Menu

সোনাতলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটু পানিঃ বছরে ৯ মাস থাকে স্যাঁত-স্যাঁতে অবস্থা

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (বদিউদ-জ্জামান মুকুল, সোনাতলা): বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় উত্তর গোসাইবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ থাকলেও সেটা এতটা নিচু যে, বছরের ১২ মাসের ৯ মাসেই থাকে বন্যা ও বৃষ্টির জমানো পানি।

ফলে ওই বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ স্যাঁত স্যাঁত অবস্থায় থাকায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বছরের বেশিরভাগ সময় পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়া, আমাশয় সহ পেটের রোগে ভোগে। এমনকি সমাবেশ সহ খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।

১৯৭৪ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী সরোয়ার জাহান টুকু সহ এলাকার গন্য মান্য ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠা করা হয় গোসাইবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরবর্তীতে স্কুলটি বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে ২০১৭ সালে স্কুলটি জাতীয়করণ হয়।

প্রথমে হাতে গোনা শিক্ষার্থী নিয়ে পদযাত্রা শুরু করলেও প্রতিবছর শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হওয়ায় এবং লেখাপড়ার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থী বাড়তে থাকে।

ওই বিদ্যালয়ে একটি বিশাল খেলার মাঠ থাকলেও মাঠটি এতটা নিচু যে বছরের বেশিরভাগ সময় খেলার মাঠে বন্যা ও বৃষ্টির জমানো পানি স্কুল মাঠে জমাট বেঁধে থাকে। এছাড়াও খেলার মাঠটি স্যাঁত-স্যাঁতে অবস্থা থাকে বছরের বেশিরভাগ সময়। এ অবস্থায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত সমাবেশ ও খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

স্থানীয় লোকজন জানান, বিদ্যালয়ের আশপাশে ঝোপ ঝাড় ও খেলার মাঠে পানি থাকায় খেলাধুলা থেকে তারা বঞ্চিত হতে হয় শিক্ষার্থীদের। পাশাপাশি শিক্ষার জন্য আশপাশের পরিবেশ স্বাস্থ্য সম্মত নয়।

ওই বিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী জানান, খেলার মাঠে পানি জমে থাকায় পানির মধ্যে দিয়ে শ্রেণী কক্ষে যাওয়া আসা করায় হাত পা চুলকায় এবং চর্মরোগে আক্রান্ত হতে হয়। ওই এলাকার শতকরা ৮৫ ভাগ মানুষ সরাসরি কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত। প্রকৃতির সাথে লড়াই সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয় তাদের। তাই ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার প্রতি অভিভাবকদের আগ্রহ নেই বললেই চলে।

এ বিষয়ে অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম হান্নু জানান, বছরের বেশিরভাগ সময় খেলার মাঠে পানি জমাট বেঁধে থাকায় শিক্ষার্থীরা বিনোদন থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিন জানান, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে মাটি ভরাটের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রবীন্দ্র নাথ সাহা জানান, ওই বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি নিচু হওয়ায় খেলার মাঠে পানি আটকে থাকে। খেলার মাঠে মাটি ভরাটের দায়িত্ব আমাদের নয়।

No comments

Leave a Reply

15 + 2 =

সর্বশেষ সংবাদ