Menu

সারিয়াকান্দিতে ঈদ উপলক্ষে ব্যস্ততা বেড়েছে কামারদের

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (পাভেল মিয়া, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি): আর মাত্র ক’দিন পরই পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। আর এ ঈদকে সামনে রেখে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কামারদের ব্যস্ততা বেড়েছে। কোরবানির পশু কাটাকাটিতে চাই ধারালো দা, ছুরি ও বঁটি। সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে যেন দম ফেলার সময় নেই তাদের।
সারিয়াকান্দি উপজেলায় প্রায় অর্ধশত পরিবার কামার পেশায় যুক্ত। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লোহার আগুনের তাপ দিয়ে ও পিটিয়ে ধারালো অস্ত্র তৈরি করেন তারা।
সারিয়াকান্দি বাজার, কুতুবপুর , নারচী, হাটশেরপুর, ফুলবাড়ীসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দিনরাত কোরবানীর পশু জবাই ও কাটার বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি ও সান দিতে। কামারের দোকানগুলোতে দিনরাত টুং-টাং শব্দ। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, তাদের ব্যস্ততা ততই বেড়ে চলেছে।
সারিয়াকান্দি বাজারের কয়েকজন কামার জানান, সারা বছর অনেক কম কাজ থাকে। তবে সবচেয়ে বেশি কাজ হয় কোরবানির ঈদ কাছে আসলে। কারণ এই সময়ে পুরনো বটি, ছুরিতে শান দেন সবাই। আবার অনেকে নতুন করে বানিয়ে নেন।
তবে শ্রী বিমান কর্মকার জানান, পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো ও মাংস কাটার জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্চাম তৈরিতে তাদের ব্যস্ত থাকার কথা থাকলেও সাম্প্রতিক বন্যার প্রভাব পড়েছে তাদের কর্মকান্ডেও। প্রতিবছর সাত থেকে আট হাজার টাকা বিক্রি হতো। কিন্তু গতবারের তুলনায় এবার কাজ কম। এরপর এবার কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভও হচ্ছে না তাদের। তাই তাদের আয়ও কম হচ্ছে।
এদিকে প্রতিটি দা তৈরিতে প্রকারভেদে মজুরি নেওয়া হচ্ছে ১শ-৩শ টাকা পর্যন্ত। বটি তৈরিতে নেওয়া হচ্ছে ১শ’-২শ টাকা, চাকু তৈরিতে নেওয়া হচ্ছে ১০০ টাকা।বড় ছুরি তৈরিতে নিচ্ছেন ৩শ-৪শ টাকা করে।
কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য নতুন ছুরি ও হাসুয়া কিনতে সারিয়াকান্দিতে এসেছেন সোহান। তিনি বলেন, সারা বছর দা, ছুরি পড়ে থাকায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সামনে ঈদ তাই কামারের কাছে এসেছেন সেগুলো শান দিতে। তবে গতবারের তুলনায় এ বছর এসব জিনিসপত্রের দাম তুলনামূলকভাবে দাম বেশি।

No comments

Leave a Reply

5 × 5 =

সর্বশেষ সংবাদ