Menu

বগুড়া পৌরসভা নির্বাচনঃ বিএনপি’র প্রার্থী এক, আ’লীগের তালিকায় একাধিক নাম

সোনাতলা সংবাদ ডটকম ডেস্কঃ পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে বগুড়া শহর। শহরের অলিগলিতে এখন শোভা পাচ্ছে রঙ-বেরঙের নানা ধরনের পোস্টার।

সম্ভাব্য প্রার্থীরা নেমে পড়েছেন ভোটের মাঠে। মেয়র ও কাউন্সিলর পদে নিজেদের প্রার্থিতার কথা ভোটারদের জানান দিতে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি উপেক্ষা করে রীতিমতো সভা-সমাবেশের মাধ্যমে প্রচার যুদ্ধে নেমেছেন অনেকেই। সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি ভোট প্রার্থনাও শুরু করছেন।

বগুড়া পৌর নির্বাচনে বিএনপি সম্ভাব্য প্রার্থী নির্ধারণ করলেও আওয়ামী লীগে এখনো নির্ধারণ হয়নি। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা মাঠে রয়েছেন।

এ ছাড়া কাউন্সিলরের ২১টি পদে দুই শতাধিক এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরের সাতটি পদে আরও অর্ধশত নারী তৎপর রয়েছেন। তবে আগাম প্রচারের ক্ষেত্রে দলগতভাবে সরকারি দল আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরাই এগিয়ে রয়েছেন।

এরই মধ্যে মেয়র পদে বিএনপির পক্ষ থেকে একক প্রার্থিতাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া কাউন্সিলর পদে আগ্রহীদের কাছ থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি এবং জমা নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লি­ষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গতবারের মতো এবারও জানুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় নির্বাচন কমিশন।

এবার মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু, জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন, শ্রমিক লীগ নেতা বর্তমান কাউন্সিলর সামছুদ্দিন শেখ হেলাল, বগুড়া চেম্বারের সভাপতি মাছুদার রহমান মিলন, জেলা যুবলীগ সভাপতি শুভাশীষ পোদ্দার লিটন, বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হাসান ববি ও আওয়ামী লীগের শহর কমিটির সাবেক নেতা আবদুল মান্নান আকন্দ।

এ ছাড়াও বিএনপি বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও দৈনিক বগুড়ার সম্পাদক রেজাউল করিম বাদশাকে প্রাথমিকভাবে দলের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে।

তবে মাঠে থাকা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত চারবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি সিপার আল বখতিয়ারও দলীয় মনোনয়নের জন্য হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

এদের মধ্যে বিএনপি নেতা রেজাউল করিম বাদশা দলীয়ভাবে এবং সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মান্নান আকন্দ ব্যক্তিগতভাবে ওয়ার্ড পর্যায়ে সভা-সমাবেশ অব্যাহত রেখেছেন।

প্রায় ৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেড়শ বছরের প্রাচীন বগুড়া পৌরসভায় সর্বশেষ নির্বাচন হয় ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর।

ওই নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান ১ লাখ ৮ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

ওই নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু পেয়েছিলেন ৪৯ হাজার ভোট।

তবে মেয়র পদে জয় না পেলেও কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ সমর্থক প্রার্থীরা বিএনপি সমর্থকদের পেছনে ফেলতে সক্ষম হয়েছিলেন।

বগুড়া জেলা যুবলীগ সভাপতি ও মেয়র মনোনয়নপ্রত্যাশী শুভাশীষ পোদ্দার লিটন বলেন, দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করব। কারণ বগুড়া পৌরসভার যেভাবে উন্নয়ন করার কথা ছিল সেটা হয়নি। বগুড়ার উন্নয়নের জন্য তিনি প্রার্থী হতে চান। বিজয়ী হলে আধুনিক পৌরসভা গড়ার লক্ষ্যে কাজ করবেন।

বগুড়া শহর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হামিদুল হক চৌধুরী হিরু জানান, মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে গত মাসে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের গোপন ব্যালটে ভোট গ্রহণ করা হয়।

সেখানে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ায় তাকেই দলীয় প্রার্থী বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। সাধারণ ও সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড মিলে কাউন্সিলরের ২৮টি পদে দলের ৯৬ নেতাকর্মী আবেদন ফরম উত্তোলন করে জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে প্রার্থী বাছাই করা করা হবে।

বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফি নেওয়াজ খান রবিন জানান, তারা মেয়র ও কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঝে ফরম বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে মেয়র পদে একক নাম পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে। আমরাও সে অনুযায়ী একক নাম ঢাকায় পাঠানোর চেষ্টা করব। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে সর্বোচ্চ ৩টি নাম পাঠাব। তার পর কেন্দ্র প্রার্থিতা চূড়ান্ত করবে।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু জানান, অনেকেই দলীয় প্রার্থী হতে চেষ্টা করছেন। তবে পৌর নির্বাচনের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে যেভাবে নির্দেশনা আসবে সে অনুযায়ী কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এমপি জানান, আসন্ন পৌর নির্বাচনে বিএনপির সাবেক জেলা সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাকে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে। ধানের শীষের জয় নিশ্চিত করতে সব সহযোগী সংগঠনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বগুড়া জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুব আলম শাহ জানান, আগামী জানুয়ারি মাসে বগুড়া পৌরসভার ভোট গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্য নিয়েই আমরা প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছি।

No comments

Leave a Reply

seventeen − twelve =

সর্বশেষ সংবাদ