Menu

শিবগঞ্জে মৌসুমী ফলের মৌ মৌ ঘ্রাণে জ্যৈষ্ঠ মাস হয়ে উঠেছে মধুময়

সাজু মিয়া শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ ‘মিষ্টি ফলের রসে ভরা মধুমাস’। বছরজুড়ে কমবেশি ফল পাওয়া গেলেও সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় বৈশাখের শেষ সময়ে এবং জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরু থেকে এবারো বাজারে দেখা মিলেছে রসালো ফল জ্যৈষ্ঠ মাসে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, তরমুজ, ডেউয়া, লটকন, জাম, তাল খুর উঠেছে ফলের দোকানগুলোতে। ফলের এই মৌ মৌ ঘ্রাণে জ্যৈষ্ঠ মাস হয়ে উঠেছে মধুময়। সেই সঙ্গে মিলবে তৃপ্তিও। গ্রামের মানুষ আত্মীয়-স্বজন, জামাই-মেয়ের বাড়িতে আম-কাঁঠালের উপহার পাঠিয়ে থাকে এই জ্যৈষ্ঠেই।

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিভিন্ন ফলের দোকানে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ফলের পরসা সাজিয়ে রেখেছে । ক্রেতাদের নজর কাড়ছে গ্রীষ্মের মৌসুমি ফল। বুধবার(২৬ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার প্রধান কেন্দ্র বঙ্গবন্ধু স্কয়ার চত্বরে, বাসষ্ট্যান্ড, শিবগঞ্জ হাট, মহাস্থান, মোকামতলা, কিচক, বুড়িগঞ্জ, পিরব, গুজিয়া, আলিয়ারহাট, আমতলী বন্দর, এলাকা সহ বিভিন্ন বন্দর ঘুরে দেখা যায়, মৌসুমি ফল সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রেতারা। ক্রেতাদের তেমন ভিড় নেই। ফলের চাহিদা বেড়েছে মৌসুমি ফলের।

এ বিষয়ে নাগর বন্দর ফল ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম, জিন্নাহ মিয়া, আবু সাইদ সহ বেশ কয়েক জন জানান, ফলও পাকতে শুরু করেছে। বাজারে যেমন ফল আসছে, তেমনি ক্রেতাও আছে। তবে দাম একেক জায়গায় একেক রকম।

ফল বিক্রেতারা জানান, প্রতিকেজি পাকা আম ৫০ টাকা থেকে জাতভেদে ১৫০ টাকা, প্রতি ১০০ পিস দেশী লিচু ২০০ টাকা চায়না-থ্রি ৫০০ টাকা শ, জামরুল ৮০টাকা, প্রতিকেজি জাম ১৫০ টাকা, তরমুজ কেজি ৩০ থেকে ৩৫টাকা, প্রতিটি পাকা কাঁঠাল ২০ টাকা থেকে শুরু করে আকার ভেদে ১৫০ টাকা, তালখুর প্রতি পিচ ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে দাম যেমনই হোক পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতারাও খুশি মৌসুমি ফলের স্বাদ নিতে পেরে। ক্রেতাদেরও রয়েছে আগ্রহ। বিশেষ করে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, তরমুজ সবই এখন বাজারে বিদ্যমান। ক্রেতারাও তাই বেশ খুশি।

কথা হয় ফলের ক্রেতা ধামাহার গ্রামের কৃষক সাকাওয়াত হোসেন, বগিলাগাড়ী গ্রামের হাবিবুর রহমান, বেড়াবালা গ্রামের হারুন মাস্টার জানান, এবার সব ফল যেন একসঙ্গেই এসেছে। অন্যান্যবার প্রতিটি ফল কিছু সময় পরপর এলেও এবার আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, তরমুজ সবই এখন বাজারে। এটা বেশ ভালো। তাই বেশকিছু ফল কিনেছি।

আর আশা করি সামনে আরও সরবরাহ বাড়বে এবং তখন ফলের দাম আরও কমবে। উপজেলার পনের টিকা গ্রামের লিচু চাষী ও আমচাষী মোস্তাফিজার রহমান বাদশা ও আব্দুল গফুর জানান, এ বছর বৃষ্টি কম হওয়ার কারণে লিচুর ফলন বেশ ভাল হয়েছে, অপরদিকে এ বছর বৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি না হওয়ার কারণে আম জাম সহ বিভিন্ন ফল ঝড়ে পড়ে নষ্ট না হওয়ার কারণে উৎপাদন গত বছরের তুলনায় এ বছর উৎপাদন বৃদ্ধি হয়েছে।

চলমান করোনা পরিস্থিতির মুখে শেষ পর্যন্ত গাছ থেকে লিচু নিয়েই বাজারে আসছে ব্যাপারিরা। তবে শঙ্কা ভর করেছে তাদের মধ্যেও।

No comments

Leave a Reply

three × five =

সর্বশেষ সংবাদ