Menu

সোনাতলায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে শতাধিক ভিক্ষুক এখন স্বাবলম্বী

সোনাতলা সংবাদ ডটকমস (স্টাফ রিপোর্টার): শেখ হাসিনা সরকার দেশকে ভিক্ষুক মুক্ত করতে ভিক্ষুক পুর্নবাসন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সেই প্রকল্পের আওতায় বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার প্রায় শতাধিক ভিক্ষুক এখন ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিয়েছে। নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখেই রয়েছে তারা।
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রায় ৫ শতাধিক ভিক্ষুক রয়েছে। এর মধ্যে সোনাতলা সদর ইউনিয়নে ৪০ জন, বালুয়া ইউনিয়নে ৩৫ জন, দিগদাইড় ইউনিয়নে ৮০ জন, জোড়গাছা ইউনিয়নে ৮৯ জন, মধুপুর ইউনিয়নে ১৬৪ জন, তেকানী ইউনিয়নে ১১৯ জন, পাকুল্লা ইউনিয়নে ২৬ জন এবং সোনাতলা পৌরসভায় প্রায় দেড় শতাধিক ভিক্ষুক রয়েছে।
বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার ২০১৮ সালে এসব ভিক্ষুকদের পূর্নবাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সে মোতাবেক বগুড়ার সোনাতলায় সবকটি ইউনিয়নে প্রায় ৫ শতাধিক ভিক্ষুকের তালিকা প্রনয়ন করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ।
এসব ভিক্ষুকদের মধ্যে ১৫ জন ভিক্ষুককে দোকান ও ভ্যান গাড়ি ক্রয় করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। এছাড়াও ৯২ জন ভিক্ষুককে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় এনে সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়েছে।
গতকাল রোববার সরজমিনে উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের সোনাকানিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল বাছেদ প্রামানিকের পুত্র শারীরিক প্রতিবন্ধী আবুল কাশেম (৬২) এর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তার বসতবাড়ির মাত্র ৩ শতক জমি ছাড়া তার কোন ফসলী জায়গা জমি নেই। এক সময় ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালাতে হতো। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের সহযোগিতার পাশাপাশি স্থানীয় বয়ড়া কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহেদ ও ভেলুরপাড়া ড. এনামুল হক কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মালেকের আর্থিক সহযোগিতায় একটি দোকান পেয়ে তিনি বেজায় খুশি। প্রতিদিন দোকানে বেচা বিক্রি করে লাভের অংশ থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে বেশ ভালই কাটছে তার দিন।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের সুজাইতপুর গ্রামের টুকু বেপারী (৫৫), ছলেমন বেওয়া (৬০), চরপাড়া এলাকার নান্টু শেখ (৫৫), দিগদাইড় ইউনিয়নের কলসদহ পাড়া গ্রামের নূরজাহান বেগম (৬০), পশ্চিম তেকানী এলাকার অন্ন রানী (৬৫), মিলনের পাড়া এলাকার শিমুলী বেগম (৫৫), আচারের পাড়া এলাকার সুফিয়া বেওয়া (৬০) জানান, উপজেলা প্রশাসন থেকে তাদেরকে ভ্যান গাড়ি ও দোকান করে দেয়া হয়েছে। এতে করে তারা ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিয়েছে। ব্যবসা বাণিজ্য করে ভালই চলছে তাদের সংসার। পরিবার পরিজন নিয়ে সুখেই দিনাতিপাত করছে এসব ভিক্ষুক পরিবারের লোকজন। তারা আরও জানান, বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার প্রধান শেখ হাসিনার এটি একটি মহৎ উদ্যোগ। বেঁচে থাক তিনি, দীর্ঘজীবি হউক তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শফিকুর আলম জানান, বর্তমান সরকার ভিক্ষুক মুক্ত করণের লক্ষ্যে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীকে পুর্নবাসন করতে বিগত ২০১৮ সালে ভিক্ষুকদের একটি তালিকা প্রনয়ন করা হয়। এরপর ৯২ জন ভিক্ষুককে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও আরও ১৫ জন ভিক্ষুককে স্বাবলম্বী করতে দোকান ও ভ্যান গাড়ি ক্রয় করে দেয়া হয়েছে। এখন আর তারা ভিক্ষাবৃত্তি করে না। ওরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে।

No comments

Leave a Reply

12 + eighteen =

সর্বশেষ সংবাদ

নির্বাচিত সংবাদ