Menu

শিবগঞ্জে কাঁচা মরিচ নিয়ে বিপাকে কৃষকঃ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকায়!

সাজু মিয়া (শিবগঞ্জ) বগুড়া প্রুতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মহাস্থান হাটে বিক্রি করার জন্য নিয়ে আসা কাঁচা মরিচ নিয়ে বিপাকে পরেছে কৃষক। পানির দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের বিক্রি হচ্ছে ৪ থেকে ৫ টাকায়। হাটে পর্যাপ্ত কাঁচা মরিচ আমদানি ও দরপতনের কারনে হতাশ হয়ে পরেছেন কৃষক। বৃহস্পতিবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৮ টায় ওই বাজারে গিয়ে দেখা গেছে এমন চিত্র।

শিবগঞ্জের কাঁচা ও লাল মরিচের খ্যাতি দীর্ঘ দিনের। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় উপজেলায় কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে, এমন তথ্য জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।ঝাল বেশি হওয়ায় এই এলাকার কাঁচা মরিচের দেশজুড়ে চাহিদা থাকলেও এবার এর দাম অস্বাভাবিক কমে গেছে।

পাইকারি বাজারে ৪ থেকে ৫ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি হচ্ছে। তাই উপজেলার মরিচ চাষীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। লাভের আশায় বেশি জমিতে মরিচ চাষ করে এবার লোকসান গুণছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ উঠে আসাতো দূরের কথা, ক্ষেত থেকে মরিচ তুলে হাটে নিয়ে যাওয়ার খরচও উঠছেনা।

শিবগঞ্জ উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চলতি মৌসুমে মরিচের চাষ হয়েছে ৩৫০ হেক্টর জমিতে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের হিসেব মতে, এ অঞ্চলে মরিচ উৎপন্ন হয়েছে ১ হাজার ৫’শ মেট্রিক টনেরও বেশি। চলতি মৌসুমে স্থানীয় জাতের মধ্যে বগুড়া এবং হাইব্রিড জাতের মধ্যে সনিক- ১৭০১ ও বর্ষা মরিচের চাষ হয়েছে বেশি। এবার মরিচ চাষের উপযোগী আবহাওয়া থাকায় মরিচের ফলনও হয়েছে অধিক। প্রতি বিঘায় ৪০ মণেরও বেশি মরিচ উৎপাদন
হচ্ছে।

হাটে কাঁচা মরিচ বিক্রি করতে আসা কৃষক লুৎফর রহমান জানান, গত বছর বন্যার কারনে ফসল নষ্ঠ হয়েছে তাই লাভের আশায় তিনি দুই বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছিলেন।। এবার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। কিন্তু হাটে মরিচের দাম নেই। ক্ষেত থেকে মরিচ তুলতে যে খরচ লাগছে সেটাও তিনি পাচ্ছেন না। এ কারণে ক্ষেতের মরিচ ক্ষেতেই লাল হয়ে ঝরে যাচ্ছে। তিনি দুঃখ করে আরও বলেন, “মরিচ এখন আমাদের গলার ফাঁস।”

মহাস্থান হাটের আরেক পাইকারী ব্যবসায়ী জুয়েল মিয়া জানান, গত দু’সপ্তাহ ধরে বগুড়ায় কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিক কমে গেছে। গত বছর একই সময়ে মরিচের দাম ছিল ৭০/৮০ টাকা কেজি, সময়ের ব্যবধানে এক’শ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ হাট থেকে মরিচ ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, পিরোজপুর, মেহেরপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যাচ্ছে। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ট্রাক করে মরিচ সরবরাহ হচ্ছে অন্য জেলায়।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আল মোজাহিদ সরকার জানান, গত বছরের তুলনায় এ মৌসুমে অধিক জমিতে আবাদ ও ভালো ফলন হয়েছে।দর পতনের বিষয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্যোগ নেওয়া দরকার বলে মনে করেন ।

 

No comments

Leave a Reply

16 − eleven =

সর্বশেষ সংবাদ