Menu

বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প অবশেষে আলোর মুখ দেখছে

সোনাতলা সংবাদ ডটকম ডেস্কঃ আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প। ইতোমধ্যেই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সর্বশেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। আজ শনিবার রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এ প্রকল্পের বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ অংশের অ্যালাইমেন্ট ও প্রস্তাবিত নতুন রেল জংশন পরিদর্শন করেছেন। এতে করে বগুড়াসহ এ অঞ্চলের মানুষের বহুল প্রতিক্ষিত বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্পের কাজ দ্রুতই শুরু হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে রেলমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত নতুন রেল জংশন প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের শেষ নাগাদ শুরু হতে পারে। এটি শুধু বগুড়াবাসীর চাহিদা নয়, বরং গোটা উত্তরাঞ্চলের লোকজনের দাবি। প্রধানমন্ত্রী এ অঞ্চলের মানুষের দাবি এবং চাহিদা বিবেচনা করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন; এটি এখন বাস্তবায়নের পথে।

ভারত সরকারের লাইন অব ক্রেডিটে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ডুয়েলগজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শনে রেলমন্ত্রী শনিবার সকালে ঢাকা থেকে বগুড়া পৌছেন। তিনি বগুড়ার শহরের রেলগেট, সড়কের কয়েকটি সম্ভাব্য আন্ডারপাস ও ওভারপাস পয়েন্ট পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বগুড়া রেলস্টেশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

তিনি বলেন, এ প্রকল্পের কিছু জটিলতা ছিল। সেসব জটিলতা কেটে গেছে। এ ছাড়াও প্রকল্প এলাকার সুবিধা ও অসুবিধা দেখতে আমি এখানে এসেছি। খুব দ্রুত রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

এ সময় নুরুল ইসলাম সুজন জানান, ভারতের লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় এ প্রকল্পটিতে অর্থ ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি পুরো প্রকল্পে সাড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার মতো খরচ হবে। এ ছাড়াও প্রকল্প পরামর্শকেরা ইতিমধ্যে কোথায় কোথায় ব্রিজ, ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস নির্মাণ হবে তা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। দ্রুত রেলপথ যাচাইয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রেলমন্ত্রীর সঙ্গে প্রকল্প পরিচালক সুবক্তাগীন, প্রকল্পের ভারতীয় ডেপুটি টিম লিডার কে নিবাস রাও, বগুড়া জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক, পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার অসীম কুমার তালুকদার, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী পরে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে প্রকল্পের টেক অব পয়েন্টে বগুড়ার রানীরহাটে প্রস্তাবিত রেল জংশন পরিশর্দন করেন।

বগুড়া রেলস্টেশন সূত্র জানায়, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে মূল রুট ধরা হয়েছে ৭২ কিলোমিটার। বগুড়ার রানীরহাট এলাকা থেকে সিরাজগঞ্জের এম মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত এ রুট নির্মাণ হবে। এ প্রকল্পের আওতায় ডুয়েল গেজের দুটি রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা হয়েছে।

এ ছাড়াও বগুড়ার কাহালু স্টেশন থেকে রাণীরহাট পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারসহ মোট ৮৪ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণ হবে। বগুড়া শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে রাণীরহাটে জংশন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রুটে শেরপুর, চাঁন্দাইকোনা, রায়গঞ্জ, কৃষাণদিয়া ও সদানন্দপুরে স্টেশন স্থাপন করা হবে। প্রস্তাবিত ৮৪ কিলোমিটার রেলপথের জন্য ৯৬০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ায় ৫২ কিলোমিটার রেলপথের জন্য ৫১০ একর এবং সিরাজগঞ্জের ৩২ কিলোমিটারের জন্য ৪৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে।

রেলস্টেশন সূত্র আরও জানায়, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বগুড়ার রেলপথের দৈর্ঘ্য ও সময় অনেকটা কমে আসবে। এ রুটের মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আশপাশের এলাকার সরাসরি রেল যোগাযোগ নিশ্চিত হবে।
সূত্র-দৈনিক আমাদের সময়

No comments

Leave a Reply

one + eighteen =

সর্বশেষ সংবাদ