশরেক রুমন বলেন, ফেসবুকে বখাটে আবীর ও তার বন্ধু অন্তরের ১০-১২টি ফেক আইডি রয়েছে। এসব আইডির মাধ্যমে তারা স্কুলছাত্রীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে তাদের ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ছাত্রীদের নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল করে। তাঁর মেয়েও এ ধরনের প্রতারণার শিকার। তা ছাড়া আবীরের পরিবারের সদস্যরা প্রভাবশালী। তার বাবা তৌহিদুল ইসলাম ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্সের (এনএসআই) নীলফামারী জেলার উপপরিচালক। এ কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ১৫ মাস আগে মায়িশার ছোট বোন অসুস্থ হয়। তখন প্রতিবেশী পুলিশ কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলামের ছেলে আবীর তাকে রক্ত দেয়। এতে দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। মায়িশা ও আবীরের মধ্যে তখনই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে আবীরের ফাঁদে পড়ে মায়িশা। প্রতারক আবীর মোবাইলে ধারণ করা মায়িশার আপত্তিকর কিছু ছবি ফেসবুকের মাধ্যমে তার বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করে। এ ব্যাপারে গত ১৭ জুন রাত আড়াইটা পর্যন্ত আবীর ও মায়িশা ফোনে ও মেসেঞ্জারে কথা বলেছে। সেখানে মায়িশা বারবার আবীরকে অনুরোধ করেছে, তাদের ছবিগুলো প্রকাশ না করার জন্য। কিন্তু আবীর কথা শোনেনি। পরে রাতের কোনো একসময় নিজ ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে মায়িশা। পরদিন সকালে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

আবীর বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর এখন ঢাকায় কোচিং করছে। এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে শনিবার দুপুরে আবীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার দুটি নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়।

নীলফামারী এনএসআইয়ে কর্মরত আবীরের বাবা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আবীরের সঙ্গে মায়িশার ভালো একটা বন্ধুত্ব ছিল। তবে তাঁর ছেলে এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত নয়। তিনি বিষয়টি নিয়ে একটু ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করার অনুরোধ করেন।

এ প্রসঙ্গে আইনজীবী তানজিম আল মিসবা বলেন, আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে আসামিরা খালাস পাবে।

বগুড়া সদর থানার ওসি এস এম বদিউজ্জামান বলেন, মায়িশার ব্যবহৃত ডিভাইস, মেমোরি ও কল লিস্ট সংগ্রহ করে ঢাকা সিআইডির কাছে পাঠানোর জন্য আদালতের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি মিললে সেগুলো পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এরপর প্রতিবেদন এলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। -জাতীয় দৈনিক কালের কন্ঠ’র সৌজন্যে

No comments

Leave a Reply

13 − three =

সর্বশেষ সংবাদ