Menu

সোনাতলায় ইউপি নির্বাচনে আ’লীগের প্রার্থী তালিকা প্রেরণে আমন্ত্রণপত্র সোস্যাল মিডিয়ায়!

আব্দুর রাজ্জাক, সোনাতলাঃ আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেকে সামনে রেখে বর্ধিতসভার মাধ্যমে ইউপি নির্বাচনের প্রার্থীদের স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি মনোয়ন বোর্ড প্রার্থী তালিকা প্রেরণের লক্ষে আমন্ত্রণপত্র সোস্যাল মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে। আগামী ২৩ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত ৭টি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ইতিমধ্যে প্রত্যেকটি ইউনিয়নে দলীয় নেতাকর্মীদের বর্ধিত সভার আমন্ত্রণপত্র ১৯ সেপ্টেম্বর সোস্যাল মিডিয়াতে দেখা গেছে। প্রত্যেকটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের আমন্ত্রণে বর্ধিতসভার আয়োজনে ২৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মধুপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্তরে, একই দিন বিকাল ৩টায় সোনাতলা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চত্তরে,
২৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টায় তেকানী চুকাই নগর ইউনিয়নের ভিকুনেরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, একই দিনে বিকাল ৩টায় দিগদাইড় ইউনিয়নে মহিচরণ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, সন্ধ্যা ৭টায় বালুয়া ইউনিয়নে বালুয়াহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে এবং ২৫ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় পাকুল্লা ইউনিয়নে পাকুল্লা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, বিকাল ৩টায় জোড়গাছা ইউনিয়নে বয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ বর্ধিতসভা অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত বর্ধিত সভা গুলোতে উপস্থিত থাকবেন বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বগুড়া-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান।

ভোটের হাওয়া বইছে, নৌকার জন‍্য ছোটাছুটি করছে ইউনিয়ন নির্বাচনের প্রার্থীরা। নির্বাচনকে সামনে রেখে নবীন ও প্রবীন প্রার্থীরা সর্মন ও দোয়া চেয়ে ব‍্যনার, ফেস্টুন, পোস্টার লাগানোর হিরিক পরেছে। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ‍্যম গুলোতে শুভেচ্ছা বিজ্ঞাপ দিতে ব‍্যস্ত হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাড়া অন্যদের ভোটে তেমন কোন আগ্রহ নেই। নৌকা পেতে প্রতি ইউনিয়নে ৫ থেকে ডজন খানেক নেতার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে ইতিমধ্যেই নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশিরা দলীয় মনোনয়নে অর্ন্তরভুক্তির জন্য ৭টি ইউনিয়নে ৫৪জন আবেদন ফরম জমা দিয়েছেন। গত কয়েক বছরে নির্বাচনের অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে, তাতে অনেকের ধারনা নৌকা পেলেই জয় নিশ্চিত। এ কারণেই ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেতে এত তীব্র প্রতিযোগিতা। যে আওয়ামী লীগের টিকিট পাবে সে ভোট না পেলেও প্রশাসন তাকে জিতিয়ে দেবে- এমন একটি বদ্ধমূল ধারণা তৈরি হয়েছে একতরফা নির্বাচনগুলোর কারণে। কিন্তু সবার কপালে তো মনোনয়ন জুটবে না। এমন পেশিশক্তিধারী যদি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়, তাহলে দলের প্রার্থীর সঙ্গে সংঘাত অনিবার্য।
নির্দলীয় পদ্ধতিতে ইউপি নির্বাচন ভোটের চেয়েও বেশি ছিল গ্রামীণ উৎসব। রাজনীতির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেত গ্রাম, গোষ্ঠী ও আত্মীয়তার সমীকরণ। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন শুরুর পর তা পাল্টে গেছে। জাতীয় রাজনীতি ইস্যু হয়ে উঠেছে ভোটের নিয়ামক। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো কোণঠাসা থাকায় নির্বাচন একপেশে হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের আগ্রহও কম। একমাত্র জিজ্ঞাসা, কে পাচ্ছেন নৌকা প্রতীক? দলের মনোনয়ন না পেলে কে হবেন বিদ্রোহী?
নৌকা পেলে জয় নিশ্চিত- এমন ধারণায় ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেতে জোর লবিং চলছে। এলাকা ছেড়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী রাজধানী ও জেলা শহরে ছুটছেন দলের টিকিট পেতে
প্রতি ইউপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীর প্যানেল পাঠাতে তৃণমূলে চিঠি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। সেখান থেকে একজনকে বেছে নেবে দলটির মনোনয়ন বোর্ড। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি কঠোর নাও হতে পারে আওয়ামী লীগ। কেউ দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হলে তাকে আজীবন বহিস্কার করা হবে। তিনি ভবিষ্যতে আর মনোনয়নের জন্য বিবেচিত হবেন না।

No comments

Leave a Reply

18 + 16 =

সর্বশেষ সংবাদ