Menu

সারিয়াকান্দিতে কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা

পলাশ, সারিয়াকান্দি(বগুড়া)প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সারিয়াকান্দি পৌরসভা এলাকার সাহাপাড়া। শীতের এ সময়টায় এলাকার প্রায় ঘরের বাসিন্দারা এখন কুমড়োর বড়ি তৈরীতে ব্যস্ত। এখানকার অর্ধ শতাধিক পরিবার মৌসুমী এ আয় দিয়ে সংসার চালায়। সাহাপাড়ার মানুষদের এ ব্যস্ততা চলে ছয় মাস ধরে। শেষ রাত থেকে শুরু করে সারাদিন চলে এই ব্যস্ততা।
জানা গেছে, সারিয়াকান্দি পৌর এলাকার ৭ নং ওয়ার্ড স্থানীয়দের কাছে হিন্দুপাড়া হিসেবে পরিচিত। এ পাড়ার বেশিরভাগ অধিবাসী হিন্দু হওয়ায় সাহাপাড়া নামে এটি পরিচিত পৌর বাসীদের কাছে। এ পাড়ার অধিকাংশ মানুষের নেই কোন জমি-জমা। বিভিন্ন রকমের ক্ষুদ্র ব্যবসার সাথে জড়িত হয়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।
শীতকাল এলেই শুরু হয় কুমড়ো বড়ি তৈরির কাজ। কার্তিক মাস থেকে শুরু হয়ে চলে তা ফাল্গুন মাস পর্যন্ত। কারিগররা জানান, এই মৌসুমে কুমড়ো বড়ির চাহিদা বাড়ে। উপজেলার হাটে-বাজারে বিক্রি করা হয়ে থাকে এ কুমড়ো বড়ি। এছাড়াও অনেকেই অর্ডার দিয়ে তৈরি করে নেন আমাদের কাছ থেকে। তারা তা নেওয়ার পর পাঠান ঢাকা সহ স্বজনদের বাসা-বাড়ী। কেউ বা আবার পাঠান বাহিরের বিভিন্ন দেশে থাকা স্বজনদের কাছে।
সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল ৯টার মধ্যে শেষ হয়ে যায় কুমড়ো বড়ি তৈরির কাজ।  একজন মানুষ এভাবে তৈরি করতে পারেন ৫ থেকে ৬ কেজি পরিমাণ মাস কলাইয়ের কুমড়ো বড়ি। সন্ধাবেলা যাতাকলে প্রধান উপকরণ মাসকলাই ছেটে নেওয়ার পরেই পানিতে ভেজানো হয়। শেষ রাতের দিকে ভেজা মাসকলাই শিল-পাটায় বাটা হয়। তারপর সূর্যের আলো ফোটার সাথে সাথেই সাদা কাপড়ের উপর এক এক করে তৈরি করা হয় কুমড়ো বড়ি এবং তা দুই-তিন দিন রোদে শুকানো হয়।
সাহাপাড়া গ্রামের ডলি রাণী সাহা বলেন, আমার স্বামীর নাম ছিলো নিখিল চন্দ্র সাহা। তিনি মারা গেছেন চার বছর আগে। এক ছেলে দুই মেয়ে সংসারের ঘানী টানতে আমাকে এ কুমড়ো বড়ি তৈরি ব্যবসা বেছে নিতে হয়েছে। তৈরি করার পর পাইকাররা এসে বাড়ী থেকে এসে ক্রয় করে নিয়ে যায় এবং তারা তা হাটে-বাজারে বিক্রি করেন। তিনি বলেন, আতপ চালের আটা মিশ্রিত কুমড়ো বড়ি বর্তমানে দেড়শ টাকা কেজি আর ভেজাল মুক্ত কুমড়ো বড়ি প্রায় তিনশ টাকা কেজি দড়ে বিক্রি করা হয়। পাড়ায় প্রায় অর্ধ শতাধিক লোক জড়িত এ কুমড়ো বড়ি তৈরির কাজে।
গ্রামীন এই পেশার বিষয়ে পৌর মেয়র মতিউর রহমান মতির সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, তাদের জীবন-জীবিকা বড়ই সংগ্রামী। ছোট-খাট ব্যবসা করে তাদের দিন চলে যায়। কুমড়ো বড়ি তৈরির কাজে সরকারি কোন সহযোগিতা পেলে তা মানসম্মত তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে  বাণিজ্যিক ভাবে সরবরাহ করতে পারতো। সুযোগ পেলে আমার পক্ষ থেকে তাদের জন্য সহযোগীতা করা হবে।

No comments

Leave a Reply

two × one =

সর্বশেষ সংবাদ