Menu

বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিঃ ত্যাগীদের মূল্যায়ন চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা

সোনাতলা সংবাদ ডটকম ডেস্কঃ শিগগিরই ঘোষণা হতে যাচ্ছে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এ জন্য দলের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু ও সাধারণ সম্পাদক ঐকমত্য হতে না পেরে কেন্দ্রে পৃথক দুটি কমিটি জমা দিয়েছেন।

এতে কে কোন পদ পাবেন আর কে পদ পাবেন না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। তবে বিগত দিনে যেসব নেতাকর্মী মাঠে ছিলেন, বিএনপি-জামায়াতের তা-বে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, হারিয়েছেন সর্বস্ব, দলের দুর্দিনে ছিলেন পাশে, কাজ করেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে, সেসব অবহেলিত বঞ্চিত নেতাদের আগামী কমিটিতে দেখতে চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

তাদের মতে, কোনো দখলদার, লুটেরা, ভূমিদস্যু অনুপ্রবেশকারী, অবৈধ সম্পদের মালিক, দুর্নীতিবাজ ও বিতর্কিত নেতাদের কোনো পদে দেখতে চান না তারা।

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৭ ডিসেম্বর বগুড়া সম্মেলন হয়। সম্মেলনে মজিবর রহমান মজনুকে সভাপতি এবং রাগেবুল আহসান রিপুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সম্মেলনের উদ্বোধক প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিম সহসভাপতি পদে টি জামান নিকেতা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মঞ্জুরুল আলম মোহন, সাগর কুমার রায় ও একেএম আসাদুর রহমান দুলুকে এবং অর্থ সম্পাদক হিসেবে মাসুদুর রহমান মিলনসহ ৭ জনের নাম ঘোষণা করেন।

সম্মেলনের ১১ মাস অতিবাহিত হলেও করোনা ভাইরাসের অতিমারিসহ নানা কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। যার কারণে নেতাকর্মীরা পদ না পেয়ে হতাশায় আছেন।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে পদপ্রত্যাশীদের নামের তালিকা চেয়ে পাঠায়।

কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা করতে গিয়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। কমিটি গঠনে তারা একমত হতে পারেননি। যার কারণে তারা কেন্দ্রীয় নির্দেশে ২ অক্টোবর ঢাকায় ধানমন্ডি কার্যালয়ে পৃথক দুটি কমিটি জমা দেন।

তাতে ৭৫ সদস্যবিশিষ্ট জেলা কমিটি ও ২১ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি রাখা হয়েছে। সেই কমিটি জমা দেওয়ার মাসাধিককাল পার হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি।

দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, জেলা সভাপতি-সম্পাদক ঐকমত্যের কমিটি জমা দিতে না পারায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা বিলম্বিত হচ্ছে।

বর্তমানে কেন্দ্রে জমা দেওয়া দুই কমিটির নেতাদের আমলানামা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর এ কাজটি করছে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। ইতোমধ্যেই তারা মাঠে নেমেছেন।

নেতাদের সম্পর্কে নানা জায়গায় খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে। বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে সৎ ও স্বচ্ছ নেতাদের তালাশ করা হচ্ছে। যাতে বগুড়ার আগামী কমিটি স্বচ্ছ ও বির্তকমুক্ত হয়।

কেমন জেলা কমিটি চানÑ এমন প্রশ্নে শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক শাহীনুর রহমান মাস্টার বলেন, অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে কর্মীবান্ধব নেতাদের দায়িত্ব দিতে হবে। যারা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দুঃখ কষ্ট বুঝবেন।

শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক এমদাদ ত্যাগী ও যোগ্য দুর্নীতিমুক্ত তোদের অগ্রাধিকার চান জেলা কমিটিতে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশনা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী ত্যাগী, ক্লিন ইমেজের সাবেক ছাত্রনেতাদের নতুন কমিটিতে জায়গা দিতে হবে। তবেই দল এগিয়ে যাবে।

দুপচাঁচিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান সেলিম বলেন, ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের জেলা কমিটিতে রাখতে হবে। কারণ বগুড়া বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা। সৎ ও যোগ্য নেতাদের সমন্বয়ে জেলা কমিটি গঠিত হলে আগামী দিনে তারাই দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।

সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান বলেন, মাঠের ত্যাগী নেতাদের জায়গা দিতে হবে কমিটিতে। যারা দলবাজি করবে না, দলের জন্য শ্রম দেবেন সেসব নেতা যেন নতুন কমিটিতে স্থান পায় সেটিই আমার চাওয়া।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসএম কামাল হোসেন বলেন, শিগগিরই জেলা সভাপতি-সম্পাদকের দেওয়া কমিটি সমন্বয় করেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, জমা পড়া বিভিন্ন জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটিগুলোয় যাতে অসৎ লোকদের অনুপ্রবেশ না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে দলের হাইকমান্ড।

No comments

Leave a Reply

fifteen + 11 =

সর্বশেষ সংবাদ