Menu

সোনাতলায় কৃষক বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমন চাষে ব্যস্ত

বদিউদ-জ্জামান মুকুল সোনাতলা (বগুড়া) থেকেঃ বগুড়ার সোনাতলায় কৃষকেরা বন্যার ক্ষতি কাটিতে উঠতে ঘুরে দাঁড়াতে প্রকৃতির পানির অপেক্ষায় না থেকে শ্যালো কিংবা গভীর নলকুপ দিয়ে সেচের মাধ্যমে আমন ধান রোপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। চারা সংকট থাকার পরেও এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আমন ধান রোপনের প্রস্তুুতি চলছে কৃষকদের।
বগুড়া জেলার সর্ব উত্তরে জেলা সদর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে সোনাতলা উপজেলার অবস্থান। যমুনা ও বাঙালী নদী ওই উপজেলাকে ঘিরে রেখেছে। প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সাথে লড়াই সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয় ওই উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার মানুষকে। ওই উপজেলার প্রায় ৮৫ ভাগ মানুষ কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। কৃষি কাজ করে যাদের অধিকাংশ পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার নামের ঘানি টেনে চলছেন।
এবারের ভয়াবহ বন্যায় বর্ষালী ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্ষার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ওই উপজেলার কৃষকেরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তারা আবার কোমর বেঁধে আমন ধান রোপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
গতকাল সরজমিনে উপজেলার বালুয়াহাট, কর্পূর, মহিচরণ, ভেলুরপাড়া, সৈয়দ আহম্মদ কলেজ ষ্টেশন, চরপাড়া, করমজা, ঠাকুৃরপাড়া, গোসাইবাড়ী, কোড়াডাঙ্গা, পোড়াপাইকর, উত্তর করমজা, হরিখালী, হাঁসরাজ, মধুপুর, হুয়াকুয়া, পাকুল্লা, শ্যামপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রকৃতির পানির অপেক্ষায় না থেকে ওই এলাকাগুলোর কৃষকেরা ঘরে বসে নেই। তারা জমিতে শ্যালো মেশিন বসিয়ে পানি সেচের মাধ্যমে আমন ধান রোপন করছে। প্রতিবিঘা জমি ১২শ’ থেকে ১৪শ’ টাকায় পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করছে। আবার শ্যালো মেশিন কিংবা গভীর নলকুপ মালিকদের প্রতিবিঘা ৮শ থেকে হাজার টাকায় সেচ ও ২ হাজার থেকে ২২শ টাকা বিঘায় ধান রোপন করছে। এছাড়াও বন্যার পানি কমার সাথে সাথে ওই উপজেলার ২টি ইউনিয়নের ৬টি চরের বাসিন্দারা গাঞ্জিয়া ধান রোপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। আবার কিছু কিছু এলাকায় দ্বিগুণ মজুরী দিয়ে শ্রমিক সংগ্রহ করে ধান রোপন করা হচ্ছে।
অপরদিকে বন্যায় ধানের বীজতলার ক্ষতি হওয়ায় ধানের চারার সংকট লক্ষ করা গেছে। উপজেলার বিভিন্ন হাটে বাজারে ধানের চারা প্রতিপন ৫শ থেকে ৬শ টাকায় বেচা বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে হাটকরমজা এলাকার আব্দুল করিম মাষ্টার, তেকানী এলাকার জাহিদুল ইসলাম, বালুয়াহাট এলাকার আব্দুল আজিজ মন্ডল, কর্পূর এলাকার ইব্রাহিম মিয়া, মহিচরণ এলাকার ইব্রাহিম খলিল জানান, অল্প সময়ে এবং অল্প খরচে এই ধানটি ঘরে তোলা সম্ভব। ফলনও হয় বেশ ভালো। উৎপাদন খরচ কম, লাভ বেশি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ আহমেদ জানান, বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার প্রায় ৮৫ ভাগ মানুষ সরাসরি কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত। চলতি বছর ওই উপজেলায় সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭০ ভাগ ধান রোপন করা হয়েছে। বন্যার পর জমিতে পলি জমায় ওই ধানের জমিগুলোতে রাসায়নিক সারের তেমন প্রয়োজন হয় না। ধান রোপনের ১৩০ থেকে ১৪০ দিনের মাথায় কৃষক ধান কর্তন করতে পারে। এই ধান প্রতি বিঘা জমিতে ১৮ থেকে ২২ মণ ধান উৎপন্ন হয়।

No comments

Leave a Reply

14 + 18 =

সর্বশেষ সংবাদ