Menu

শেরপুরে ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে কিশোর-কিশোরীর বাল্য বিয়েঃ থানায় অভিযোগ 

বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ১৫ বছরের এক কিশোরের সাথে ১৪ বছরের কিশোরীর জোরপূর্বক বাল্য বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাল্যবিয়ের শিকার কিশোর কিশোরী শেরপুর উপজেলার শাহ্বন্দেগী ইউনিয়নের বাসিন্দা। তবে বিয়ের কার্য সম্পন্ন হয়েছে কিশোরীর নানার বাড়ি ভবানীপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে। ওই ওয়ার্ডের (৪নং) সংশ্লিষ্ট মেম্বর মো: সাইফুলের পরোক্ষ ইঙ্গিতে এই বাল্যবিয়ের ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ কিশোরের বাবা ও ভাইয়ের। ওয়ার্ডের সংশ্লিষ্ট মেম্বর এবং মেয়ের মা-বাবা সহ জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। নকল জন্মনিবন্ধন প্রস্তুত করে ৩লক্ষ টাকা দেন-মোহরানা ধার্যে জালিয়াতীর মাধ্যমে নোটারী পাবলিক কার্যালয়ের এফিডেভিট তৈরী করা হয়েছে, যা অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরের পরিবারের কেউই জানতে পারেননি। কিশোরীর মায়ের দাবি, আগে থেকেই ওদের সম্পর্ক ছিলো তাই বিয়ে দিয়ে আমার বাড়িতে রেখেছি, এখন ছেলেকে নিয়ে যেতে চাইলে আমার মেয়েকেও সাথে নিয়ে যেতে হবে। তবে কিশোরের বাবার ভাষ্য, ষরযন্ত্রমূলক ভাবে আমার নাবালক ছেলেকে বিয়ে নামক জালে ফাসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের উপর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান তিনি।এ ঘটনায় কিশোরের বাবা ফরিদউদ্দিন আকন্দ বাদি হয়ে শেরপুর থানায় ২১মার্চ সন্ধায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, গত ২১মার্চ উপজেলার শাহ্বন্দেগী ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের ফরিদউদ্দিন আকন্দর ছেলে মো: কাউছার ইসলাম (১৫) হঠাৎই বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায়। অনেক খোজা খুজির পর গত ৩০মার্চ সকালে খবর আসে একই এলাকার আব্দুল আজীজ ও চাম্পা বেগমের কিশোরী মেয়ে অন্তরা খাতুন (১৪) এর সাথে ভবানীপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে কিশোরীর নানার বাড়ি থেকে ওই কিশোর-কিশোরীর বিয়ে সম্পন্ন করে পুনরায় কিশোরী মেয়ের বাড়িতেই ছেলেকে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে এলাকার গন্য-মান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে ছেলেকে উদ্ধারের জন্য মেয়ের বাড়িতে গেলে মেয়ের মা জানান, ছেলেকে নিয়ে যেতে চাইলে কাবিনের ৩লক্ষ টাকা দিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এর পরে নিরুপায় হয়ে কিশোরের বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানা-পুলিশ ছেলেকে উদ্ধারের জন্য মেয়ের নানার বাড়ি গেলে সংশ্লিষ্ট মেম্বর উপস্থিত হয়ে ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই থানায় উপস্থিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুলিশকে ফেরত পাঠায়। পরেরদিন থানায় সবাই উপস্থিত হলেও ছেলে-মেয়েকে থানায় অনুপস্থিত রেখে দরবার সম্পন্ন করা হয়। কারণ, দরবারে নারী-শিশু আইন বিষয়ক জটিলতা থাকায় থানা-পুলিশ এ ঘটনায় উভয় পক্ষকে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি অথবা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার পরামর্শ দেয়া হয়।এ বিষয়ে ভবানীপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড মেম্বার মো: সাইফুল বলেন, আমি এলাকার মেম্বার হিসেবে আমাকে ডাকা হয়েছিলো তাই ওইদিন উপস্থিত হয়েছিলাম, এইটুকুই।তবে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: লিয়াকত আলী শেখ এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাননি বলে জানিয়েছেন এই প্রতিবেদককে, এবং অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।

No comments

Leave a Reply

1 + 8 =

সর্বশেষ সংবাদ