Menu

বগুড়া-১ আসনের প্রয়াত এমপি আব্দুল মান্নানের সংক্ষিপ্ত জীবনী

পাভেল মিয়া, স্টাফ রিপোর্টারঃ “যেতে নাহি দিব হায়, তবুও যেতে দিতে হয়”এই লাইন দুটির মধ্যে গুর¡পূর্ণ স্বার্থকতা রয়েছে। বিখ্যাত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটা স্বার্থকতা বহন করে। পৃথিবীতে সাময়িক সময়ের জন্য তাদের আগমন ঘটলেও, তাদের কীর্তি রয়ে যায় যুগ যুগ ধরে। তেমনই ব্যক্তিত্ব ছিলেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার হিন্দুকান্দি গ্রামের কীর্তি সন্তান, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের সংসদ সদস্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা কৃষিবীদ প্রয়াত আব্দুল মান্নান।

পরিচিতি: ১৯৫৩ সালে ১৯ ডিসেম্বর বগুড়ার জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার শালুখা গ্রামে এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল মান্নান এমপি। তার পিতার নাম মরহুম জালাল উদ্দিন সরদার, মাতা মরহুম মুনজিলা বেগম, সাত ভাই বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় সন্তান। আব্দুল মান্নানের শিক্ষা জীবন শুরু হয় ময়ূরের চর সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয় থেকে। ১৯৬৯ সালে তিনি সারিয়াকান্দি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃৃতিত্বের সাথে এস.এস.সি পাশ করেন। ১৯৭১সালে মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি এগ্রি অনার্স ও ১৯৭৭সালে এমএসসি এগ্রি ক্যামস্ট্রি এবং ১৯৭৯ সালে এমএসসি এগ্রি ক্যামস্ট্রি উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। নির্মোহ রাজনীতিবীদ আব্দুল মান্নান স্পষ্টভাষী মানুষ ছিলেন।

কর্মজীবন: ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। শিক্ষা জীবন শেষে তিনি সাইন্ট্রিফিক অফিসার হিসেবে পাট গবেষনা ইনষ্টিটিউটে চাকুরী করেন। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের সাথে থেকে কাজ করে গেছেন। তিনি বগুড়া প্রেসক্লাবের সদস্য, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। কর্মবীর, নিরলস পরিশ্রমী মানুষটি নেতৃত্বে যোগ্যতায় ছিলেন সব প্রশ্নের উর্ধ্বে।
রাজনৈতিক জীবন: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় তিনি ছাত্র রাজনীতে যোগদান করেন এবং বাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন । ১৯৮৩-১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্র লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহ- প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং ১৯৯৬ সালে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২সালের ২৬ ডিসেম্বর আব্দুল মান্নান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন । ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০২ পর্যন্ত তিনি দুই মেয়াদে বাংলাদেশ কৃষিবিদি ইন্সটিটিউশনের মহাসচিব নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া -১ আসনে আওয়মী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন, এছাড়া ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারী ১০ম সংসদ নির্বাচন, এবং ২০১৮ সালে ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। প্রতিহিংসার রাজনীতি কখনই করেন নি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অবিচল মানুষটি সবসময় দেশ ও জনগনের কথা ভাবতেন। বিএনপি জামায়াতের ঘাটিতে দিনরাত পরিশ্রম করে নৌকার বিজয় এনেছেন।
আব্দুল মান্নানের অর্জন: ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া -১ আসনে আওয়মী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর বগুড়া -১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) দুই উপজেলায় রাস্তাঘাট, ব্রীজ, কালভাট, মসজিদ, মাদ্রাসা, কৃষি, স্বাস্থ্য, প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুতের ব্যবস্থা, আশ্রয়ন প্রকল্প, যমুনা ও বাঙালী নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়নসহ প্রতিটি বিভাগে উন্নয়ন মূলক করেছেন। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষে দেশ ও জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে গেছেন। স্বাধীনতার পর তার সময়ে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে। তার এলাকায় ব্যাক উন্নয়ন কর্মকান্ডে ভূমিকা রাখেন।
পারিবারিক জীবন:আব্দুল মান্নানের স্ত্রী সাহাদারা মান্নানও আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। তিনি বর্তমানে বগুড়া জেলা পরিষদের সদস্য ও সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে শাফায়াত হোসেন সজল, মেয়ে মারিয়া মান্নান মৌ।

মৃত্যু:এই মহান ব্যক্তিত্বের জীবনের শেষ পরিণতি কোনও ভাবে মেনে নিতে পারেনি সর্বস্তরের জনগণ। ২০২০ সালের ১৬ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সকালে তিনি তার ঢাকার ধানমন্ডিস্থ বাসভবনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে পপুলার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দুপুরে ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিন দিন লাইফ সার্পেটে রাখা হয়। ১৮ জানুয়ারী শনিবার সকাল ৮টায় ল্যাব এইড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। সারিয়াকান্দি উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মডেল মসজিদ সংলগ্ন নিজ পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

No comments

Leave a Reply

twenty − nine =

সর্বশেষ সংবাদ