Menu

সুখানপুকুরে ইজারা দেয়া জলমহল দখল বুঝে দিতে গিয়ে জেলেদের চাপের মুখে ব্যর্থ হয়ে ফিরল ভুমি অফিসের কর্তারা

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (বগুড়া প্রতিনিধি): বগুড়া গাবতলীর নিজ কাঁকড়া জলমহল সরকারীভাবে ইজারা দেয়ায় তা ইজারদারদের বুঝে দিতে গিয়ে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের জেলে (মাঝি) পরিবারের শত শত নারী-পুরুষের বাঁধার মুখে ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসেছে ভুমি অফিসের কর্মকর্তারা। এ ছাড়া ইজারাদাররা ও তার পক্ষে অনেক মানুষ ঘটনাস্থলে থাকলেও জেলেদের চাপের মুখে কথা বলতে পারেনি। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ উত্তেজনা বিরাজ করে। উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের নিজ কাঁকড়া জলাশয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। জলমহল ইজারা থেকে বঞ্চিত হওয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের জেলে (মাঝি) পরিবারের শত শত নারী-পুরুষ অভিযোগ করে বলেন, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় কৌশলে ৪১.৪৩একরের কাঁকড়া জলমহল ইজারা নেয়া হয়েছে। অথচ এই জলমহল কোন দিন ইজারা না হয়ে দেড় শতাধিক জেলে পরিবার মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এছাড়া আশে পাশের ৫/৭ গ্রামের হাজারো মানুষ এই জলাশয়ে উমুক্তভাবে মাছ ধরে। সম্প্রতি বগুড়া জেলা প্রশাসক কর্তৃক দরপত্র আহবানের মাধ্যমে সুখানপুকুর লাঠিগঞ্জ এলাকার রংধনু মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ এর নামে তিন বছরের জন্য ওই জলমহল ইজারা নেয়া হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় স্থানীয় নিজ কাঁকড়া গ্রামের জেলে ও তাদের পরিবারের লোকজন বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানাই এবং ইজারা বাতিল করার দাবী তোলেন। অপর দিকে নিজ কাঁকড়া জলমহল সরকারীভাবে ইজারা দেয়ায় তা ইজারদারদের বুঝে দিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে থেকে গাবতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) কে নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা ভূমি সার্ভেয়ার বাবুল আনছারী, স্থানীয় নেপালতলী ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আনিছুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নিজকাঁকড়া জলাশয় ইজারা গ্রহণকারী রংধনু মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ এর নিকট দখল বুঝে দিতে যান। এ সময় নিজ কাঁকড়া গ্রামের শতশত জেলে পরিবারের নারী-পুরুষ বাঁধা দিলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে নারী-পুরুষ মিলে ইজারা গ্রহণকারীদের নিয়ে যাওয়া লাল পতাকাযুক্ত বাঁশ-খুটি ও সাইনবোর্ড নিয়ে যায়। তখন ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা, উপজেলা ভূমি সার্ভেয়ারসহ অন্যান্যরা ব্যর্থ হয়ে ওখান থেকে ফিরে যান। এ ব্যাপারে উপজেলা ভূমি সার্ভেয়ার বাবুল আনছারী ও স্থানীয় নেপালতলী ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আনিছুর রহমানের সাথে কথা বললে তাঁরা জানান, জেলেদের বাঁধার মুখে আমরা ফিরে এসেছি আবারো উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। রংধনু মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ এর জেলেরা জানান, আমরা যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী ওই জলমহল ইজারা নিয়েছি, দখল করে দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। নিজ কাঁকড়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের জেলেরা (মাঝি) জানান, আমরা জান দেব তবুও জলমহল অন্যদেরকে দিতে দেব না। বিষয়টি প্রশাসনের খতিয়ে দেখে ইজারা বাতিল করে যথাযথভাবে ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবী করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের জেলেরা ছাড়াও এলাকারবাসি।

No comments

Leave a Reply

3 × 5 =

সর্বশেষ সংবাদ