Menu

সোনাতলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ৯ মাসেই থাকে পানি, ৩ মাস স্যাঁত-স্যাঁতে অবস্থা!

সোনাতলা সংবাদ ডটকম (বদিউদ-জ্জামান মুকুল সোনাতলা): বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় উত্তর গোসাইবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ থাকলেও সেটা এতটা নিচু যে, বছরের ১২ মাসের ৯ মাসেই থাকে বন্যার আটকানো পানি। ৩ মাস স্যাঁত-স্যাঁতে অবস্থা। ফলে ওই বিদ্যালয়ের ২৪০ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী বছরের বেশিরভাগ সময় পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়া, আমাশয় সহ পেটের রোগে ভোগে। এমনকি সমাবেশ সহ খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে এখনও কোমড় পানি থাকায় খেলার দোলনা বসানো হয়েছে পার্শ্ববর্তী পুকুর পাড়ে। সেই দোলনায় শিশুদের পরিবর্তে দোল খাচ্ছে গবাদি পশুপাখি।

১৯৭৪ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী সরোয়ার জাহান টুকু সহ এলাকার গন্য মান্য ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠা করা হয় গোসাইবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরবর্তীতে স্কুলটি বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে ২০১৭ সালে স্কুলটি জাতীয়করণ হয়। প্রথমে হাতে গোনা শিক্ষার্থী নিয়ে পদযাত্রা শুরু করলেও প্রতিবছর শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হওয়ায় এবং লেখাপড়ার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থী বাড়তে থাকে। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মরত। বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণীতে ১৯ জন, ১ম শ্রেণীতে ১৭ জন, ২য় শ্রেণীতে ২৬ জন, ৩য় শ্রেণীতে ২২ জন, ৪র্থ শ্রেণীতে ৩৬ জন ও ৫ম শ্রেণীতে ২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

ওই বিদ্যালয়ে একটি বিশাল খেলার মাঠ থাকলেও মাঠটি এতটা নিচু যে বছরের বেশিরভাগ সময় খেলার মাঠে বন্যার আটকানো পানি স্কুল মাঠে আটকা থাকে। এছাড়াও ২/৩ মাস খেলার মাঠটি স্যাঁত-স্যাঁতে অবস্থা থাকে। এমনটি অবস্থায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত সমাবেশ ও খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সম্প্রতি ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য একটি দোলনা খেলার মাঠে বসানোর কথা থাকলেও সেটি বসানো হয়েছে পার্শ্ববর্তী পুকুর পাড়ে। ফলে শিক্ষার্থীদের দোল খাওয়ার পরিবর্তে গবাদি পশু ছাগল, ভেড়া, হাঁস মুরগী দোল খাচ্ছে। এছাড়াও খেলার মাঠটি ও আশপাশের পরিবেশ নোংরা এবং ময়লা আবর্জনায় পরিপূর্ণ থাকায় শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশে বসবাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি খেলার মাঠটি স্যাঁত স্যাঁতে অবস্থা থাকায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাশয়, ডায়রিয়া সহ পেটের রোগে ভোগে।

গতকাল সোমবার ওই বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শাফিউল ইসলাম জানায়, বিদ্যালয়ের আশপাশে ঝোপ ঝাড় ও খেলার মাঠে পানি থাকায় খেলাধুলা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার জন্য আশপাশের পরিবেশ স্বাস্থ্য সম্মত নয়।

শিক্ষার্থী ইশা মনি, আশিকুর রহমান, রায়হান মিয়া ও মাইশা খাতুন জানায়, আটকানো পানির মধ্যে দিয়ে শ্রেণী কক্ষে যাওয়া আসা করায় হাত পা চুলকায় এবং চর্মরোগে আক্রান্ত হয়। ওই এলাকার শতকরা ৮৫ ভাগ মানুষ সরাসরি কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত। প্রকৃতির সাথে লড়াই সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয় তাদের। তাই ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার প্রতি অভিভাবকদের আগ্রহ নেই বললেই চলে। সম্প্রতি চলতি বছরের বন্যায় ওই বিদ্যালয় প্রায় মাসাধিকাল পাঠদান বন্ধ থাকে। গতকাল সোমবার স্কুল সংলগ্ন মসজিদের মাইকে মাইকিং করে শিক্ষার্থী উপস্থিতি বাড়ায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ওই বিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী দূর্বল ও পুষ্টিহীনতা ভুগছে।

এ বিষয়ে অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম হান্নু জানান, বছরের বেশিরভাগ সময় খেলার মাঠে পানি জমাট বেঁধে থাকায় শিক্ষার্থীরা বিনোদন থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিন জানান, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে মাটি ভরাটের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফেরদৌসি আরা জানান, ইতিমধ্যেই ওই বিদ্যালয় সংস্কার করার জন্য দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

No comments

Leave a Reply

two × four =

সর্বশেষ সংবাদ