Menu

সোনাতলায় এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে অভিভাবকরা হতাশ

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (স্টাফ রিপোর্টার): বগুড়ার সোনাতলায় উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের কলেজগুলোতে কাঙ্খিত লেখাপড়া না হওয়ায় চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এতে করে অভিভাবকদের মধ্যে চরম হতাশা কাজ করছে। অপরদিকে কলেজগুলো দোষারোপ করছে শিক্ষার্থীরা ঠিকমত ক্লাস করে না। আর শিক্ষার্থীরা বলছে কলেজগুলোতে কাঙ্খিত ক্লাস হয়না। এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে উপজেলার মহেশপাড়া আব্দুল মান্নান বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ শীর্ষে রয়েছে।
গতকাল রোববার সরজমিনে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বিভিন্ন কলেজে খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, সোনাতলা সরকারি নাজির আকতার কলেজে ১টার পর কোন শিক্ষক থাকে না। ফলে ক্লাসও হয়না ঠিকমত। ওই কলেজে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে শিক্ষক নেই (ইংরেজী ও আইসিটি)। শিক্ষকরা আসেন ট্রেনে যায় ট্রেনে। একই চিত্র উপজেলার প্রায় সবকটি কলেজে। তবে সরকারি কলেজের তুলনায় বেসরকারি কলেজগুলোতে একটু জবাবদিহিতা থাকায় সরকারি কলেজের তুলনায় ক্লাস একটু বেশি হয়। তবে বেসরকারি কলেজগুলোতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার খুব কম।
এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীরা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে।
এ বিষয়ে ড. এনামুল হক কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মালেক জানান, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয় হওয়ার পিছনে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী উপস্থিতি হার খুব কম। বারবার শিক্ষার্থীদের সচেতন, ক্লাস পরীক্ষা ও অভিভাবক সমাবেশ করেও কোন ফল হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বালুয়াহাট ডিগ্রী কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষকরা ঠিকমত কলেজে আসেন না। এছাড়াও শিক্ষকরা ক্লাসের চেয়ে টিউশনি মুখী।
সৈয়দ আহম্মদ কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিজ্ঞান বিভাগে ভাল শিক্ষক না থাকায় তারা প্রাইভেট টিউশনির উপর নির্ভরশীল।
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সোনাতলা সরকারি নাজির আকতার কলেজ থেকে ৪৬৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৩০২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। সরকারী সোনাতলা মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজ থেকে ১৫৩ জন অংশ নিয়ে ১১৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, সোনাতলা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ থেকে ২৫৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৭১ জন ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে, ড. এনামুল হক কলেজ থেকে ২৫১ জন অংশ নিয়ে ১৫৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, বয়ড়া কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২২০ জন অংশ নিয়ে ২০২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ জন। বয়ড়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে ২৩২ জন অংশ নিয়ে ২১৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৮ জন। বালুয়াহাট ডিগ্রী কলেজ থেকে ১৯২ জন অংশ নিয়ে ৯৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।
অপরদিকে গাবতলী উপজেলার সুখানপুকুরস্থ সৈয়দ আহম্মদ কলেজ থেকে ৬৭৭ জন অংশ নিয়ে ৫১৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। একই কলেজের বিএম শাখা থেকে ১৮৮ জন অংশ নিয়ে ১৮৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২ জন। উল্লেখ্য, উত্তর বঙ্গের ঐতিহ্যবাহী বেসরকারি কলেজগুলোর মধ্যে অন্যতম সৈয়দ আহম্মদ কলেজের মানবিক বিভাগের মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ায় চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছে ওই কলেজের প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা।

No comments

Leave a Reply

six + thirteen =

সর্বশেষ সংবাদ

নির্বাচিত সংবাদ