Menu

মোকামতলায় টাকা নিল অজ্ঞানপার্টি ফেসে গেল মুছাঃ গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে ভুলের অবসান

গোলাম রব্বানী শিপন, মহাস্থান (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে প্রায় ১ লক্ষ ৪২হাজার টাকা খুয়েছেন গরু ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম। পরে সন্দেহ করা হয় তারই এক সময়ের সহযোগী গরু ব্যবসায়ী মুছা প্রোং কে। জানা যায়, মোকামতলা ইউনিয়নের মালাহার গ্রামের গরু ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম তিনি গত প্রায় ১০ দিন আগে গরু বিক্রি করতে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় যান। সেখানে সংঘবদ্ধ অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা তাকে কোন একটি অচেতনাশক পদার্থদ্বারা অজ্ঞান করে তার কাছ থেকে ১লক্ষ ৪২হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে অচেতনাবস্থায় ফেলে যায়। এদিকে আহত অজ্ঞান আশরাফুল কে ওই এলাকার অন্য এক গরু ব্যবসায়ী চিনতে পেয়ে তার বাড়ির পাশে মুছাকে খবর দেয়। মুছা আর আশরাফুল তারা এক সাথে দীর্ঘদিন গোবিন্দগঞ্জ গরু কেনাবেচা করার সুবাদে গোবিন্দগঞ্জের ওই ব্যক্তি মুছার নাম্বার সংগ্রহ করে আশারাফুল অজ্ঞানের কথা জানায়। এদিকে আশরাফুলের সাথে পারিবারিক কিছু জেরে মুছার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আর এ কারণে মুছা অন্যের মাধ্যমে আশরাফুল গোবিন্দগঞ্জ অচেতন হয়ে পড়ে আছেন বলে তার পরিবারকে জানায়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এদিকে আশরাফুল অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে ১লাখ ৪২ হাজার টাকা খোয়ালেন এবং গোবিন্দগঞ্জ পড়ে আছেন এ কথা মুছা কেমনে জানে এননিয়ে শুরু হয় বিবাদ। একপর্যায়ে অজ্ঞান এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার নেপথ্যে দায়ি করা হয় মুছাকে। এঘটনাকে কেন্দ্র করে মুছার পরিবারকে মারপিট করে ১লাখ ৪২হাজার টাকার দাবি করা হয়। পরে গ্রামবাসী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে মুছাকে তার সিম এর ওই দিনের কললিষ্ট কাস্টমার কেয়ার থেকে তুলে আনতে বলেন।
এ নিয়ে শুক্রবার (৫নমার্চ) বিকাল ৩টায় মোকামতলার মালাহার গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে গ্রামের হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিশি বৈঠকে মুছা বগুড়ার গ্রামীণ ফোন কাস্টমার কেয়ার থেকে ফিঙ্গার শো করে তার মুল নাম্বারের কললিষ্ট উপস্থিত করেন। এদিকে আশরাফুলের ভাই সাজু মিয়া অন্যত্র একটি কললিষ্ট বের করেন। যা কোন কাস্টমার কেয়ারের সত্যায়িত নেই। কল লিষ্টে যে নাম্বরে গোবিন্দগঞ্জ থেকে মুছার কাছে ফোন এসে ছিল সেই নাম্বরে মুছা কখনো ফোন করেনি বা ওই নাম্বরে সেই মুহূর্ত ছাড়া অন্য কোন সময় ফোন আসেনি।

পরে ওই ভরা মজলিসে আশরাফুলের ভাই জৈনক সাজু বার বার সাজুকে ঘটনায় জড়িত আখ্যায়িত করে সালিশি বৈঠকে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
মিথ্যা অপবাদ সইতে না পরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মুছা। পরে গ্রামবাসীর সুষ্ঠু নিরপেক্ষ বিচার বিশ্লেষণ করে সাজুর কললিস্টের ভিত্তি পাওয়া যায় না।
গ্রামবাসী বলেন, এঘটনায় মুছার কোন যোগসাজশ নেই। এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি। আসলে টাকা মেরেছে অজ্ঞানপার্টি। এরপর পূর্বের ঘটনা ভুলে ২ পরিবারের মিলবন্ধনে হাতে হাত রেখে আবদ্ধ করে দেন গ্রামবাসী। এসময় উপস্থিত ছিলেন, মোকামতলা ইউপিরচেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান, আওয়ামীলীগ নেতা রাজা চৌধুরী, ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম, সমাজ সেবক খাঁজা মিয়া, জেমসের প্রোং, আঃ সালাম, রেজাউল করিম ফুলমিয়া প্রমূখ।

No comments

Leave a Reply

five × 4 =

সর্বশেষ সংবাদ