Menu

সোনাতলার হলিদাবগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মাত্র ২ শতক জমির ওপর দাড়িয়ে আছে!

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (স্টাফ রিপোর্টার): বগুড়ার সোনাতলার ভেলুরপাড়াস্থ হলিদাবগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মাত্র ২ শতাংশ জমির ওপর টিকে আছে। স্কুল প্রতিষ্ঠার ৯৩ বছর পেরিয়ে গেলেও জমি জমা নিয়ে কোন সুরাহা হয়নি। এ দিকে ওই উপজেলার ১২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিদ্যালয়ের জায়গা জমির কাগজপত্র নেই। মুখে মুখে দানপত্র করা।
১৯২৬ সালে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের ভেলুরপাড়া এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় হলিদাবগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে জোতদার মহির উদ্দিন পন্ডিত ৬৬ শতাংশ জমি মৌখিক ভাবে দিয়ে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর দীর্ঘ ৯৩ বছর অতিবাহিত হলেও ওই জমির দলিল পত্র করে দেয়নি জমির মালিক পক্ষ। বর্তমানে ওই স্কুলে ১ম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছে ১০ জন। এদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ৭ জন মহিলা শিক্ষক রয়েছে।
বর্তমানে স্কুল কর্তৃপক্ষ ৬৬ শতাংশ জমি ভোগ করে আসছে। তবে দলিল পত্র রয়েছে মাত্র ২ শতাংশ। স্থানীয় জোতদার বংশের জনৈক গোলাম মোস্তফা বাউল মুকুল সেই ২ শতাংশ জমি স্কুলের নামে দান করেন। যার কাগজ পত্র রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ওই জোতদারদের বংশধরদের দাবি স্কুলটির নাম পরিবর্তন করে জোতদার কাছু প্রামানিকের নামে বিদ্যালয়টি নামকরণ করা হলে অবশিষ্ট ৬৪ শতক জমি তারা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের অনুকুলে দানপত্র করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ জমির প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ রাসেল মাহমুদ জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশিরভাগ স্কুলের জমির কোন দলিল পত্র নেই। সেই ধারাবাহিকতায় তাদের বিদ্যালয়ের ২ শতক জমির কাগজ পত্র ছাড়া কোন কাগজ পত্র নেই। তবে জমির মালিকরা জমি দলিল করে দিতে রাজি।
এ বিষয়ে জমির মালিকদের পক্ষ থেকে নুরুজ্জামান বাদল জানান, স্কুলটির নাম পরিবর্তন করে এলাকার বিখ্যাত প্রজা দরদী জোতদার কাছু প্রামানিকের নামে হলিদাবগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নামকরণ করা হলে তারা অবশিষ্ট ৬৪ শতাংশ জমি স্কুলের নামে দান করবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছাঃ ফেরদৌসি আরা জানান, জমির মালিকরা স্বেচ্ছায় স্কুলকে জমি দিতে রাজি হলে শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিতে কোন বাধা নেই। তবে নাম পরিবর্তনের বিষয়টি জটিলতা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই উপজেলার ১২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিদ্যালয়ে জায়গা জমির কাগজপত্র নেই।
উল্লেখ্য, স্কুল প্রতিষ্ঠার ৯৩ বছর অতিবাহিত হলেও বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার হলিদাবগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা জমি নিয়ে কোন সুরাহা হয়নি।

No comments

Leave a Reply

sixteen + sixteen =

সর্বশেষ সংবাদ